বাংলাদেশের ইসলামী শক্তিসমূহ




বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে নিয়োচিত প্রতিষ্ঠান ও জামায়াতগুলোর তালিকা নিম্নরূপ :

১। মাদরাসা (ফোরকানিয়া, হাফিযিয়া, আলীয়া ও কওমী)

২। মসজিদ

৩। পীর-মুরীদী বা খানকাহ

৪। ওয়ায-নসিহত ও দারসে কোরআন

৫। ইসলামী সাহিত্য রচনা ও প্রকাশ

৬। তাবলীগ জামায়াত

৭। জামায়াতে ইসলামী

৮। ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহ

স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠান

১০। ছাত্র ও ছাত্রীদের ইসলামী সংগঠন।

আমাদের দেশে এসবের মাধ্যমে দ্বীনের যে খেদমত হচ্ছে সে সম্বন্ধে অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে পেশ করা হচ্ছে যাতে এ সব মহান খেদমতের গুরুত্ব অনুভব করা সহজ হয়।

মাদরাসা

ফোরকানিয়া, হাফেযিয়া, কওমী ও আলীয়া)

দ্বীনী খেদমতের মধ্যে সর্ব প্রথমেই মাদরাসার স্থান। কারণ এ মাদরাসাগুলোই দ্বীন-ইসলামের আসল ভিত্তি-কোরআন ও হাদীসকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ইংরেজ শাসকরা মুসলমানদের নিকট থেকে রাজ্য কেড়ে নিয়ে যখন এ দেশ থেকে ইসলামকে খতম করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল তখন গরীব মুসলমানদের সাহায্য ও দান নিয়ে ওলামাগণ যেভাবে মাদরাসা কায়েমের আন্দোলন করেছিলেন, সে ইতিহাস যারা জানেনা তারা মাদরাসার গুরুত্ব কি করে বুঝবে? সে ইতিহাস জানার সাথে সাথে মাদরাসাগুলো জাতিকে কি দিয়েছে সে কথা প্রতিটি মুসলমানের জানা কর্তব্য।

(ক) ফোরকানিয়া মাদরাসা : ফোরকানিয়া মাদরাসার দরুনই দেশের অশিক্ষিত মুসলমানদের বিরাট অংশ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত ও নামায-রোযা শিখতে পেরেছে। দেশের সরকার যাদেরকে মাতৃভাষায় নিজের নামটুকু পর্যন্ত দস্তখত করা শেখাতে পারেনি তাদেরকে ফোরকানিয়া মাদরাসা আরবী ভাষার কোরআন শিক্ষা দিয়ে যে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে তা কে অস্বীকার করতে পারে? কোরআনের সাথে এটুকু সম্পর্কই জনগণের অন্তরে ঈমানের আলো জ্বালিয়ে রেখেছে।

(খ) হাফিযিয়া মাদরাসা : এ দেশে যে হারে হাফেয তৈরি হচ্ছেন আরব দেশগুলোতেও এত সংখ্যায় হাফেয পয়দা হচ্ছেন না। কোরআন মজীদের হেফাযতের এ বিরাট খেদমতের ফলে প্রতি রমযানে তারাবীহর মধ্যে সবাই অল্প সময়ে গোটা কোরআন শোনার মহা সৌভাগ্য লাভ করেছেন। ২০ রাকাত তারাবীহ পড়া কোরআনের লোভেই সহজ হয়েছে। খতমে তারাবীহ রমযানকে এক পবিত্র উৎসবে পরিণত করেছে।

(গ) কওমী বা খারেজী মাদরাসা : সরকারী কোন সাহায্য না নিয়ে শুধু মুসলমান জনসাধারণের নৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতায় যারা কওমী মাদরাসাগুলো চালাচ্ছেন তারা যে কি কষ্ট করে দ্বীনের এতবড় খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যেরা বুঝতে অক্ষম। এসব মাদরাসায় যে ওলামা বিশেষ করে মুহাদ্দিস ও মুফাসসির তৈরি হচ্ছেন, তাঁরা দেশের গৌরব এবং দ্বীনের মহান খাদেম। এ মাদরাসাগুলো না থাকলে মুসলমানদে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলামের প্রয়োজনয় মাসলা-মাসায়েল শিক্ষার কি উপায় ছিল?

(ঘ) আলীয়া মাদ্রাসা : সরকারী অনমোদনে চললেও আলীয়া মাদরাসাগুলোও প্রধানত: মুসলমানদে সাহায্যেই গড়ে উঠেছে। স্কুল-কলেজকে যে হারে সরকার টাকা দেন, সে তুলনায় এসব মাদরাসা সামান্যই পেয়ে থাকে। এসব মাদরাসায় পড়া ছাত্রদের এক বিরাট অংশ আজ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রী নেবার উছিলায় ভর্তি না হলে আধুনিক শিক্ষালাভে নিয়োজিত ছাত্র সমাজ ইসলামের আলো থেকে একেবারেই বঞ্চিত থাকত। ফাযেল ও টাইটেল পাশ ছেলেরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী দাওয়াত ও তাবলীগের যে কি বিরাট খেদমত করেছে তা অনেকেই হয়ত জানেন না। এদেরই একাংশ সরকারী অফিসে চাকুরীরত আছে বলে সেখানেও দ্বীনের আলো জ্বলে।

কওমী ও আলীয় মাদরাসাগুলো যদি ওলামাদের বিরাট বাহিনী পয়দা না করতো তাহলে দেশের লাখো লাখো মসজিদ কোথা থেকে ইমমা সংগ্রহ করতো? প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের আরবী ও ইসলামিয়াতের শিক্ষক কোথায় পাওয়া যেত? দেশের জনপ্রিয় বড় বড় ওয়ায়েজ, ইসলামী সাহিত্যিক ও আরবী থেকে বাংলায় ইসলামী কিতাবের অনুবাদক পাওয়া কি এসব মাদরাসা না থাকলে সম্ভবপর হতো? এ সংক্ষিপ্ত আলাচনায় মাদরাসার খেদমতের পূর্ণ আলোচনা অসম্ভব। শুধু মাদ্রাসার গুরুত্ব প্রমাণ করার প্রয়োজনে কিছু পয়েন্ট পেশ করা হলো। প্রকৃত পক্ষে ওলামাগণই যে জাতির নৈতিক শিক্ষক সে কথা অনুধাবন করলে মাদরাসার গুরুত্ব সহজেই বুঝা যাবে।

দ্বীনের ইলমই নতুবয়তের উত্তরাধিকার। তাই রাসূলুল্লাহ (সা) আলেমগণকে নবীদের ওয়ারিশ বলে ঘোষণা করে দ্বীনী ইলমের এত বড় মর্যাদা দিয়েছেন। কওমী ও আলীয়া মাদরাসাগুলো না থাকলে কোরআন ও হাদীসের আকারে অহীর মারফতে রাসূল (সা) এর নিকট আল্লাহ পাকের প্রেরিত জ্ঞানের মহা ভান্ডারের এমন চমৎকার হেফাযত কিছুতেই সম্ভব হতো না।

মসজিদ

মসজিদ তৈরি করা, নামাযীদের খেদমতের যাবতীয় সুব্যবস্থা করা এবং ইমাম মুয়য্‌যিনের এন্তজাম করা কোন এলাকার ‍মুসলমানদের যে কত বড় দ্বীনী খেদমত তা সবই উপলব্ধি করেন না। মুসলমানদের যে মহল্লায় মসজিদ নেই সে মহল্লায় ইসলামী জীবন ধারার কোন চিহ্নই নেই। তাই সরকারীভাবে কোন আবাসিক এলাকা সৃষ্টি করা হলে তাতে স্কুল, সিনেমা, পার্ক ইত্যাদির সাথে মসজিদের কোন পরিকল্পনা না থাকলেও ঐ এলাকার কিছু সংখ্যক মুসলমানের উদ্যোগে সেখানে যখন মসজিদ গড়ে ওঠে তখনি তা মুসলমানদের মহল্লা বলে বুঝা যায়। ‍মুসলমানদের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে মসজিদের মর্যাদা বহাল করা হলে এর বিরাট খেদমতের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশে মসজিদ মিশন, মসজিদ সমাজ ও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদের “বাইতুশ শরফ মসজিদ” জাতীয় প্রতিষ্ঠান মুসলিম সমাজে মসজিদের সত্যিকার মর্যাদা বহাল করার জন্য চমৎকার কর্মসূচী প্রণীয় করেছে। যে পরিমাণে এ সবের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে সে পরিমাণেই মসজিদ জনসাধারণের নিকট আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সাধারণত মসজিদে নামাযের ঘর হিসেবেই পরিচিত। বড় জোর মসজিদকে ফোরকানিয়া মাদরাসা হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। যেখানে মসজিদ সংলগ্ন কওমী মাদরাসা আছে সেখানে অবশ্য মসজিওদ ইসলামী শিক্ষাগার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মসজিদকে মুসলিম জাতির প্রধান সামাজিক ও তামুদ্দনিক মর্যাদায় উন্নীত করা উচিত। এভাবেই মসজিদ থেকে ইসলামের সঠিক খেদমত পাওয়া যেতে পারে।

পীরের খানকাহ বা পীর-মুরীদী ব্যবস্থা

জনসাধারণকে ইসলামী জীবন যাপন শিক্ষাদান, তাদের মধ্যে আল্লাহ ও রাসূলের মহব্বত পয়দা করা এবং দুনিয়ার মুয়ামালাতে কোরআন-হাদীস মোতাবেক তাদেরকে পরিচালনা করা ইত্যাদি বড় বড় খেদমতের উদ্দেশ্যেই পীর-মুরীদী ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। মুসলিম জনতার দ্বীনী প্রয়োজনেই এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় যে দ্বীনী শিক্ষার অভাবে সুযোগে এবং সমাজে পীরের প্রতি ভক্তি প্রচলিত থাকায় বহু লোক পীরের কোন যোগ্যতা ছাড়াই পীর মুরশীদীর মতো মহান ব্যবস্থাটিকে নিছক পার্থিব ব্যবসা বানিয়ে জনগণের ঈমান নষ্ট করার কাজ করে যাচ্ছে। একটি সহজ উদাহরণ থেকে সমস্যাটা ভালোভাবে বোঝা যাবে। আমাদের দেশে খুব কম লোকই পাশ করা ভাল ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাবার ক্ষমতা রাখে বা সুযোগ পায়। কিন্তু রোগ হলে সবাই চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করবেই। তাই দেশে এত হাতুড়ে ডাক্তারের ব্যবস্থা চলছে। তারা ডাক্তারী বিদ্যা জানে না। বাজারে চাহিদা থাকার কারণেই তাদের ব্যবসা চলে এবং লোকদের পয়সা নিয়ে তাদেরকে মরণের পথে এগিয়ে দেয়। ঠিক তেমনি এক শ্রেণীর ভন্ড পীর মানুষের হেদায়াত ও আখিরাতের মুক্তির চাহিদার ফলে তাদের হীন ব্যবসা চালাতে সক্ষম হয়।

হাতুড়ে ডাক্তার আছে বলেই যেমন চিকিৎসা ব্যবস্থাটাই খারাপ বলা চলে না, তেমনি ভন্ড পীর আছে বলেই পীড়-মুরীদী ব্যবস্থাটাকেই মন্দ বলা অন্যায়। মূল্যবান জিনিসেরই নকল বের হয়। বাজারে যে মালের চাহিদা নেই সে মালের নকল কেউই বের করে না। তাই আসল ও নকল পীরের পার্থক্য না জেনে সকল পীরকেই মন্দ মনে করা মস্ত বড় পাপ।

মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রঃ), মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ) এবং মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রঃ) এর মতো মহান খাদেমে দ্বীন কি পীর ছিলেন না?

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ)-এর রচিত ‘কাসদুল সাবীল’ পুস্তিকাটি মাওলানা শামুল হক ফরিদপুরী (রঃ) খাঁটি পীর চিনাবার উদ্দেশ্যেই বাংলায় তরজমা করেছিলেন। খাঁটি পীর যেমন ঈমান, ইলম ও আমলের শিক্ষক, বেআলেম ব্যবস্যায়ী পীর তেমনি ঈমানের ডাকাত।

ওয়ায-নসিহত

আমাদের দেশে ওয়াযের মাহফিলের ব্যবস্থা করে ভাল আলেম, রক্তগণকে দাওয়াত দিয়ে এনে ইসলামী জ্ঞান বিতরণ ও ঈমানী চেতনা সৃষ্টির যে রেওয়াজ আছে তা বহু দেশে বিরল। লাখে লাখো লোকের সমাবেশে সীরাতুন্নবী উপলক্ষে বা ওয়ায-নসীহতরূপে যোগ্য আলেমগণের আকর্ষণীয় বক্তৃতার যে বিরটর প্রভাব তা এ দেশের সরকারকেও আতংকিত করতে দেখা গেছে। জনগণের মধ্যে ইসলামী জোশ ও দ্বীনের জন্য কোরবানীর জযবা পয়দা করার ব্যাপারে ওয়াযের অবদান অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।

লক্ষ লক্ষ মুসলমান ওয়াযের মাহফিলে এসে দ্বীনের বহু কথা শুনতে পান। ওয়ায়েযগণের মধ্যে যারা কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা জনগণের মধ্যে বিতরণের দিকে বিশেষ আগ্রহী তারা যদি ওয়াযের সাথে সাথে শ্রোতাদের ইসলামের বুনিয়াদী ইলম হাসিল করার জন্য মাতৃভাষায় প্রকাশিত বই-পুস্তক পড়া নিজ নিজ এলাকার মসজিদে ইসলামী বই রাখা ও পড়ার জন্য তাগিদ দেন এবং মসজিদে সাপ্তাহিক আলোচনা বৈঠকের মাধ্যমে দ্বীনের তাবলীগকে ব্যাপক করার নসীহ করেন তাহলে ইসলামের বিরাট খেদমত হতে পারে। শুধু ওয়ায করে চলে আসলে গোটা ওয়ায আওয়াজেই পর্যসিত হয়। তাই দ্বীনী কাজের প্রোগ্রাম না দিলে প্রকৃত ও স্থায়ী ফায়দা হয় না।

ইসলামী কিতাবাদি রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা

কোরআন পাক ও হাদীস শরীফের প্রকাশনা, এর তরজমা ও অনুবাদ, বিশ্বের অতীত ও বর্তমান ইসলামী চিন্তাবিদদের সাহিত্য অনুবাদ, ইসলামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গবেষণামূলক বই রচনা ও প্রকাশনা এমন বিরাট ইসলামী খেদমত যে শিক্ষিত লোক মাত্রই এর গুরুত্ব অনুভব করবেন। ‍উর্দু ভাষায় গত দু’শ বছরের এত বিপুল ইসলামী সাহ্যি সৃষ্টি হওয়ার ফলেই পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানের শিক্ষিত লোকদের মধ্যে যারা নামায-রোযাও ঠিকমত করে না তাদেরও ইসলাম সম্বন্ধে জ্ঞান যথেষ্ট আছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় এ সাহিত্যর অভাবেই অনেক দ্বীনদার শিক্ষিত লোকও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা সামান্যই জানেন। পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্য রচনা ও অনুবাদের যে প্রচেষ্টা শুরু হয় তা এখনও অব্যাহত আছে- এটা খুবই খুশীর বিষয়। বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই বেশ সন্তোষজনকভাবে আলেমদের মধ্যে সাহিত্যিকের সংখ্যা ও মান বৃদ্দি পাচ্ছে। এরই ফলে ইসলামী আদর্শের পত্রিকাদিও বাড়ছে।

তাবলীগ জামায়াত

এ জামায়াত ৬টি উসুলের ভিত্তিতে মুসলমানদের ব্যক্তিজীবন গড়ে তুলবার এক ব্যাপক আন্দোলন চালাচ্ছেন। তাবলীগ জামায়াত সার দুনিয়ায়ই কর্মতৎর। মুসলিম সমাজ দুনিয়ার আকর্ষণে আখিরাতকে ভুলে কালেমা বাইয়্যেবার জীন্দেগী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদেরকে আখিরাতমুখী করার বিরাট খেদমত এ জামায়াত আঞ্জাম দিচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে এ জামায়াত মুসলমানদের সংসার জীবন থেকে আলাদা হয়ে ৪০ দিন (একচিল্লা) বা ৪ মাস (তিন চিল্লা) সময় জামায়াতের সাথে কাটিয়ে মন-মগজকে দ্বীন ও আখিরাতমুখী বানাবার দাওয়াত দেয়। জনসাধারণের মধ্যে যারা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ তারা এ জামায়াত দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। কালেমা শুদ্ধ করে পড়া ও এর অর্থ বুঝা, নামাযকে সুন্দর করা, দ্বীনের জরুরী ইলম হাছিল করা ও যিকরের অভ্যাস করা, মুসলমানদেরকে সম্মান করা, সব কাজ নিয়ত ছহীহ করে করা, আল্লাহর পথে মাঝে মাঝে কিছু দিনের জন্য তাবলীগ জামায়াতের সাথে কাটান ইত্যাদি এ জামায়াতের মূল ৬টি শিক্ষা।

তাবলীগ জামায়াত সম্পর্কে সঠিকভাবে না জানার দরুন অনেকে এ জামায়াত সম্পরেক নানারকম বিরূপ মন্তব্য বরেন। আমি এ জামায়াতের সাথে সাড়ে চার বছর ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি বলেই এর বিরাট দ্বীনী খেদমতকে ভালভাবে বোঝার সুযোগ পেয়েছি। তাবলীদের ভাইয়েরা এ জন্যই বলে থাকেন, কিছু দিন জামায়াতের সাথে না থাকলে কি করে এর কাজকে জানা ও বোঝা সম্ভব হবে? ভাইদের এ কথাটি খুবই সত্য। ভাইদের কথাটিকে সমর্থন করেই তাদের খেদমতে আরজ করতে চাই যে, অন্যান্য জামায়াদ এবং দ্বীনী খেদমতকেও নিকটে যেয়ে না জেনে তাদের সম্বন্ধে দূর থেকে কোন ধারণা করতেল একই কারণে ভুল হবে।

তাবলীগ জামায়াত আখিরাতের কামিয়াবীর উদ্দেশ্যে দুনিয়ায় আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের তরীকা মোতাবেক জীবন যাপনের যে মহান জযবা পয়দা করছে তা দ্বরা দ্বীনের বিরাট খেদমত হবে যদি তারা মানুষের মধ্যে এ ধারণা সৃষ্টি হতে না দেন যে, তাবলীগ জামায়াত যতটুকু তালিম দিচ্ছে সেইটুকুই ইসলামের পূর্ণরূপ বা তাবলীগ জামায়াতই একমাত্র সহীহ জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামী

এ জামায়ত ইসলামকে মানব সমাজে তেমনি পূর্ণরূপে কায়েম দেখতে চায় যেমন- আল্লাহর রাসূল (সা) মদীনায় কায়েম করেছিলেন। সে মহান উদ্দেশ্যেই এ জামায়াত কর্মীদের ব্যক্তি জীবন গঠন করে সমাজে ঈমানদার, খোদাভীরু ও চরিত্রবান নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে। এ জামায়াত যে ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টি করছে তা আধুনিক শিক্ষিতদেরকে এ দ্বীরে ‍সুস্পষ্ট ইলম দান করতে সক্ষম। আধুনিক বিশ্বে ইসলাম বিরোধী মতবাদ ও চিন্তা-ধারা শিক্ষিত যুব সমাজকে যেভাবে পথভ্রষ্ট করছে এর সত্যিকার মোকাবিলা এ সাহিত্য দ্বারাই সম্ভব হচ্ছে। বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিতের অভাব এ সাহিত্য দ্বারা অনেকখানি পূরণ হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষা ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার দ্বারা শিক্ষিত সমাজে যে বিরাট ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে জামায়াতে ইসলামী পরিবেশিত ইসলামী সাহিত্য সে দুরত্ব দূর করে উভয় প্রকার শিক্ষিত লোকদের মধ্যে মজবুত সেতু বন্ধন রচনা করেছে। এ সাহিত্য মাদরাসা শিক্ষিতদের আধুনিক দৃষ্টি-ভঙ্গি দান করে এবং আধুনিক শিক্ষিতদেরকে ইসলামী দৃষ্টি ভঙ্গি দান করে। উভয় শিক্ষায় যে অভাব রয়েছেতা এ সাহিত্য দ্বারা দূল হওয়ায় শিক্ষিত সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি হওয়া সহজ হয়েছে।

কোন আন্দোলন মানব সমাজে যে মতাদর্শ কায়েম করতে চায় তাকে সে আদর্শের উপযোগী লোক তৈরি করার কর্মসূচী অবশ্যই নিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী তাই ইসলামী চরিত্র সৃষ্টির প্রয়াজনে কর্মীদের বাস্তব ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছে যাতে ঈমান, ইলম ও আমলেরদিক দিয়ে অত্যাবশ্যক গুণাবলী পয়দা হয়। আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর যমীনে তাদের দ্বারাই কায়েম হওয়া সম্ভব যারা নিজেদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্বীনের আনুগত্য করে। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের লোক তৈরি করার একটি কারখানা।

জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত ও কর্মসূচী

জামায়াতের তিন দফা দাওয়াতঃ- জামায়াতে ইসলামী মানুষকে কোন নতুন বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেয় না। আবহমান কাল থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীগণ মহান প্রতিপালকের দাসত্ব করার যে চিরন্তন দাওয়াত দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সে দাওয়াতই দেয়। নবীগণের দাওয়াতে যারা সাড়া দিয়েছেন তাদের জীবনকে শিরক ও পঙ্কিলতা থেকে তাঁরা পাক করেছেন। যখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য সাথী যোগাড় হয়েছে তখন সমাজ থেকে খোদাদ্রোহী ও অসৎ লোকের নেতৃত্ব খতম করে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর বান্দাদের দ্বারা আল্লাহর আইন চালু করেছেন। নবীদের ঐ দাওয়াত ও কর্যক্রমকেই জামায়াতে ইসলামী সুস্পষ্ট ভাষায় তিনটি দফায় পেশ করে থাকে।

সাধারণত : সকল মানুষের নিকট এবং বিশেষভাবে মুসলমানদের নিকট জামায়াতে ইসলামী নিম্নরূপ দাওয়াত দেয় :

এক : দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তি পেতে হলে দ্বীন ইসলামকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করুন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালাকে একমাত্র মনিব ও তাঁর রাসূল (সা) কে অনুকরণযোগ্য একমাত্র আদর্শ মানব মেনে নিন।

দুই : আপনি সত্যিই ইসলামের দাবীদার হলে আপনার বাস্তব জীবন থেকে ইসলামের বিপরীত চিন্তা, কাজ, অভ্যাস ও যাবতীয় মুনাফেকী দূর করুন।

তিন : খাঁটি মুসলিম হিসেবে জীবন-যাপন করতে চাইলে জামায়াত বদ্ধভাবে চেষ্টা করুন যাতে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ঈমানদার, খোদাভীরু চরিত্রবান ও যোগ্য লোকের নেতৃত্ব কায়েম হয় এবং অসৎ, খোদাদ্রোহী ও খোদা বিমুখ নেতৃব খতম হয়।

জামায়াতের চার দফা কর্মসূচী : জামায়াতে ইসলামী একটি বিজ্ঞান সম্মত বিপ্লবী আন্দোলন। জামায়া হৈ-হাংগামার মাধ্যমে বিপ্লব সাধন করতে চায় না। স্থায়ী, ফলপ্রসু ও কল্যাণকর বিপ্লববের জন্য প্রধমে মানুষের চিন্তাধারাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। চিন্তা শক্তিই মানুষের পরিচালক। যারা চিন্তার ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌঁছে তাদেরকে সুসংগঠিত করে আন্দোলনের যোগ্য নেতা ও কর্মী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে সমাজের খেদমতে নিযুক্ত করে সমস্যা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও সমাধান পেশ করার যোগ্য নিঃস্বার্থ খাদেমরূপে তৈরী করতে হবে। এরপর যখনই আল্লাহ পাক সুযোগ দেন তখন জন সমর্থন নিয়ে সরকারী দায়িত্ব গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ইসলামী আদর্শ অনযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে। এ সব কর্মধারাকে জামায়াত চারটি দফায় নিম্নরূপ ভাষায় প্রকাশ করে:

১। দাওয়াত ও তাবলীগ-ইসলাম প্রচার ও আল্লাহর দিকে আহবান :

(ক) কোরআন ও হাদীসের ভিত্তিতে মানুষের চিন্তার বিশুদ্ধিকরণ ও সঠিক ইসলামী চিন্তাধরা গড়ে তুলবার ব্যাপক আন্দোলন চালানো।

(খ) আধুনিক গবেষণা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ফসলকে ইসলামের কষ্টি পাথরে যাচাই করে গ্রহণ ও বর্জনের নীতি চালু করা। অন্ধভাবে সবই গ্রহণ বা সবই ঘৃণাভরে বর্জন না করে জ্ঞান, যুক্তি ও কল্যাণের দৃষ্টিতে বিচার করে গ্রহণ বা বর্জন করা।

(গ) বর্তমান যুগের যাবতীয় সমস্যার ইসলামী সমাধান পেশ করে প্রচলিত অন্যান্য মতবাদের ভুল ধরিয়ে দেয়া।

এ তিন ধরনের কাজের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের জ্ঞান-বিতরণ ও সে জ্ঞান ভিত্তিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের দাওয়াতই জামায়াত দিয়ে থাকে।

২। তানযীম ও তারবীয়াত-সংগঠন ও প্রশিক্ষণ :

(ক) ইসলামের প্রতি আগ্রহশীল, সমাজ সচেতন, সৎলোকের সন্ধান ও সংগঠন।

(খ) বাস্তবমূখী কার্যক্রমের মারফতে তাদেরকে আল্লাহর খাঁটি গোলাম ও দ্বীনের যোগ্য খাদেম বানাবার জন্য উপযোগী তারবিয়াত বা ট্রেনিং দান।

(গ) চরিত্রবান কর্মী বাহিনী তৈরী করে সমাজকে সৎ নেতৃত্ব দানের ব্যবস্থা করা।

৩। ইসলাহে মো‘য়াশারা- সমাজ সংস্কার :

(ক) সমাজ গঠন ও সমাজ সেবায় সকল রকম কাজের মাধ্যমে দেশকে এবং দেশবাসীকে উন্নত করার চেষ্টা।

(খ) সকল পেশা, শ্রেণী ও স্তরের লোকদেরকে গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজ সচেতন করা ও ব্যক্তি কেন্দ্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করা।

(গ) জনগণকে সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ নিয়মতহান্ত্রিকভাবে নিয়োজিত করা।

৪। ইসলাহে হুকুমাত- সরকার ও শাসন ব্যবস্থার সংস্কার :

(ক) অভন্তরীন শাসন শৃংখলা, বৈদেশিক নীতি, আইন-কানুন, জাগণের নৈতিক-পার্তিব উন্নতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নয়নমূলক কাজ ও দেশের সঠিক উন্নতি সম্পর্কে ইসলামের আলোকে সরকারকে উপযুক্ত পরামর্শ দান করা।

(খ) খোদাদ্রোহী, ধর্ম নিরপেক্ষ, অসচ্চরিত্র নেতৃত্বের অপসারণ ব্যতীত সমাজের পূর্ণরূপ সংশোধন অসম্ভব। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আরম্ভ করে সকল সরকারী দায়িত্ব থেকে এ ধরনের ব্যক্তিদেরকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অপসারণের উদ্দেশ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ নেতৃত্ব কায়েম করা।

(গ) যুক্তি ভিত্তিক রাজনীতির প্রচলন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শক্তি প্রয়োগ ও অস্ত্রের ব্যবহার রোধ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে একনায়কত্বের অবসান ঘটাবার জন্য নিয়মান্ত্রিক উপায়ে গণ আন্দোলন করা।

(ঘ) রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদেরকে ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা এবং সকল স্তরের নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য লোককে বিজয়ী করার চেষ্টা করা। যেখানে জামায়াতে ইসলামীর তৈরী লোককে অন্যদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য মনে করা হবে সেখান তাকেই নির্বাচিত হবার সুযোগ দান করা।

এ কর্মসূচী সম্পর্কে বিশেষ বিবেচ্য

এ ৪ দফা কর্মসূচীর প্রত্যেকটি দফাই অপর সব কয়টি সহায়ক ও পরিপূরক। ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এ ৪টি দফা অনুযায়ী অত্যন্ত সুবিবেচনার মধ্যে কাজ করে যেতে হবে- যাতে আন্দোলনের মূল লক্ষ্যের দিকে পরিপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রেখে অগ্রগতি সম্ভব হয়। এ সম্পর্কে একটি কথা বিশেষভাবে চিন্তা করে দেখো দরকার। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন কার্যকলা, চরম নৈতিক অথঃপতন, স্বার্থপর নেতৃত্ব, সুবিধাবাদী রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে দেশ এমন এক দুঃজনক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থেই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে যাতে চতুর্থ দফার কাজ যোগ্যতার সাথে করা সম্ভবপর হয়।

জামায়াতে ইসলামীর প্রকৃত পরিচয়

উপরোক্ত তিন দফা দাওয়াত ও চার দফা কর্মসূচী থেকে একথা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে-

১। এ জামায়াত মূলতঃ একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন। এর ব্যাপকতা ততটুকুই যতটুকু ইসলাম ব্যাপক। ইসলাম যেহেতু অনুসারী হিসেবে গোটা ইসলামকে কায়েম করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

২। এ জামায়াত স্বাভাবিক গতিতে সমাজ বিপ্লব সৃষ্টি করতে চায়। তাই এর কার্যক্রম তানুদ্দুনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন। সে হিসেবে জামায়াতকে প্রধানতঃ ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলন বলা যায়।

৩। জামায়াত রাজনীতি বর্জিত নিছক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ব নবীর আন্দোলন যদি ধর্ম সর্বস্বহতো তাহলে বাতিল রাজশক্তির সাথে তাঁর সংঘর্ষ হতো না বা মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করতেন না। জামায়াত ততটুকুই রাজনীতি প্রধান দল নয়। প্রত্যক্ষ রাজনীতি জামায়াতের চার দফা কর্মসূচীর চতুর্থ দফা মাত্র। অর্থাৎ জামায়াতের গোটা কার্যক্রমের এক চতুর্থাংশ মাত্র প্রত্যক্ষ রাজনীতি। আর সে রাজনীতিও একমাত্র ইসলামী নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। লাগমহীন রাজনীতি, মিথ্যার রাজনীতি ও ধোঁকাবাজীর রাজনীতির সাথে জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই।

৪। এ কথা অবশ্য তাৎপর্যপূর্ণ যে কালেমায়ে তাইয়্যেবাও রাজনীতি বর্জিত নয়। আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই বলে কালেমায় যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়ে মুসলিম হতেহ

য সেটুকুতে রাজনীতি নেই? আল্লাহর হুকুমের বিপরীত কোন হুকুম পালন না করার ঘোষণাই কালেমায় রয়েছে। সুতরাং সঠিক মর্ম বুঝে কালেমা তাইয়্যেবাকে কবুল করা মানে অনৈসলামী সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা। তাই রাজনীতি শুরু থেকেই মুসলিম জীবনের অংশ। তবু জামায়াতে ইসলামী কার্যসূচীতে সরাসরি রাজননৈতিক প্রোগ্রাম ৪র্থ দফায়ই শুধু রয়েছে।

- মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম (র.)

খুলাফায় রাশেদীন গণ যাদেরকে বিভিন্ন এলাকার গর্ভনর নিয়োগ দিয়েছিলেন তাদের চাইতেও অনেক সাহাবারই এলেম-আমল-তাকওয়া-দরবেশী বেশী ছিল, রাসূল (স.) ও যুদ্ধের সেনাপতি নির্বাচন করতেন নেতৃত্বের পারদর্শিতার উপর নির্ভর করে। তাই ইসলামিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক ব্যাপার আর ইলমে দ্বীনের খেদমত করা ও তাসাউফ এর শিক্ষা দেয়া অন্য ব্যাপার। যে যেই কাজের যোগ্য তারা সেই কাজই আঞ্জাম দিবে। জামাতে ইসলাম রাষ্ট্র পারিচালনা করবে, ওলামায় দেওবন্দ ইলমে দ্বীনের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করবে আর হক্ক পীর গন তাসাউফের খেদমত করবে। কেউ কারো বিরোধী নন, একে অন্যের মুখাপেক্ষী, সবাইকে নিয়েই ইসলামী ব্যাক্তি, ইসলামী সমাজ এবং ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মিত হবে। দরকার শুধু মাত্র হিংসা-বিদ্বেষ-অহংকার দুর করে অপরের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নির্ভেজাল ইসলামের স্বরুপ সন্ধানে

ইসলাম ও গনতন্ত্র

সাড়ে তিন হাত বডিতে ইসলাম !