কারবালা, এজিদ, মুয়াবিয়া নাসেবী, শিয়া, মওদূদী ও আহলে বায়েত

হযরত আলীকে অভিশাপ দেয়া ছিল মুয়াবিয়ার রাষ্ট্রীয় নীতি: সাহাদত হোসেন খান 


মৃত ব্যক্তিকে অসম্মান করা কেউ পছন্দ করে না। আর ইসলাম তো এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের অনুমোদন  দিতে পারে না। ৪১ হিজরিতে আমিরে মুয়াবিয়া কুরআন পরিপন্থী রাজতন্ত্র কায়েম করলে মুসলিম সাম্রাজ্যে ৭০ হাজারেরও অধিক মসজিদে জুম্মার খুৎবায় হযরত আলী ও পবিত্র আহলে বাইতদের উপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করা হয়। মুয়াবিয়ার আদেশটি ছিল এরূপ: ‘আল্লাহর কসম! কখনো আলীকে অভিসম্পাত দেয়া বন্ধ করবে না যতদিন শিশুগণ যুবকে এবং যুবকগণ বৃদ্ধে পরিণত না হয়। সারা দুনিয়ায় আলীর ফজিলত বর্ণনাকারী আর কেউ থাকবে না।’ মুয়াবিয়া নিজে এবং তার গভর্নররা রসূলের (সা.) পবিত্র রওজা মোবারকের পাশে মসজিদে নববীর মিম্বরে দাঁড়িয়ে তার প্রিয় আহলে বাইতদের অভিসম্পাত করতেন। হযরত আলীর সন্তান ও নিকটাত্মীয়গণ তা শুনতে বাধ্য হতেন। আর নীরবে অশ্রুপাত করতেন। 


   যে বছর থেকে হযরত আলীর বংশধরদের অভিশাপ দেয়া শুরু হয় সেই বছর থেকে মুয়াবিয়া আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত চালু করেন। মুয়াবিয়া ও তার উত্তরাধিকারীদের শাসন ব্যবস্থায়  খুৎবা প্রদানকারী এবং মুহাদ্দিসগণ দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ ওয়াজ মাহফিল, বক্তৃতা অনুষ্ঠান এবং দারসে হাদিসের অনুষ্ঠানে  হযরত আলীর উপর লা’নত বর্ষণ করতো এবং তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতো। বস্তুত বনী উমাইয়ার লোকদের অন্তর  হযরত আলীর প্রতি শত্রুতায় পরিপূর্ণ ছিল।   


  সহীহ মুসলিম ফাজায়েলে আলী অধ্যায়ে লেখা আছে যে, মুয়াবিয়া তার সমস্ত প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করেন যেন সকল মসজিদের খতিবগণ মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলীর উপর অভিসম্পাতকে তাদের দায়িত্ব মনে করেন। 


  হযরত আলীকে অভিশাপ (سب علي بن أبي طالب) দেয়া ছিল উমাইয়া খিলাফতের একটি রাষ্ট্রীয় নীতি। এ নীতির আওতায় রসূলের (সা.) চাচাতো ভাই ও জামাতা, সুন্নিদের চতুর্থ খলিফা এবং শিয়াদের প্রথম ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব ও তার পরিবারকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও অভিসম্পাত করা হতো। প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এই নীতির প্রবর্তন করেছিলেন। (সূত্র: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু শিয়া ইসলাম, মোজাম মোমেন, পৃষ্ঠা—২৮) মুয়াবিয়া ছিলেন সিরিয়ার গভর্নর। তিনি পূর্ববর্তী খলিফা উসমান ইবনে আফফানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণের অজুহাতে হযরত আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।  


  হযরত আলীকে নিয়মিত অভিসম্পাত রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষা হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। মুয়াবিয়ার নির্দেশে উমাইয়া খিলাফতের সকল মসজিদে হযরত আলী ও তার পরিবারকে অভিশাপ দেয়া শুক্রবার জুম্মার নামাজের অংশে পরিণত করা হয় বিশেষ করে কুফায়। কুফায় হযরত আলীর প্রতি সমর্থন ছিল জোরালো। মুয়াবিয়ার শাসনের প্রতি সুপ্ত বিরোধিতা দমন করা ছিল হযরত আলীকে অভিশাপ দেয়ার লক্ষ্য। আল—মুগীরাকে কুফার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর মুয়াবিয়া তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: 


কখনো আলীকে অভিশাপ দেয়া থেকে বিরত থাকবে না। হযরত উসমানের জন্য আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার জন্য দোয়া করবে। আলীর অনুসারীদের অপসারণ এবং তাদের অসম্মান করা থেকে বিরত থাকবে না। তাদের কোনো কথায় মনোযোগ দেবে না। হযরত উসমানের অনুসারীদের প্রশংসা করা থেকে পিছ পা হবে না। তাদেরকে তোমার কাছে টান। তাদের কথা শোন। আল্লাহ উসমানের প্রতি সন্তুষ্ট হন। (সূূত্র: দ্য সাকশেসন টু মুহাম্মদ: এ স্টাডি অব দ্য আর্লি ক্যালিফেট, উইলফ্রেড ম্যাডেলাং, পৃষ্ঠা—৩৩৪—৩৫)


  আনুকূল্য পাওয়ায় সব শহর ও বাজারে হযরত উসমানের ফজিলতের বর্ণনা সম্বলিত মিথ্যা ও বানানো হাদিসে পূর্ণ হয়ে যায়। হযরত উসমানের নামে মিথ্যা হাদিস বানিয়ে বর্ণনাকারীরা প্রচুর ধনসম্পদ হস্তগত করেছিল। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পেঁৗছে যে, স্বয়ং মুয়াবিয়া ভিত্তিহীন ফজিলত প্রচারে অসন্তুষ্ট হন এবং একবার এই মর্মে আদেশ জারি করেন যে, লোকেরা যেন উসমানের ফজিলত বর্ণনা থেকে বিরত থাকে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় খলিফার ফজিলত বর্ণনায় সচেষ্ট হয়। মুয়াবিয়া আরো আদেশ দেন যে, কোনো হাদিস বর্ণনাকারী আবু তোরাবের (হযরত আলী) ফজিলত বর্ণনা করলে অনতিবিলম্বে যেন পূর্ববর্তী দুই খলিফার নামেও অনুরূপ হাদিস তৈরি ও প্রচার করে। কারণ এ কাজটি আলীর অনুসারী শিয়াদের দলিলকে  মোকাবিলা করার জন্য অধিকতর কার্যকর। (শারহে নাহাজ আল—বালাগা, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা—১৫) 


     মারওয়ান ইবনে হাকাম ছিল তাদের একজন। মারওয়ান  বলতেন, উসমানকে আলী যতটা রক্ষা করেছে ততটা আর কেউ করেনি। তারপরও হযরত আলীকে লা’নত দেয়া ছিল তার মজ্জাগত। তার কাজের প্রতিবাদ করা হয় এবং বলা হয় যে, হযরত আলীর প্রতি এরূপ বিশ্বাসের পরও কেন তাকে গালমন্দ করা হচ্ছে? জবাবে মারওয়ান বললেন: আমাদের হুকুমাত তো হযরত আলীকে লা’নত, নিন্দা ও তিরস্কার করা ছাড়া সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত হবে না।


    তাদের কেউ কেউ হযরত আলীর পবিত্রতা এবং উজ্জ্বল অতীতে বিশ্বাস করতো। তা সত্ত্বেও পদমর্যাদা রক্ষায় তারা হযরত আলী ও তার বংশধরদের মিথ্যা অপবাদ দিতো। উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেন: আমার পিতা ছিলেন মদিনার গভর্নর এবং শক্তিশালী বক্তা ও বাগ্মী। তিনি পরিপূর্ণ সাহিত্য মান এবং বাক্যালঙ্কার সহকারে নামাজের খুৎবা দিতেন। কিন্তু শামের শাসকের পক্ষ থেকে পাঠানো নির্দেশ অনুসারে বাধ্য হয়ে তাকে নামাজের খুৎবায়  আলী ও তার বংশধরদের উপর লা’নত করতে হয়েছে। বক্তব্য এ পর্যায়ে পেঁৗছলে তার তোতলামি শুরু হতো এবং তার চেহারা অন্য রকম হয়ে যেতো। তিনি বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় খেই হারিয়ে ফেলতেন। আমি  আমার পিতার নিকট কারণ জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন: আমি আলী  সম্পর্কে যা জানি অন্যরা যদি তা জানতো তাহালে কেউ আমাদের অনুসরণ করতো না। আমি আলীর সুউচ্চ মর্যাদার কথা জেনেও তাকে মন্দ বলেছি। কারণ, আলে মারওয়ানের অবস্থান রক্ষা করার জন্য আমি এরূপ করতে বাধ্য। (সূত্র : শারহে নাহাজ আল—বালাগা, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা—১৫) 

 মুয়াবিয়া তার এক প্রজ্ঞাপনে নিজ গভর্নদের উদ্দেশে বলেছিলেন: যদি প্রমাণিত হয় যে, কেউ আলী ও তার বংশধরদের ভক্ত তবে তার নাম সরকারের চাকরিজীবীর তালিকা থেকে কেটে দিয়ে তার বেতন বন্ধ করবে এবং তাকে সমস্ত সুযোগ—সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবে। 


 আরেকটি প্রজ্ঞাপনে আরেক ধাপ এগিয়ে তিনি আদেশ দিয়েছিলেন যে, কেউ যদি আলীর খান্দানের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করে  তাহলে যেন তার নাক ও কাট কেটে দেয়া হয় এবং তার ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয়া হয়।


  মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল—এসকাফি ‘আন—নাকজু আলাল উসমানিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন: ‘উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসকরা হযরত আলীর ফজিলতের ব্যাপারে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর ছিলেন এবং তার ফজিলত জনগণের মধ্যে বিস্তারে বাধা  দেয়ার জন্য ফকীহ, মুহাদ্দিস ও বিচারকদের ডেকে আদেশ দিতেন যে, তারা কখনো যেন হযরত আলীর ফজিলত বর্ণনা না করেন। ফলে একদল মুহাদ্দিস  হযরত আলীর মানাকিব ও ফজিলতকে রূপাকারে বর্ণনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং এভাবে বলতেন যে, কুরাইশের এক  ব্যক্তি এমন করেছিলেন। (সূত্র : শারহে নাহাজ আল—বালাগা, একাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা—৪৪—৪৫) 


   হযরত আলী ও মুয়াবিয়া ৬৫৭ সালে সিফফিনের যুদ্ধে লড়াই করেন। এ যুদ্ধ ছিল অমীমাংসিত এবং ৬৬১ সালে হযরত আলীর হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরের শত্রু ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড মুয়াবিয়ার খিলাফতের পথ খুলে দেয়। মুয়াবিয়ার রাজত্বের অবসান ঘটলেও হযরত আলীকে গালি দেয়ার প্রথা চলতে থাকে এবং ৬০ বছর পর খলিফা দ্বিতীয় উমর ইবনে আবদুল আজিজ হযরত আলীকে অভিশাপ দেয়ার রাষ্ট্রীয় নীতি বাতিল করেন। তিনি জুমার খুৎবা থেকে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত আহলে বাইতের প্রধান সদস্য হযরত আলীকে অভিসম্পাতের অংশটি পরিবর্তন করেন এবং পবিত্র কুরআনের এ আয়াতটি পাঠের আদেশ দেন: ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সুবিচার এবং সৌজন্যের নির্দেশ দেন। আর নির্দেশ দেন নিকটাত্মীয়দের দান করার আর বারণ করেন অশ্লীল ঘৃণ্য কাজ ও সীমা লংঘন করতে । তিনি তোমাদেরকে সদুপদেশ দেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সূরা— নাহল, আয়াত—৯০)।


   কিন্তু তার শাসনকাল সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এ অভিশপ্ত নীতি বাতিল উমাইয়াদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে কোনো পরিবর্তন বয়ে আনতে পারেনি। ফলে হযরত আলীর উপর অভিসম্পাত বর্ষণের এই চর্চা উমাইয়া শাসনের পতনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই নীতিটি একটি প্রোপাগাণ্ডামূলক কৌশল ছিল এবং একইসঙ্গে এই নীতি উমাইয়াদের প্রতি হুমকিস্বরূপ হযরত আলীর অনুসারীদের উস্কানিদান, চিহ্নিতকরণ ও দমনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতো। 


  তিরমিজী শরীফের ৩৭২৪ নম্বর হাদিস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুয়াবিয়া হযরত আলীকে অভিসম্পাত করতেন। এ হাদিসের শিরোনামে বলা হয়: মুনাফিকরা ‘আলীর (রা.) প্রতি বিদ্বেষী। আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রহ.) থেকে তার পিতার সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান (রা.) সা’দকে (রা.) আমির নিযুক্ত করে বললেন, আবু তুরাবকে গালি দিতে তোমায় বাধা দিল কিসে? সা’দ (রা.) বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তিনটি কথা মনে রাখব, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে সময় পর্যন্ত আমি তাকে গালমন্দ করব না। ঐগুলোর একটি কথাও আমার নিকটে লাল রংয়ের উট লাভের তুলনায় বেশি প্রিয়। (এক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি আলীর (রা.) লক্ষ্যে একটি কথা বলতে শুনেছি, যে সময় তিনি তাকে মদিনায় তার জায়গায় নিয়োগ করে কোনো এক যুদ্ধাভিযানে যান। সে সময় আলী (রা,) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে কি রেখে যাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: হে আলী! তুমি কি                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                     এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসার (আ.) নিকট হারুনের (আ.) মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরবর্তীতে কোনো নবী নেই।


(দুই) আমি খায়বরের (যুদ্ধাভিযানের) দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: এমন এক লোকের হাতে আমি (যুদ্ধের) পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ তা’আলা ও তার রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ তা’আলা ও তার রাসূলও তাকে মুহাব্বাত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রত্যেকে তা লাভের আশায় অপেক্ষা করতে থাকলাম। তিনি বললেন: তোমরা আলীকে আমার নিকটে ডেকে আন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার কাছে এসে হাজির হন, তখন তার চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই চোখে স্বীয় মুখ নিঃসৃত লালা লাগিয়ে দেন এবং তার হাতে পতাকা অর্পণ করেন। আল্লাহ তা’আলা তাকে বিজয়ী করলেন।


(তিন) এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) আমরা আহবান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে.....‘— (সূরা আল ইমরান—৬১)। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হোসেনকে (রা.) ডাকেন (এবং তাদেরকে নিয়ে খোলা ময়দানে গিয়ে) বললেন: হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার পরিবার—পরিজন।’


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَّرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا تُرَابٍ قَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاَثًا قَالَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ وَخَلَفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخَلِّفُنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ ‏"‏ لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ ‏"‏ ادْعُ لِي عَلِيًّا ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَاهُ وَبِهِ رَمَدٌ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ فَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ ‏.‏ وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ‏:‏ ‏(‏ قلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ ‏)‏ الآيَةَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏


তৃতীয় খলিফা হযরত উসমানের বিতর্কিত নীতির প্রতিক্রিয়ায় বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়। বিদ্রোহের সময় ৬৫৬ সালে তাকে শহীদ করা হয়। তারপর মদিনাবাসী ও বিদ্রোহীরা হযরত আলীকে খলিফা নির্বাচিত করে এবং সর্বস্তরের অবহেলিত জনগোষ্ঠী তার চারপাশে একত্রিত হয়। (সূত্র: দ্য অরিজিন্স এন্ড আর্লি ডেভেলপমেন্ট অব শিয়া ইসলাম, সৈয়দ হোসেন মুহাম্মদ জাফরী, পৃষ্ঠা—৬৩) তবে কুরাইশ গোত্রের প্রভাবশালী সদস্যদের মধ্যে হযরত আলীর সমর্থন ছিল সীমিত। কারণ তাদের অনেকেই খিলাফতের আশা করেছিলেন। কুরাইশদের মধ্যে রসূলের (সা.) স্ত্রী হযরত আয়েশা, সাহাবী তালহা ও জুবায়ের হযরত আলীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। (সূত্র: সাকশেসন টু মুহাম্মদ, উইলফ্রেড ম্যাডেলাং, পৃষ্ঠা—১০৭) একইভাবে সিরিয়ার গভর্নর ও উসমানের আত্মীয় মুয়াবিয়াও হযরত আলীর খিলাফতের বৈধতা অস্বীকার করেন। তিনি উসমানের খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের দাবি করেন। 


  হযরত আলী ৬৫৬ সালে উষ্ট্রের যুদ্ধে হযরত আয়েশা, তালহা ও জুবায়েরের বিদ্রোহ দমন করেন। পরবর্তী বছর সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার সঙ্গে লড়াই হয়। সেখানে মুয়াবিয়া বর্শার ডগায় কুরআন গেঁথে সালিশির প্রস্তাব দেন এবং হযরত আলীর সৈন্যদের যুদ্ধবিরতির ফাঁদে ফেলে দেন। এভাবে হযরত আলী ও মুয়াবিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সালিশ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিকে কুরআনের চেতনা অনুসারে বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর সালিশি ব্যর্থ হলে ৬৫৯ সালে মুয়াবিয়া সিরীয়দের সমর্থন নিয়ে নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন এবং হযরত আলীর অনুসারীদের উপর হামলা শুরু করেন। অন্যদিকে, সালিশিতে রাজি হওয়ায় চরমপন্থী খারিজীরা হযরত আলীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং তাকে, তার অনুসারী ও মুয়াবিয়াপন্থী সিরিয়াবাসীদের কাফির ঘোষণা করে। তারা এসব কথিত কাফিরের রক্তকে হালাল গণ্য করে এবং বহু হত্যাকাণ্ড চালায়। হযরত আলী ৬৫৮ সালে নাহরাওয়ান যুদ্ধে খারিজীদের দমন করলেও পরের বছর খারিজী গুপ্তঘাতক ইবনে মুলজাম তাকে শহীদ করে। তারপরই মুয়াবিয়া ইসলামী খিলাফত ধ্বংস করে রাজতন্ত্র কায়েম করেন। তিনি হলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম রাজা।


  খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর মুয়াবিয়া হযরত আলীকে গালি দেয়া বাধ্যতামূলক করেন। এ গালি মুসলিম অঞ্চলের সকল মসজিদে জুমার খুৎবা এবং সমষ্টিগত নামাজের অংশ হয়ে যায়। শিয়াঘেঁষা ইতিহাসবিদ ইয়াকুবী ও মাসউদি এবং সুন্নি ইতিহাসবিদ আল—তাবারি ও আবুল ফিদার বর্ণনায় হযরত আলীকে অভিশাপ দেয়ার প্রমাণ খঁুজে পাওয়া যায়। তাবারির মতে, মুয়াবিয়া বিশেষত কুফার গভর্নর মুগীরাকে হযরত আলীকে গালি দিতে এবং তার অনুসারীদের হয়রানি করতে আদেশ দেন। তবে একইসঙ্গে তিনি হযরত উসমানের প্রশংসা করতে বলেন। মুগীরার পুত্রের এক বর্ণনা মতে, মুগীরা মুয়াবিয়াকে এই প্রথা পরিত্যাগে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মুয়াবিয়া প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘মুহাম্মদের (মক্কার কাফেরদের মাঝে ইবনে আবু কবশা নামে পরিচিত) পরে কারো দীর্ঘস্থায়ী খ্যাতি থাকবে না।’ তারপর গভর্নর তার ছেলেকে বলেন, এখন থেকে তিনি মুয়াবিয়াকে একজন কাফের মনে করেন। সুন্নি ইতিহাসবিদ জুবায়ের ইবনে বাক্কারের বর্ণনায় তার সত্যতা খঁুজে পাওয়া যায়। এই বিবরণটি নির্ভরযোগ্য না হলেও এতে প্রাথমিক সুন্নি ইতিহাসবিদের মধ্যে মুয়াবিয়ার প্রতি মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। (সূত্র: সাকশেসন টু মুহাম্মদ, উইলফ্রেড ম্যাডেলাং, পৃষ্ঠা—৩৩৫) 


  সম্রাট মুয়াবিয়া ক্ষমতায় বসেই সাম্রাজ্যের প্রতিটি মসজিদে আলীকে লা’নত করে জুমা, ঈদ ও হজ্জের খুৎবা চালু করেন। আলীকে গালমন্দ দিয়ে চালু করা খুৎবা ৪১ হিজরি সাল থেকে আরম্ভ হয়ে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে চলে। অর্থাৎ ৯৯ হিজরি পর্যন্ত চালু থাকে। উমর ইবনে আবদুল আজিজ এ প্রথার পরিবর্তন করেন। ৬০ বছর ধরে যাকে খুৎবায় লা’নত ও অভিসম্পাত করা হয়, সে কি খলিফায়ে রাশেদ ছিলেন? যারা রাশেদ খলিফাকে গালাগালি দিয়ে ও গালি শুনে নামাজ আদায় করেছিল, তারা কি আল্লাহ ও তার আখেরী নবী (সা.)—এর অনুসারী মু’মিন ছিল? (সূত্র: এ হ’লো ইসলাম, ইমামুদ্দিন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবিব, পৃষ্ঠা—২৮৩)


আবু বকর ও উমরের অনুসারী পরবতীর্ সুন্নি খলিফারা ষাট বছর পর্যন্ত আলীকে খলিফা মানা তো দূরের কথা, তাকে জুমা, ঈদ, ও হজ্জের খুৎবায় গালি ও লা’নত করতেন। যাকে জুমা, ঈদ ও হজ্জে সুন্নিরা ষাট বছর যাবৎ গালি দিয়েছে, সেই আলীকে কি তারা মুসলিম মনে করতেন? এ গালির প্রচলনকারী যদি মুসলিম হয় তাহলে আলী কাফের ছিলেন। আর যদি আলী চতুর্থ খলিফা হয়ে থাকেন তাহলে কি মুয়াবিয়া কাফের ছিলেন? নাকি উভয়ই মুসলিম বা উভয়ই কাফের ছিলেন? (সূত্র: এ হ’লো ইসলাম, ইমামুদ্দিন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবিব, পৃষ্ঠা—২৮৩)


কবি নজরুলের ‘মুহাররাম’ কবিতায় হযরত আলীকে গালি দেয়ার প্রমাণ খঁুজে পাওয়া যায়। কবি লিখেছেন: 


এই ধূর্ত ও ভোগীরাই তলোয়ারে বেঁধে কোরআন,

আলীর সেনারে করেছে সদাই বিব্রত পেরেশান!

এই এজিদের সেনাদল শয়তানের প্ররোচনায়

 হাসান হোসেনে গালি দিতে যেত মদিনা ও মক্কায়।

এরাই আত্মপ্রতিষ্ঠা লোভে মসজিদে মসজিদে

 বক্তৃতা দিয়ে জাগাত ঈর্ষা হায় স্বজাতির হৃদে।

ঐক্য যে ইসলামের লক্ষ্য, এরা তাহা দেয় ভেঙে। 

এই ভোগীদের জুলুমে! ইহারা এজিদি মুসলমান,

এরা ইসলামি সাম্যবাদের করিয়াছে খান খান! 

এই ভোগীদের জুলুমে! ইহারা এজিদি মুসলমান,

এরা ইসলামী সাম্যবাদের করিয়াছে খান খান!


   এই গালি দেয়ার প্রথা প্রায় ষাট বছর ধরে চলে এমনকি উমাইয়া খলিফারা হজ্জ পালনের সময় আরাফাতের দিনেও হযরত আলীকে অভিসম্পাত করতেন। (সূত্র: সাকশেসন টু মুহাম্মদ, উইলফ্রেড ম্যাডেলাং, পৃষ্ঠা—৩৩৪) হযরত আলীর স্ত্রী ফাতিমা ও তাদের পুত্র ইমাম হাসান ও হোসেনকেও গালি দেয়া হতো। অষ্টম উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় উমর ইবনে আবদুল আজিজ এই প্রথা বন্ধ করে পরিবর্তে কুরআনের ৫৯:১৫ ও ১৬:৯০ আয়াত পড়ার নির্দেশ দেন। দশম খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকও পরবর্তীতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং আরাফাতে হযরত আলীকে অভিসম্পাত করা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু এতে হযরত উসমানের নাতি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ প্রতিবাদ জানান ও হযরত আলীকে গালি দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। 


 শিয়ারা এই প্রথাকে প্রতিষ্ঠিত ও সুদূরপ্রসারী মনে করলেও অধিকাংশ সুন্নি আলেম তা অস্বীকার করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আ’লা মওদুদী হযরত আলীকে অভিশাপ দেয়ার রীতির সত্যতা স্বীকার করতেন। 


‘হযরত মুয়াবিয়ার শাসামলে আরেকটি নিকৃষ্টতম বেদায়াত  চালু হয়। তিনি নিজে এবং তার নির্দেশে তার গভর্নরগণ মিম্বরে  দাঁড়িয়ে  খুতবায় হযরত আলী (রা.)—এর ওপর প্রকাশ্যে গালমন্দ শুরু করেন। এমনকি মসজিদে নববীতে রসূলের মিম্বরে দাঁড়িয়ে একেবারে নবীজীর রওজার সামনে হুজুরের প্রিয়তম সাথী ও আত্মীয়দের গালি দেয়া হতো। আর হযরত আলী (রা.)—এর সন্তান ও তার নিকটতম আত্মীয়গণ নিজেদের  কানে এসব শুনতেন। কারো মৃত্যুর পর তাকে গালি দেয়া শরিয়ত তো দূরের কথা, মানব সুলভ চরিত্রের পরিপন্থী। বিশেষ করে খুতবা এভাবে কলঙ্কিত করা দ্বীন ও নৈতিকার দৃষ্টিতে আরো জঘন্য কাজ।’ (সূত্র: খেলাফত ও রাজতন্ত্র, সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী, পৃষ্ঠা—১৭১)


 ইতিহাসবিদ হুসাইন এম. জাফরী এ রীতিকে প্রোপাগাণ্ডামূলক কৌশল বলে মনে করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জার্মান বিশেষজ্ঞ উইলফ্রেড ম্যাডেলাং বিশ্বাস করেন যে, হযরত উসমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে মুয়াবিয়ার শাসনকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল। হযরত উসমানের হত্যাকাণ্ডের জন্য মুয়াবিয়া প্রকাশ্যে হযরত আলীকে দোষারোপ করতেন। সুন্নি ইতিহাসবিদ ইয়াহিয়া আল—বালাজুরি ও ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় এসেছে যে, উমাইয়া নেতা মারওয়ান ইবনে হাকাম হযরত আলীর প্রপৌত্র ও শিয়াদের চতুর্থ ইমাম আলী আস—সাজ্জাদকে বলেছিলেন যে, হযরত আলী হযরত উসমানের প্রতি সবচেয়ে সহনশীল ছিলেন। তবু তাকে গালি দেয়া হয়েছে। হযরত আলীকে গালি দেয়া না হলে উমাইয়া শাসন টিকতো না। এছাড়াও এই প্রথা সম্ভবত হযরত আলীর সমর্থকদের উস্কানি দিয়ে চিহ্নিত করা এবং অতঃপর দমন করার কৌশল ছিল। এ কৌশলের প্রথম ভুক্তভোগীদের অন্যতম ছিলেন সাহাবী হুজর ইবনে আদি। ইসলামবিদ মারিয়া ডাকাকের মতে, হযরত আলী তার সমর্থকদের চাপের মুখে তাকে অভিশাপ দেয়াকে মার্জনীয় মনে করতেন। কিন্তু স্পষ্টতই তিনি তাদের তার থেকে বিচ্ছিন্ন (বারাআত) হতে দিতেন না। 


  হুজর ছিলেন রসূলের একজন সাহাবী ও হযরত আলীর একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি কুফার কিন্দা গোত্রের বিখ্যাত সদস্য ছিলেন। মুয়াবিয়ার ক্ষমতারোহণের পর তিনি তার মসজিদে হযরত আলীকে গালি দেয়ার নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। গভর্নর মুগীরা তা সহ্য করতেন। কিন্তু ৬৭১ সালে তার উত্তরসূরি মুয়াবিয়ার জারজ ভাই জিয়াদ ইবনে আবিহী তা সহ্য করেননি। জিয়াদ হুজরকে গ্রেফতার করে মুয়াবিয়ার কাছে পাঠান। মুয়াবিয়া রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে বিচার করে কয়েকজনসহ হত্যা করেন। (সূত্র: দ্য রিলিজিও—পলিটিক্যাল ফ্যাকশন ইন আর্লি ইসলাম, জুলিয়াস ওয়েলহাউজেন, পৃষ্ঠা—১৯০) মৃত্যুর আগে তাকে জীবন বাঁচাতে হযরত আলীকে গালি দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। এই ঘটনা ছিল সম্ভবত ইসলামের ইতিহাসে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রথম বিচারিক হত্যাকাণ্ড এবং এটি তৎকালীন সমাজে ব্যাপক নিন্দিত হয়। এমনকি হযরত আলীর প্রতি শত্রু মনোভাবাপন্ন হযরত আয়েশাও হুজরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সমালোচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে সুন্নি মনীষী হযরত হাসান বসরি এই হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য অপরাধ বলেন। তবে প্রাচীন ইতিহাসবিদদের মধ্যে হুজর সম্পর্কে মতভেদ আছে। সুন্নি ইতিহাসবিদ ইবনে হিশাম তাকে অপছন্দ করলেও শিয়া মনোভাবাপন্ন আবু মিখনাফ ও মাসউদি তাকে সহানুভূতির চোখে দেখেন। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী তার ‘খেলাফত ও রাজতন্ত্র’ বইয়ের ১৬১—১৬২ পৃষ্ঠায় সাহাবী হুজর বিন আদীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছেন।   


 আধুনিক ইতিহাসবিদ উইলফ্রেড ম্যাডেলাং ও মুসলিম লেখক তারেক ফাতাহ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন যদিও জুলিয়াস ওয়েলহাউজেন মুয়াবিয়ার পক্ষে মত দেন। উমাইয়া আমলে বহু শিয়াকে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে হযরত আলীকে গালি দিতে হতো। তাদের একজন ছিলেন হাদিস বর্ণনাকারী আতিয়াহ ইবনে সা’দ। ৭০১ সালের দিকে উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসূফ ইবনে আশআসের বিদ্রোহ দমন করলে তিনি সিন্ধুতে পালিয়ে যান। সেখানে তাকে উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম গ্রেফতার করেন এবং  গভর্নর হাজ্জাজের আদেশে হযরত আলীকে গালি দিতে বলেন। তিনি অস্বীকার করলে তাকে প্রহার করা হয়। তবে তিনি বেঁচে যান। (সূত্র: দ্য রিলিজিও—পলিটিক্যাল ফ্যাকশন ইন আর্লি ইসলাম, জুলিয়াস ওয়েলহাউজেন, পৃষ্ঠা—১০০) 


কারবালার টাইমলাইন - https://www.facebook.com/share/p/CrdZrp1prCH77ksk/?mibextid=oFDknk

-

কারাবালা নিয়ে নাসেবীদের প্রোপাগান্ডার জবাব - https://www.facebook.com/share/p/D2xxbUEiKWbnwxFL/?mibextid=oFDknk

-

কারবালা ও শোকাবহ মুহররম: উম্মতে মুহাম্মদী বনাম উম্মতে মুয়াজিদীর অবস্থান - https://www.facebook.com/share/p/GfFSCpGcQ4GTrX2y/?mibextid=oFDknk

-

কারবালার শহীদদের সঠিক সংখ্যা কত ছিল? - https://www.facebook.com/share/p/NPQ7YDngygkc4bw3/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের দাদা আবু সুফিয়ান বিষয়ক জরুরি কিছু তথ্য  https://www.facebook.com/share/p/rViiL2DGxWWBc4rH/?mibextid=oFDknk

-

হযরত আলী (র.) ও আমির মুয়াবিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে আহলে সুন্নত আলিমদের মতামত - https://www.facebook.com/share/p/pRpfrCARw9yYCecs/?mibextid=oFDknk

-

রসূল (স.) এর মিম্বরে বনু উমাইয়ার বানর নাচ ও অপরাজত্বের হাজার মাস - https://www.facebook.com/share/p/rCFprFmVLTPxjEbA/?mibextid=oFDknk

-

খেলাফত ও রাজতন্ত্র - https://www.facebook.com/share/p/a4qDGwAFrPD7Mhuf/?mibextid=oFDknk

-

আবদুল্লাহ বিন উমর (র.) কি এজিদের বাবার প্রশংসা করে সত্যি কিছু বলেছেন?

https://www.facebook.com/share/p/3PLWiCRoKnh52BDR/?mibextid=oFDknk

-

বহুধা বিভক্ত উম্মাহ এবং মুক্তির তিন পথ

https://www.facebook.com/share/p/Br6761RJJy9xob4F/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের মা কি খ্রিষ্টান ছিলেন?

https://www.facebook.com/share/p/Br6761RJJy9xob4F/?mibextid=oFDknk

-

এজিদকে ক্ষমতায় বসাতে ইবনে উমরকে মুয়াবিয়ার হুমকি 

https://www.facebook.com/share/p/5Wmrs2H7Gu4cpZAA/?mibextid=oFDknk

-

প্রিয় নবীজির নয়টি ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে কারবালা ট্রাজেডি

https://www.facebook.com/share/p/rxTMHp15pnof3ER8/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের পুত্র মুয়াবিয়ার ক্ষমতারোহণ এবং নিজের পিতার অপরাধ বিষয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ 

https://www.facebook.com/share/p/bLMKiCijtvP2QWPA/?mibextid=oFDknk

-

কিভাবে মরেছিল কারবালার মাষ্টার মাইন্ড এজিদ বিন মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান

https://www.facebook.com/share/p/bLMKiCijtvP2QWPA/?mibextid=oFDknk

-

কারবালাসহ আহলে বাইতের উপর জুলুম ও হত্যার ষ্টিম রোলার: কি বলে গেছেন নবীজি (স.) ?

https://www.facebook.com/share/p/4EUiun8gV4FYKzpw/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের দল ত্যাগকারী কারবালার শহীদদের তালিকা 

https://www.facebook.com/share/p/1KbZYKpr7dQ2z7Pa/?mibextid=oFDknk

-

জালিম বনু উমাইয়াদের সেবাদাস পাষাণ নাসেবী হাজ্জাজের অদ্ভুত ভন্ডামি ও করুণ পরিণতি 

https://www.facebook.com/share/p/HENU747Fej1V8cJb/?mibextid=oFDknk

-

ইমাম হুসাইনের খুনী হতভাগা উবাইদুল্লাহর নাকে সাপ ঢুকার কাহিনী 

https://www.facebook.com/share/p/JCFHs6DvC9sMswtt/?mibextid=oFDknk

https://www.facebook.com/share/p/qeLbCeEKkZCJj9wU/?mibextid=oFDknk

-

কারবালার ইতিহাসের সারসংক্ষেপ এবং এজিদের অপরাধের খতিয়ান 

https://www.facebook.com/share/p/SLQcLUPDFZrhS6iG/?mibextid=oFDknk

-

হামযা, আলী, ইসমাঈল, উসামা, মুয়াবিয়া ও মরওয়ান প্রভৃতি নামের অর্থ ও প্রসঙ্গ কথা

https://www.facebook.com/share/p/wruxYBtBmSTCYUtE/?mibextid=oFDknk

-

আহলে বাইত ও সাহাবীদের সমালোচনার বিধান 

https://www.facebook.com/share/p/CqVx811Z9sy9KmVk/?mibextid=oFDknk

-

সহীহ বোখারীর হাদীসের আলোকে উমাইয়া বাদশা মুয়াবিয়ার দুঃশাসন 

https://www.facebook.com/share/p/Jq886o8oS1QKxU6b/?mibextid=oFDknk


আমীর মুয়াবিয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় খলীফা উমর (র.) এর দূরদৃষ্টি ও চরম ভাষায় তাকফীরের বর্ণনা  https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=920625600070952&id=100063705624380&mibextid=Nif5oz

-

আমীর মুয়াবিয়ার মানাকিব সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোর পোস্টমর্টেম 

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=923538329779679&id=100063705624380&mibextid=Nif5oz

-

নাসেবীদের উকিল মহোদয়ের যুক্তির উপর প্রশ্ন 

https://www.facebook.com/share/p/Ut7gPZvvgYyHzpb3/?mibextid=oFDknk

-

তাওহীদ ও তাকফীরি/ইবলীসি তাওহীদ এবং প্রিয় নবীর আশঙ্কা 

https://www.facebook.com/share/p/onntq2h5bX8gMycF/?mibextid=oFDknk

-

পরিভাষার ছাহাবী ও ফজীলতের ছাহাবী 

https://www.facebook.com/share/p/Coae3sGvTSk76HHX/?mibextid=oFDknk

-

আল্লামা যাহাবীর দৃষ্টি ও বর্ণনাতে এজিদ বিন মুয়াবিয়া ও তার মৃত্যু 

https://www.facebook.com/share/p/cfSAt89nD8jbwgcS/?mibextid=oFDknk

-

মুনাফিকদের হযরত আলী বিদ্বেষের ভয়াবহতা

https://www.facebook.com/share/p/6B3ETUNa2ziGDFQ3/?mibextid=oFDknk

-

মুনাফিক চেনার ২৫টি কোরআনী সূত্র 

https://www.facebook.com/share/p/NNhJ1gggQq9gyPx3/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের শাসন নিয়ে আবদুল্লাহ বিন উমরের অবস্থান ও ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিন খলদুনের সৃষ্ট বিভ্রান্তির অপনোদন

https://www.facebook.com/share/p/vMD5ew8m3zCKhDKB/?mibextid=oFDknk

-

ফিতনা, ফতোয়া, ফিসক ও আল্লাহর বিচার

https://www.facebook.com/share/p/KmYR7RPfXpqPEcPf/?mibextid=oFDknk

-

সূফী মিজান সাহেবের একটি অজ্ঞতা এবং মাকামে সাহাবা প্রসঙ্গে সাফ কথা

https://www.facebook.com/share/p/bu74mjoDt9r5LMaR/?mibextid=oFDknk

-

মুহাদ্দিসগণের অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে ৭৩ ফেরকার হাদীসটি কতটুকু শুদ্ধ 

https://www.facebook.com/share/p/JbrFveqb7K6RAoni/?mibextid=oFDknk

-

গদীরে খুম ডিক্লারেশন কি এবং কেন এটির এত বিশেষ গুরুত্ব 

https://www.facebook.com/share/p/jPh3jfjQVJWnaEkq/?mibextid=oFDknk

-

এজিদকে বাইয়াত দানকারী সাহাবী আবদুল্লাহ বিন উমরকে নিয়ে প্রশ্নের দলীল ভিত্তিক উত্তর 

https://www.facebook.com/share/p/zJftebLqHMLwb3i7/?mibextid=oFDknk

-

সাহাবীদের মর্যাদা ও 'সত্যের মাপকাঠি তত্ত্ব' নিয়ে ধর্মজীবিদের সৃষ্ট বোগাস এটি একটি তত্ত্বের পোস্টমর্টেম 

https://www.facebook.com/share/p/LmXhtUd6GEmMGPpW/?mibextid=oFDknk

-

গদীরে খুম ডিক্লারেশন ও হাদীসে কিরতাসের ব্যাখ্যা 

https://www.facebook.com/share/p/DGgjkhpczFmNmFA1/?mibextid=oFDknk

-

সাইয়েদুল মুরসালীনের আয়ের উৎসের সন্ধানে 

https://www.facebook.com/share/p/zzbe34dyfa4d8KzK/?mibextid=oFDknk

-

হযরত আলী ও ফাতেমা কি সত্যি খলীফাদের কাছে রসূলুল্লাহ (স.) এর মীরাস চেয়েছিলেন?

https://www.facebook.com/share/p/sYFRLA6cfTUQX738/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে যে কৌশলে মারা হয়েছিল ইমাম হাসানকে (র.)

https://www.facebook.com/share/p/yigMAHjrTwRcn4TM/?mibextid=oFDknk

-

মুরতাদ হয়ে যাওয়া দুই কাতিবে ওহীর গল্প-স্বল্প

https://www.facebook.com/share/p/8miAKr22so5PusKm/?mibextid=oFDknk

-

নাসেবী বিরোধী যোদ্ধা আম্মারের প্রতি জান্নাতের আকর্ষণ বিষয়ক হাদীস

https://www.facebook.com/share/p/V7MhDR8k5QVcJaq3/?mibextid=oFDknk

-

ফাদাক নিয়ে বিরোধের আসল রহস্য উন্মোচন 

https://www.facebook.com/share/p/62fhBLNUaM3WhxJv/?mibextid=oFDknk

-

নাসেবীদের ডিফেন্স মিনিস্টার ইবনে তাইমিয়ার টুকরো গল্প 

https://www.facebook.com/share/p/nVQiZU9r2N2waJpL/?mibextid=oFDknk

-

হযরত মুয়াবিয়ার সহযোগী রাজনীতিক আমর ইবনুল আসের ইসলাম গ্রহণের গল্প 

https://www.facebook.com/share/p/wudiewdkKrnCxtuR/?mibextid=oFDknk

-

স্টুপিডদের সাহাবা বিদ্বেষ তত্ত্ব ও পাগলের মাথা খারাপের গল্প

https://www.facebook.com/share/p/DQAenNEK6n4bjVsN/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের বাবা আমির মুয়াবিয়াকে মুনাফিক বলা যাবে কি?

https://www.facebook.com/share/p/LBFC93rfDehQBkaj/?mibextid=oFDknk

-

আকাবিরের মুয়াবিয়া বিদ্বেষ বনাম পিচ্চিদের এজিদপ্রেম

https://www.facebook.com/share/p/VXbtfdio6srJSTuV/?mibextid=oFDknk

-

ইবনে সাবা নামে আদৌ কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিল কি?

https://www.facebook.com/share/p/oxRvFFGp5FpPz7eA/?mibextid=oFDknk

-

মাওলা আলী, কোরআনের সঙ্গ, আল্লাহ ও রসূলের ভালোবাসা এবং লাল উট

https://www.facebook.com/share/p/F5rZWbUaJZmoBW4a/?mibextid=oFDknk

-

মুয়াবিয়াসহ ভোগবিলাসী রাজাদের বংশধররা এখন কোথায় এবং কেমন আছে?

https://www.facebook.com/share/p/SYfva7cmq7iS2pPy/?mibextid=oFDknk

-

মুমিনদের দুই মামার আদর্শিক দ্বন্দ্বের গল্প

https://www.facebook.com/share/p/yCMaCLMMXBtfpGcQ/?mibextid=oFDknk

-

নিফাকের রাজতন্ত্র ও বড়দের মানুষ চেনার ভুল

https://www.facebook.com/share/p/HVwS7Jyksg7XsSZh/?mibextid=oFDknk

-

তাগুত আবদুল মালিক, মহাখুনী হাজ্জাজ, বিপ্লবী আবদুল্লাহ বিন যুবাইর, কল্যাণকামী আবদুল্লাহ বিন উমর, দুঃসাহসী আসমা বিনতে আবু বকর এবং মুনাফিকদের মুমিনকে ধর্মদ্রোহী বলার সংস্কৃতি 

https://www.facebook.com/share/p/HVwS7Jyksg7XsSZh/?mibextid=oFDknk

-

তাদের এত সালাম ও এত লানত কোথায় যায়?

https://www.facebook.com/share/p/XZR2QiDgCCbzKa5P/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের উত্তরসূরী তৃতীয় নাসেবী রাজা মরওয়ানের মৃত্যুর মজার কাহিনী 

https://www.facebook.com/share/p/krTYUaaUTQnz9q4h/?mibextid=oFDknk

-

মুয়াবিয়া ও এজিদের ফ্যাসিবাদী শাসনের ওয়ারিশ এজিদ ও হাসিনা

https://www.facebook.com/share/p/8og228or5oDpsxNM/?mibextid=oFDknk

-

খেলাফত ও এমারতের হাকীকত

https://www.facebook.com/share/p/v7fM1tauDxub7otY/?mibextid=oFDknk

-

মুয়াবিয়া ও হাসিনার মিল-অমিলের ক্ষেত্রগুলো 

https://www.facebook.com/share/p/GcWV7cmfPpV25QfH/?mibextid=oFDknk

-

বিশিষ্ট দেওবন্দী আলেমদের দৃষ্টিতে এজিদের বাবার চরিত্র 

https://www.facebook.com/share/p/vTnnmihEwUEao13W/?mibextid=oFDknk

-

এজিদকে বাইয়াত দিতে মুয়াবিয়ার ইবনে উমরকে এক লক্ষ দিরহাম ঘুষ!

https://www.facebook.com/share/p/g9a21oyHivL42YBR/?mibextid=oFDknk

-

এজিদ ও তার বাবা কর্তৃক ইমাম হাসানকে হত্যার সহীহ হাদীস 

https://www.facebook.com/share/p/qni4QK1j1hAmePsZ/?mibextid=oFDknk

-

ছাহাবীদের গালি দেওয়া সম্পর্কিত হাদীসটির শানে নুজুল

https://www.facebook.com/share/p/pDuypxQkZM7wuYQq/?mibextid=oFDknk

-

জাহান্নামে সাহাবী মুয়াবিয়ার বিশেষ প্রিজন 

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=888197719980407&id=100063705624380&mibextid=Nif5oz

-

ছাহাবীর পরিচয়, সংখ্যা, প্রকারভেদ, স্তর ও ফজীলত 

https://www.facebook.com/share/p/RNWc8zi1kgbEDRYQ/?mibextid=oFDknk

-

আলিম ও ধর্মজীবির মর্যাদার পার্থক্য 

https://www.facebook.com/share/p/NqzSwvDkcfR23zKr/?mibextid=oFDknk

-

হযরত উসমান (র.) প্রসঙ্গে জাহিল ও নির্বোধ সাহাবা প্রেমীদের অপারেশন ক্লিনহার্ট

https://www.facebook.com/share/p/omGKMFVrFVqJcibE/?mibextid=oFDknk

-

সহীহ হাদীসের আলোকে শিয়াদের ১২ ইমাম তত্ত্ব 

https://www.facebook.com/share/p/znt5ZLn1vfBEQpDP/?mibextid=oFDknk

-

ইরানে ইমামী শিয়াদের শাসন ও ইসলামী বিপ্লবের ইতিবৃত্ত 

https://www.facebook.com/share/p/8jYnfVmZ9qc2as2H/?mibextid=oFDknk

-

তাকফীরি শিয়া ইয়াসির আল-খবীসের গল্প 

https://www.facebook.com/share/p/rQTWpSdgcDVowT1f/?mibextid=oFDknk

-

ইরানী সাহাবী সালমান ফারেসীর অসাধারণ যুদ্ধ জ্ঞান এবং সহীহ হাদীসে বর্ণিত পার্সিয়ান মুসলমানদের ফজীলত 

https://www.facebook.com/share/p/X6YFyZ8RKqUyPSg2/?mibextid=oFDknk

-

শিয়া বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তর 

https://www.facebook.com/share/p/kYW9RXux5tqdpDm8/?mibextid=oFDknk

-

ইরান বিদ্বেষী দেশীয় খররাসদের নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি 

https://www.facebook.com/share/p/G3WBpy4Lp2pPgb68/?mibextid=oFDknk

-

শিয়া ও ইরান নিয়ে কিছু কথা 

https://www.facebook.com/share/p/WfLz2fX8Pz3FJyC5/?mibextid=oFDknk

-

লক্ষ্যে স্থির থাকার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের প্রতি একটি সুপরামর্শ 

https://www.facebook.com/share/p/b1zxHhkhQBNUfKRJ/?mibextid=oFDknk

-

চরমোনাইর পীর ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ইতিবৃত্ত এবং জাতির কল্যাণে তাদের প্রতি কিছু পরামর্শ 

https://www.facebook.com/share/p/hMDfY3o1sL2AMwX6/?mibextid=oFDknk

-

কোরআন ও হাদীসের আলোকে ইলমে লাদুনী ও খিজির (আ:) প্রসঙ্গ

https://www.facebook.com/share/p/VXLRZK7zjRw9iZ6c/?mibextid=oFDknk

-

মীলাদুন নবী (স.) অনুষ্ঠান নিয়ে সালাফী ও দেওবন্দীদের আপত্তির উচিত জবাব ও খন্ডন 

https://www.facebook.com/share/p/XAbgsawQtuzJmdCR/?mibextid=oFDknk

-

নবী (স.) এর জন্মের আনন্দ এবং ধর্ম ভিত্তিক উগ্রতা ও ভন্ডামি 

https://www.facebook.com/share/p/hHR9QhkzXJXmFvMR/?mibextid=oFDknk

-

সহীহ হাদীসের আলোকে মাজার নির্মাণ ও কবর সংরক্ষণ 

https://www.facebook.com/share/p/UB655dMULZa1Zm46/?mibextid=oFDknk

-

কোনটি সঠিক? কোরআন ও আহলে বায়েত, নাকি সুন্নাহ?

https://www.facebook.com/share/p/Hr81eR8PgFVaEPMX/?mibextid=oFDknk

-

এজিদের বাবা মুয়াবিয়ার পক্ষে ডিফেন্স করা মুফতী তকী উসমানীর হাদীস বিষয়ক অজ্ঞতা 

https://www.facebook.com/share/p/7HL5A8T2ZtkeEZQw/?mibextid=oFDknk

-

আকাবিরের সাথে মুফতী তকী উসমানীর বেওয়াফায়ীর প্রমাণ 

https://www.facebook.com/share/p/Pd9LG8hXmbk6nzpa/?mibextid=oFDknk

-

সহীহ হাদীসের আলোকে আয়েশা (র.) এর ভুল ও তাওবা

https://www.facebook.com/share/p/zMGmd8LEZ2iGnix2/?mibextid=oFDknk

-

মুমিনের কর্ম-কর্তব্য কি কথিত আকীদা? নাকি সিয়াসত ও রিয়াজত 

https://www.facebook.com/share/p/cH7siR1zzeoM6C4P/?mibextid=oFDknk

-

জামায়াতে ইসলামী কেন এত সুশৃঙ্খল?

https://www.facebook.com/share/p/4LEC5e9B4YqBSFt4/?mibextid=oFDknk

-

হাদীসের আলোকে রঙিন দুনিয়ার নারী, ক্ষমতা ও অর্থবিত্ত

https://www.facebook.com/share/p/D63M5sBt6CuQ4HjG/?mibextid=oFDknk

-

সহীহ হাদীস ও সালাফের দৃষ্টিতে বিদআতের প্রকারভেদ এবং ভূয়া সালাফীদের ধোঁকাবাজি 

https://www.facebook.com/share/p/ipMSuNodSX3qPWBZ/?mibextid=oFDknk

-

জামায়াত বিরোধীদের ডিএনএ টেস্টের ফল 

https://www.facebook.com/share/p/fbRvdv1tJVwCVNYV/?mibextid=oFDknk

-

মুক্তির ইমাম মাহদী ও পৃথিবীর বিলুপ্তি 

https://www.facebook.com/share/p/HQ9oBX7mhVRfmKm8/?mibextid=oFDknk

-

গউস ও কুতুব কি এবং তাদের অথিরিটি কতটুকু?

https://www.facebook.com/share/p/bv6VGAw4KjqmjWbn/?mibextid=oFDknk

-

মাওলানা মওদুদীর কথিত ভুল নিয়ে এক ভাইয়ের সাথে আলাপ

https://www.facebook.com/share/p/dpjctUSKeTke8ir3/?mibextid=oFDknk

-

ইবনে তাইমিয়া ও সাইয়েদ মওদূদী 

https://www.facebook.com/share/p/kRfAC5AbBZ559TJU/?mibextid=oFDknk

-

ইবনে তাইমিয়া: উওহ্ কেয়া চীজ হ্যায়?

https://www.facebook.com/share/p/ZbUtmZBw1A7mHq54/?mibextid=oFDknk

-

মাওলানা মওদুদীকে নিয়ে বোকা পন্ডিত মিজান হারূনের ভুলভাল বিশ্লেষণ-১

https://www.facebook.com/100063664923491/posts/898345422297614/?mibextid=Nif5oz

-

মাওলানা মওদুদীকে নিয়ে বোকা পন্ডিত মিজান হারূনের ভুলভাল বিশ্লেষণ-২ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=920003280133184&id=100063705624380&mibextid=Nif5oz

-

কথিত ছহীহ আকীদার সালাফীদের পালাতে বাধ্যকারী টকশো 

https://www.facebook.com/share/p/LSsszLvErPpKx8ma/?mibextid=oFDknk

-

কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইহুদী ও মাদখালী দর্শনের হাকীকত এবং ফিলিস্তিনীদের জায়নাবাদ বিরোধী যুদ্ধ

https://www.facebook.com/share/p/AXmWP9NUjeLd7s2s/?mibextid=oFDknk

-

ফিলিস্তীন সমস্যার আদ্যোপান্ত এবং ইরান, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকা 

https://www.facebook.com/share/p/EUSUtKxuv4UgQScL/?mibextid=oFDknk

-

কাদিয়ানী ও মাদখালী চিন্তার মর্ম ও ভন্ডামির রাজনীতির গল্প 

https://www.facebook.com/share/p/N463B4kxV8sCvzjt/?mibextid=oFDknk

-

ফাসিক, মুনাফিক, মুয়াবিয়া ও পাবলিক মুফতীর গল্প 

https://www.facebook.com/565108593848701/posts/799808223712069/?app=fbl

 -

মুরজিয়া চিন্তার প্রসারে হযরত মুয়াবিয়ার ভূমিকা 

https://www.facebook.com/100005556347745/posts/1103215519873649/?app=fbl

-

সাহাবীদের মাঝে ৩০% মুনাফিক থাকার দলীল এবং মুনাফিকদের সাথে মুমিনদের মানিয়ে চলার কোরআন ও হাদীসের পথনির্দেশ

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=873765551422268&id=100063664923491&mibextid=Nif5oz

-

এজিদ ও তার বাবা হযরত মুয়াবিয়া সম্পর্কে পূর্ববর্তী সালাফী-আহলে হাদীস শায়খদের বক্তব্য

https://www.facebook.com/share/p/PGkLovTb9jqXSJpi/?mibextid=oFDknk

-

হযরত আলী (র.) ও আমির মুয়াবিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে আহলে সুন্নত আলিমদের মতামত

https://www.facebook.com/share/p/3Mv9pCRbGcLiYndb/?mibextid=oFDknk

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নির্ভেজাল ইসলামের স্বরুপ সন্ধানে

ইসলাম ও গনতন্ত্র

বর্তমান বাংলাদেশ খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত হয়নি