জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে?



শুরু করছি মহান আল্লাহ্’র নামে। ছালাত ও ছালাম বর্ষিত হোক প্রিয়নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লামের উপর। অতঃপর: এই প্রবন্ধে যারা বলে ‘জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে, মানুষের জিহ্বা দিয়ে কথা বলাতে পারে’ তাদের রদ্দ/খন্ডণ করা হবে। আমরা জানি যে, জ্বীন আল্লাহ্’র সৃষ্টি। তারা আমাদের খারাপ কাজ করার জন্য ওয়াছওয়াছা/প্ররোচনা দিতে পারে, কিন্তু শরীরে ভর করে কোন খারাপ বা ভাল কাজ করাতে পারে না৷ যারা বলে ‘শরীরে ভর করতে পারে’ তাদের দালীলগুলোর খন্ডণ করা হয়েছে। আর তাদের এই বাতিল মতের খন্ডণের জন্য কুর’আনের এই আয়াতই যথেষ্ট। আল্লাহ্ কুর’আনে বলেছেন:

“আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়ত্বান বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতঃপূর্বে তোমরা আমাকে যার সাথে শরীক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব’।” [ছূরা ইবরাহীম: ২২নং আয়াত]
وَقالَ الشَّيطانُ لَمّا قُضِيَ الأَمرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُم وَعدَ الحَقِّ وَوَعَدتُكُم فَأَخلَفتُكُم وَما كانَ لِيَ عَلَيكُم مِن سُلطانٍ إِلّا أَن دَعَوتُكُم فَاستَجَبتُم لي فَلا تَلوموني وَلوموا أَنفُسَكُم ما أَنا بِمُصرِخِكُم وَما أَنتُم بِمُصرِخِيَّ إِنّي كَفَرتُ بِما أَشرَكتُمونِ مِن قَبلُ إِنَّ الظّالِمينَ لَهُم عَذابٌ أَليمٌ«

খেয়াল করুন, শয়ত্বান কি বলেছে: ‘তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না’— এটা থেকেই প্রমাণিত হয় যে ‘জ্বীন আমাদের শরীরে ভর করতে পারে না’ কারণ শরীরে ভর করলে তো সে আমার শরীরের উপরই আধিপত্য বিস্তার করেছে। আমরা জানি জ্বীনে ভর করলে, ব্যক্তি জ্বীনের কথামতই চলে, এখন জ্বীন যদি তাকে দিয়ে কোন খারাপ কাজ করায়, কাউকে হত্যা করায় সেটার দায়ভার কার? জ্বীনের নাকি ব্যক্তিটার? নিশ্চয়ই জ্বীনের৷ কারণ ব্যক্তি তো নিজে কিছু করছিলো না, তাকে জ্বীনে করাচ্ছিল, ব্যক্তির উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। কিন্তু জ্বীন তো উপর্যুক্ত আয়াতে তা স্বীকার করেনি। বরং সে  বললো: ‘তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না’— এখন কুর’আনের আয়াত মিথ্যা নাকি এইসব কথিত ভণ্ড রাক্বীদের কথা মিথ্যা! দেখুন সে আরো কি বলেছে, “তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ।”— খেয়াল করুন সে আমাদেরকে দিয়েছে? ‘দাওয়াত’ দিয়েছ অর্থাৎ সে শুধু আমাদের প্ররোচনা দিতে পারে, আমাদেরকে বাধ্য করতে পারে না। যদি সে আমাদের শরীরে ভর করতে পারতো তাহলে তো সে শুধু আমাদের প্ররোচনা দিতো না বরং কাজ করাতো। সে আরো বলেছে: “সুতরাং তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভৎর্সনা কর।”— অর্থাৎ সে শুধু আমাদের প্ররোচনা দিতে পারে, বাধ্য করাতে পারে না। তার প্ররোচনায় খারাপ কাজ করলে সেটার দোষ আমাদের। এই আয়াতে সেসব ফালতু, ভণ্ডদের খন্ডণ করা হয়েছে, যারা খারাপ কাজ করার পর জ্বীনে করিয়েছে বলে। মূলত জ্বীনে করায়নি, হয় সে নিজেই মানুষ শয়ত্বান আর নাহয় মানসিক রোগী।

যারা বলে ‘জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে’ তাদের দালীলগুলোর খন্ডণ:

প্রথম দালীল:

আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর উছমান ইবনু হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আমাকে বলেছেন যে ইয়ালা ইবনু মাররাহ্ বলেছেন: “আমি রাছূলুল্লাহকে এমন তিনটি কাজ করতে দেখেছি যা আমার আগে বা পরে কেউ দেখেনি। আমি তাঁর সাথে বেড়াতে গিয়েছিলাম। পথিমধ্যে আমরা রাস্তার ধারে বসা এক মহিলার পাশ দিয়ে গেলাম যার সাথে একটি ছোট ছেলে ছিল। তিনি ডেকে বললেন, হে আল্লাহ্’র রাছূল, এই ছেলেটি পীড়ায় আক্রান্ত, এবং তার কাছ থেকে আমরাও পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছি।...তিনি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম বললেন: তাকে আমার কাছে দাও। তাই সে তাকে রাছূলের কাছে তুলে দিলেন। তিনি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম তারপর ছেলেটিকে নিজের এবং ঘোড়ার জিনের মাঝখানে রাখলেন, ছেলেটির মুখ খুলে তাতে তিনবার ফুঁ দিয়ে বললেন, “আল্লাহ্’র নামে, আমি আল্লাহর বান্দা, বের হও।  আল্লাহর শত্রু!’  তারপর তিনি ছেলেটিকে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন: ‘আমাদের ফেরার সময় এই একই জায়গায় আমাদের সাথে দেখা করিও এবং আমাদের জানায়ো যে সে কেমন আছে।’ আমরা তখন আবার যাত্রা শুরু করলাম। ফেরার সময়, আমরা তাকে একই জায়গায় তিনটি ভেড়ার সাথে দেখতে পাই। যখন তিনি [রাছূল] তাকে বললেন, ‘তোমার ছেলের অবস্থা কেমন?’ সে উত্তর দিল: ‘যিনি আপনাকে হক্বসহ প্রেরণ করেছেন তার কছম, আমরা এখন পর্যন্ত তার আচরণে [অস্বাভাবিক] কিছু খুঁজে পাইনি...।” [মুছনাদে আহমাদ: ১৭৫৮৪ নং হাদীছ; মাকতাবাতুশ শামেলা]
«حدثنا عبد الله بن نمير، عن عثمان بن حكيم، قال: أخبرني عبد الرحمن بن عبد العزيز، عن يعلى بن مرة، قال: لقد رأيت من رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثا، ما رآها أحد قبلي، ولا يراها أحد بعدي، لقد خرجت معه في سفر حتى إذا كنا ببعض الطريق مررنا بامرأة جالسة، معها صبي لها، فقالت: يا رسول الله، هذا صبي (2) ، أصابه بلاء، وأصابنا منه بلاء، يؤخذ في اليوم، ما أدري كم مرة، قال: " ناولينيه " فرفعته إليه، فجعلته بينه وبين واسطة الرحل، ثم فغر فاه، فنفث فيه ثلاثا، وقال: " بسم الله، أنا عبد الله، اخسأ عدو الله " ثم ناولها إياه، فقال: " القينا في الرجعة في هذا المكان، فأخبرينا ما فعل " قال: فذهبنا ورجعنا، فوجدناها في ذلك المكان، معها شياه ثلاث، فقال: " ما فعل صبيك؟ " فقالت: والذي بعثك بالحق، ما حسسنا منه شيئا حتى الساعة...«

এই হাদীছের তিনটি ছনদ রয়েছে।

প্রথম ছনদ:
حدثنا عبد الله بن نمير، عن عثمان بن حكيم، قال: أخبرني عبد الرحمن بن عبد العزيز، عن يعلى بن مرة،
আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর উছমান আমাদেরকে বলেছেন > ইবনু হাকিম থেকে >  বলেছেন: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আমাকে খবর দিয়েছেন > ইয়ালা ইবনু মাররাহ্ থেকে...
এটি দ্বঈফ/দু্র্বল।

মুহাদ্দিছ শুআইব আরনাউত বলেছেন: “আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আযীযের অপরিচিত হওয়ার কারণ ইছনাদ দ্বঈফ। এটির সম্পূর্ণ ইবনু আবী শাইবা থেকে, ১১/৪৮৮- ৪৯০, আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে এই ছনদের সাথে। এবং একই অধ্যায়ে জাবির থেকে — ইবনু আবী শাইবা, ১১/৪৯০- ৪৯২; দারিমী: ১৭; ইবনু আব্দিল বার্র তামহীদে: ১/২২৩, বায়হাক্বী, ৬/১৮।” [মুছনাদে আহমাদ: ২৯/৯১; মাকতাবাতুশ শামেলা]
إسناده ضعيف لجهالة عبد الرحمن بن عبد العزيز. وأخرجه بطوله ابن أبي شيبة 11/488-490 عن عبد الله بن نمير، بهذا الإسناد. وفي الباب عن جابر عند ابن أبي شيبة 11/490-492، والدارمي (17) ، وابن عبد البر في "التمهيد" 1/223، والبيهقي في "الدلائل" 6/18-19 وإسناده ضعيف«

ইবনু হাজার তাক্বরীবুত তাহযীবে [১/৩৪৫; ৩৯৩৩ নং] আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আযীয সম্পর্কে বলেছেন: সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন।

ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আযীয সম্পর্কে বলেছেন, যা ‘আল-কামিল ফি দ্বুয়াফা আর-রিজালে’ [৫/৪৬৮-৪৬৯] রয়েছে, যে সে মাজহুল অর্থাৎ অপরিচিত।

অতএব এই হাদীছকে দালীল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আল্লাহু আ’লাম।

দ্বিতীয় ছনদ:
»حدثنا أسود بن عامر، حدثنا أبو بكر بن عياش، عن حبيب بن أبي عمرة، عن المنهال بن عمرو، عن يعلى«

আছওয়াদ বিন আমির আমাদেরকে বলেছেন > আবু বাকর বিন আয়্যাশ আমাদেরকে বলেছেন > হাবিব বিন আবী আমরা থেকে > মিনহাল বিন আমর থেকে > ইয়ালা থেকে..

এটাও দ্বঈফ, মিনহাল ইয়ালা থেকে শুনেননি।
শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন: ইছনাদ দ্বঈফ এবং মুনক্বাতা [বিচ্ছিন্ন] কারণ মিনহাল বিন আমর ইয়ালা বিন মুর্রা থেকে শুনেননি।
إسناده ضعيف لانقطاعه المنهال بن عمرو لم يسمع من يعلى بن مرة«
[মুছনাদে আহমাদ: ১০৯/২৯; মাকতাবাতুশ শামেলা]

তৃতীয় ছনদ:
»حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن عطاء بن السائب، عن عبد الله بن حفص، عن يعلى بن مرة الثقفي«

আব্দুর রাযযাক আমাদেরকে বলেছেন > মা’মার আমাদেরকে খবর দিয়েছেন > আত্বা বিন ছাইব থেকে > আব্দুল্লাহ বিন হাফছ থেকে > ইয়ালা বিন মুর্রা থেকে আছ-ছাকাফী থেকে...

মুহাদ্দিছ শুআইব আরনাউত বলেন: ছনদ দ্বঈফ কারণ আব্দুল্লাহ বিন হাফছ মাজহুল এবং আত্বা বিন ছাইবের স্মৃতিশক্তি ভাল ছিল না [ইখতিলাতের স্বীকার]।”
إسناده ضعيف لجهالة عبد الله بن حفص، وعطاء بن السائب كان قد اختلط.
[মুছনাদে আহমাদ: ১০৬/২৯; মাকতাবাতুশ শামেলা]

মুহাদ্দিছ আহমাদ শাকের বলন: ‘ছনদ দ্বঈফ আব্দুল্লাহ বিন হাফছের কারণে।’ إسناده ضعيف لأحل عبد الله بن حفص
[মুছনাদে আহমাদ: ১৩/৪১৮]

আব্দুল্লাহ বিন হাফছ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন, সে পরিচিত নয়।” [আল-কামিল ফি দ্বুয়াফা আর-রিজাল: ৫/৪০১]

হাফিয ইবনু হাজার আছক্বালানী তাকে মাজহুল/অপরিচিত মনে করেন। [তাকরীবু তাহযীব: ১/৩০০; ৩২৭৯ নং]

আত্বা বিন ছাইব সম্পর্কে ইমাম শুভা বলেন: ‘তিনি স্মরণ রাখতে পারতেন না’, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন: ‘ইখতিলাতের স্বীকার, তাঁর হাদীছ দিয়ে দালীল দেয়া হয় না— اختلط، لا يُحتج بحديثه’, ইমাম আহমাদ বিন হান্বল বলেন: ‘অতীতে যে তার থেকে শুনেছে তার শ্রবণ ছহীহ্’, ইমাম বুখারী বলেন: ‘তাঁর পুরাতন আহাদীছ ছহীহ্— أحاديثه القديمة صحيحة’, ইমাম আহমাদ বিন আবী খায়ছামা ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন: ‘শুভা এবং ছুফিয়ান থেকে ছাড়া তাঁর হাদীছ দুর্বল— ضعيف إلا ما كان عن شعبة وسفيان’, ইমাম বুখারী তাঁর তারিখে বলেন: আলী বলেছেন: ‘খালীদ বিন আব্দুল্লাহ্ আত্বা বিন ছাইব থেকে শেষে শুনেছেন— سماع خالد بن عبد الله من عطاء بن السائب بآخره’
যেহেতু ইখতিলাতের পরে শুনেছেন তাই ছহীহ্ নয়।

অতএব এই ছনদও ছহীহ নয়।
--------
দ্বিতীয় দালীল:

ইবনু আব্বাছ বলেছেন: “একজন মহিলা তার এক ছেলেকে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহ্’র রাছূল, আমার এই ছেলেটি পাগল। আল্লাহ’র রাছূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম তাকে মুছে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। ছেলেটি তখন বমি করে দেয়া এবং তার মুখ থেকে একটি কালো কুকুরছানা বের হয়ে পালিয়ে যায়।” [আল-খাছাইছ আল-কুবরা: ২/১১৬-১১৭]
»عن ابن عباس: أن امرأة جاءت بولدها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: يا رسول الله، إن به لمما، وإنه يأخذه عند طعامنا، فيفسد علينا طعامنا، قال: " فمسح رسول الله صلى الله عليه وسلم صدره، ودعا له، فثع ثعة، فخرج من فيه مثل الجرو الأسود، فشفي«

ছনদ:
»حدثنا يزيد، أخبرنا حماد بن سلمة، عن فرقد السبخي، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس«
ইয়াযিদ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন > হুমায়দ বিন ছালামা আমাদেরকে বলেছেন > ফারক্বাদ আছ-ছাবাকীহ থেকে > ছাইদ বিন জুবায়র থেকে > ইবনু আব্বাছ থেকে >

এই হাদীছ সম্পর্কে মুহাদ্দিছ শুআইব আরনাউত বলেন: রাউয়ী ফারক্বাদ আছ-ছাবাখী কারণে ইছনাদ দ্বঈফ। সে ফারক্বাদ আছ-ছাবাখী, বুখারী বলেছেন: তার হাদীছ বাতিল। আহমাদ এবং আবু হাতিম বলেছেন: সে শক্তিশালী নয়। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেছেন: আমি তার থেকে রেওয়ায়ত পছন্দ করি না এবং ইবনু ছা’দ, ইবনু মাদীনী, নাছাঈ, ইয়াক্বুব বিন শাইবা সহ অন্যান্যদের মতে সে দুর্বল।
»إسناده ضعيف، فرقد السحي: هو فرقد بن يعقوب السحي قال البخاري: في حديثه مناكير، وقال أحمد وأبو حاتم: ليس بالقوي، وقال يحيى القطان: ما تعجني الرواية عنه، وضعفه ابن سعد وابن المديني والنسائي ويعقوب بن شيبة وغيرهم«
[মুছনাদে আহমাদ: ৩৭-৩৮/৪; মাকতাবাতুশ শামেলা]
-----

তৃতীয় দালীল:

আমাদেরকে মুহাম্মদ বিন বাশর বলেছেন > আমাদেরকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনছারী বলেছেন > আমাকে উয়ায়না বিন আব্দুর রহমান বলেছেন > আমাকে আমার পিতা বলেছেন > উছমান বিন আবুল আছ থেকে > তিনি বলেছেন: রাছূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম আমাকে তায়েফের প্রশাসক নিযুক্ত করলেন। ছালাতের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসতে লাগলো। ফলে আমার মনে থাকতো না যে, আমি কত রাক‘আত ছালাত পড়েছি। আমার এই অবস্থা লক্ষ্য করে আমি রাছূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লামের সাথে সাক্ষাত করার জন্য রওয়ানা হলাম। তিনি [আমাকে দেখে] বলেন: আবুল আছের পুত্র নাকি? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাছূলাল্লাহ্! তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কেন এসেছো? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাছূল! ছালাতের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসে। ফলে আমি বলতে পারি না যে, আমি কত রাক‘আত পড়েছি। তিনি বলেন: এটা শয়ত্বান। আমার নিকট এসো। আমি তাঁর নিকট এসে হাঁটু গেড়ে বসলাম। রাউয়ী বলেন, তিনি নিজ হাতে আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং আমার মুখে লালা দিয়ে তিনবার বলেন: আল্লাহ্’র শত্রু! ভেগে যা। অতঃপর তিনি বলেন: যাও, নিজের কাজে যোগ দাও। উছমান বলেন, আমার জীবনের শপথ! এরপর থেকে শয়ত্বান আমার অন্তরে আর তালগোল পাকাতে পারেনি।” [ছুনানে ইবনু মাজাহ: ৩৫৪৮ নং হাদীছ]
»عن عثمان بن أبي العاص قال: لما استعملني رسول الله على الطائف جعل يعرض لي شيء في صلاتي حتى ما أدري ما أصلي. فلما رأيت ذلك رحلت على رسول الله r، فقال: «ابن العاص»؟ قلت: «نعم يا رسول الله». قال: «ما جاء بك»؟ قلت: «يا رسول الله، عرض لي شيء في صلاتي حتى ما أدري ما أصلي». قال: «ذاك الشيطان، أدنه». قال: فدنوت منه، فجلست على صدور قدمي. قال: فضرب صدري بيده وتفل في فمي، وقال: «اخرج عدو الله»، ففعل ذلك ثلاث مرات. ثم قال: «الحق بعملك». فقال عثمان: «فلعمري ما أحسبه خالطني بعد«

এটি দ্বঈফ হাদীছ। ইবনু মাজাহ এটিকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনছারী থেকে এনেছেন, যিনি প্রথমে ছীকাহ/নির্ভরযোগ্য ছিলেন। কিন্তু আবু দাউদ বলেছেন: “[পরবর্রীতে] ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছেন— تغير تغيرا شديداً’, তার হাদীছ আলিমগণ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যেমনটা ইবনু আদীর কামিলে আছে। যদি আমরা এটিকে ছহীহ ধরেও নিই এবং অন্যান্য বর্ণনার সাথে সমন্বয় করি তাহলে—

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদেরকে বলেছেন > আমাদেরকে আমার পিতা বলেছেন > আমাদেরকে আমর বিন উছমান বলেছেন > আমাদেরকে মুছা বিন তালহা বলেছেন > আমাকে উছমান বিন আবী ছাকাফী বলেছেন > নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম আমাকে বলেছেন: তুমি তোমাদের গোত্রের লোকেদের ছালাতে ইমামতি কর। রাউয়ী বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্’র রাছূল! আমি আমার অন্তরে কিছু একটা অনুভব করি। তিনি আমাকে বললেন, নিকটে আসো। তিনি আমাকে তার সামনে বসালেন। অতঃপর আমার বুকের মাঝখানে তার হাত রাখলেন। তিনি পুনরায় বললেন, ঘুরে বসো। তিনি আমার পিছে কাঁধ বরাবর হাত রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি তোমার গোত্রের লোকেদের ইমামতি করো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে সে যেন ছালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, অসুস্থ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোক রয়েছে। তোমাদের কেউ যখন একাকি ছালাত আদায় করবে, সে তখন নিজ ইচ্ছামত ছালাত আদায় করতে পারে।” [মুছলিম: ৯৩৭ নং হাদীছ]
«حدثني عثمان بن أبي العاص الثقفي: أن النبي قال له: «أُمّ قَوْمَكَ». قلت: «يا رسول الله. إني أجد في نفسي شيئاً». قال: «ادْنُهْ». فجلّسني بين يديه، ثم وضع كفه في صدري بين ثديي، ثم قال: «تحوّل». فوضعها في ظهري بين كتفي، ثم قال: «أُمّ قومك. فمن أَمّ قوماً فليخفف، فإن فيهم الكبير وإن فيهم المريض وإن فيهم الضعيف وإن فيهم ذا الحاجة. وإذا صلى أحدكم وحده، فليُصلّ كيف شاء»

আমাদেরকে ইয়াহইয়া বিন খালাফ আল-বাহিলী বলেছেন > আমাদেরকে আব্দুল আলা বলেছেন > ছাইদ বিন জুরাইর থেকে > আবুল আলা থেকে > উছমান ইবনু আবুল আছ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লামের নিকট এসে বললেন- হে আল্লাহ্’র রাছূল! শাইত্বান আমার, আমার ছালাত ও কিরা’আতের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং সব কিছুতে গোলমাল বাধিয়ে দেয়। তখন রাছূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লাম বললেন: ‘এটা এক [প্রকারের] শাইত্বান— যার নাম 'খিনযিব'। যে সময় তুমি তার উপস্থিতি বুঝতে পারবে তখন তার অনিষ্ট হতে আল্লাহ্’র কাছে আশ্রয় চেয়ে তিনবার তোমার বাম পাশে থুথু ফেলবে। তিনি বলেন, তারপরে আমি তা করলাম আর আল্লাহ্ আমার হতে তা দূর করে দিলেন।” [মুছলিম: ৫৬৩১ নং হাদীছ]
  حدثنا يحيى بن خلف الباهلي، حدثنا عبد الأعلى، عن سعيد الجريري، عن أبي العلاء: أن عثمان بن أبي العاص أتى النبي فقال: «يا رسول الله. إن الشيطان قد حال بيني وبين صلاتي وقراءتي، يلبسها علي». فقال رسول الله: «ذاك شيطان يقال له خنزب. فإذا أحسسته، فتعوذ بالله منه، واتفل على يسارك ثلاثاً». قال: «ففعلت ذلك، فأذهبه الله عني»

ইমাম নাওয়াউয়ী বলেন: “এবং তার কথা: ‘আমি আমার অন্তরে কিছু একটা অনুভব করি’, এটা হল শয়ত্বানের ওয়াছওয়াছা যা তাকে বিভ্রান্ত করছিল।” পরিশেষে বলা যায়, এই হাদীছ দিয়ে শয়ত্বান মানুষের শরীরে ভর/প্রবেশ করার দালীল দেয়া যায় না। এটা দিয়ে শয়ত্বান শুধু ওয়াছওয়াছা দিতে পারার দালীল দেয়া যায়।
------

চতুর্থ দালীল:

কুর’আনের আয়াত:

যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায়  উঠবে, যাকে শয়ত্বান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়।” [ছূরা বাকারা: ২৭৫ নং আয়াত]
الَّذينَ يَأكُلونَ الرِّبا لا يَقومونَ إِلّا كَما يَقومُ الَّذي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيطانُ مِنَ المَسِّ ذلِكَ بِأَنَّهُم قالوا إِنَّمَا البَيعُ مِثلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ البَيعَ وَحَرَّمَ الرِّبا فَمَن جاءَهُ مَوعِظَةٌ مِن رَبِّهِ فَانتَهى فَلَهُ ما سَلَفَ وَأَمرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَن عادَ فَأُولئِكَ أَصحابُ النّارِ هُم فيها خالِدونَ

কেউ কেউ এই আয়াতটি দিয়ে ‘জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে’ প্রমাণ করার চেষ্টা করে এবং কুরতুবীর এই আয়াতের একটা ব্যাখ্যা প্রদান করে, যেখানে তিনি আলোচনা করেছেন কীভাবে শয়ত্বানের স্পর্শ একজন ব্যক্তিকে কষ্ট দিতে পারে। আসলে কুরতুবীকে এখানে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে— তিনি বলেননি যে জ্বীন মানুষের শরীরে নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং মানুষ নিজে কোন কিছু করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই আয়াতের ‘শয়ত্বানের স্পর্শ’কে যাহিরভাবে নেয়া যাবে না। এখন যদি জিজ্ঞেস করা হয় কেন? উত্তরে আমরা বলবো: সবচেয়ে শক্তিশালী তাফছীর হল কুর’আনকে কুর’আন দিয়ে বুঝা অর্থাৎ “তাফছীরুল কুর’আন বিল কুর’আন”। এখন যদি আমরা দেখি আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা কুর’আনের কোথায় কোথায় ‘শয়ত্বানের স্পর্শ’ ব্যবহার করেছেন তাহলে আমরা দেখতে পাবো ‘শয়ত্বানের স্পর্শ’কে যাহিরভাবে নেয়া যাবে না বরং অর্থ হবে ‘শয়ত্বানের ওয়াছওয়াছা’।

আল্লাহ্ কুর’আনে বলেন’
وَاذكُر عَبدَنا أَيّوبَ إِذ نادى رَبَّهُ أَنّي مَسَّنِيَ الشَّيطانُ بِنُصبٍ وَعَذابٍ
“আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে’।” ছূরা ছোয়াদ: ৪১ নং আয়াত

আল্লাহ্ কুর’আনে বলেছেন’
إِنَّ الَّذينَ اتَّقَوا إِذا مَسَّهُم طائِفٌ مِنَ الشَّيطانِ تَذَكَّروا فَإِذا هُم مُبصِرونَ

“নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।”

এইসব আয়াত থেকেই বুঝা যাচ্ছে, ‘শয়ত্বানে স্পর্শ’ মানে হচ্ছে ‘শয়ত্বানে ওয়াছওয়াছা’। অতএব এই আয়াতদিয়ে জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারার দালীল দেয়া যাবে না।
-----

পঞ্চম দালীল:

মুছাদ্দাদ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন > হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদেরকে বলেছেন > কাছির থেকে > আত্বা থেকে > জাবপর বিন আব্দুল্লাহ থেকে যে: “আল্লাহ্’র রাছূল বলেছেন, ‘তোমরা পাত্রগুলো ঢেকে রেখো, পান করার পাত্রগুলো বন্ধ করে রেখো, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে রেখো আর সাঁঝের বেলায় তোমাদের বাচ্চাদেরকে ঘরে আটকে রেখো। কারণ এ সময় জ্বীনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোন কিছুকে দ্রুত পাকড়াও করে। আর নিদ্রাকালে বাতিগুলো নিভিয়ে দেবে। কেননা অনেক সময় ছোট ছোট ক্ষতিকারক ইঁদুর প্রজ্জ্বলিত সলতেযুক্ত বাতি টেনে নিয়ে যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।” [বুখারী: ৩৩১৬ নং হাদীছ]
«خَمِّروا الآنية وأَوكوا الأسقية وأجيفوا الأبواب وَاكْفِتُوا صبيانكم عند العشاء فإن للجن انتشاراً وخَطفة. وأطفئوا المصابيح عند الرُّقاد (النوم) فإن الفُوَيْسِقَةَ (الفارة) ربما اجترَّت الفتيلة فأحرقت أهل البيت»

এই হাদীছে বলা হয়েছে যে জ্বীনেরা রাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতিকর প্রাণীর আকার ধারণ করে বা মানুষের আকৃতি ধারণ করেও আদম সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। এই হাদীছে মানুষের উপর ভর করার কোন দালীল নেই। ইবনু হাজার বলেন: “এই সবের ভিত্তি শয়ত্বান, কারণ সে ইঁদুরকে প্ররোচনা দেয় এবং বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।” [ফাতহুল বারী] অনেকে আবার এই হাদীছটার অর্থ করে যে, জ্বীনেরা মানুষদের

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নির্ভেজাল ইসলামের স্বরুপ সন্ধানে

ইসলাম ও গনতন্ত্র

বর্তমান বাংলাদেশ খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত হয়নি