পোস্টগুলি

পরকালের বৈজ্ঞানিক অস্তিত্ত

 ১। নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স দ্বারা পরকাল প্রমানিত ২। কোয়ান্টাম সুপার পজিশন - পরকালের ২য় প্রমান ৩। বস্তুবাদ/নাস্তিকতার বৈজ্ঞানিক খন্ডন  (মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্তই নেই, পুরোরাই মানুষের একটি ভ্রম/বিভ্রান্তি মাত্র !)  

নাস্তিকতার যুক্তি

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১.৯ বিলিয়ন মানুষ কেন পৃথিবীর প্রচলিত কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না আদম সম্পর্কে ইহুদি , খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৬০ কীউবিট অর্থাৎ ৯০- ১০০ ফুট লম্বা একজন মানুষ ছিলেন।আদম ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে হিব্রু বাইবেলের একটি চরিত্র।ইহুদীরাই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে বুক অফ জেনেসিসের মাধ্যমে আদম নামক পৃথিবীর প্রথম মানবের গল্প প্রচার করে। চীনে ৮৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডায়নোসরের ডিম পাওয়া গেলেও পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত ৯০ ফুট লম্বা কোন মানবের অস্তিত্ব ও কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়নি। Tyrannosaurus Rex নামক ৬৮ মিলিয়ন বছর পুরোনো ডায়নোসরের ফসিল অবিস্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দশ হাজার বছরের পুরোনো পৃথিবীর প্রথম মানবের কোন চিহ্ন কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী পুরো পৃথিবী তন্ন তন্ন করেও আবিষ্কার করতে পারেন নি।  পৃথিবীর প্রায় সব বড় ধর্ম তথা কোরআন , বাইবেল ও তোরাহ গ্রন্থে এক ঈশ্বরের কথা থাকলেও বিগ ব্যাং থিওরি তথা ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও চার্লস ডারউইনের থিউরি অফ ইভ্যালুশন বইগুলো পড়লে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনি প্রশ্ন করতে বাধ্য হবেন।বিজ...

শরীয়া আইনও মানব রচিত আইনই

 চিন্তা আকারে শরিয়ত খোদায়ী হলেও বাস্তব শরিয়ত মানবরচিত। যেমন, শরিয়তের চৌহদ্দি কতটুকু, কোনটাকে শরিয়ত ডাকা যাবে আর কোনটাকে শরিয়ত ডাকা যাবে না, শরিয়তের উতস কোনগুলি, শরিয়তের কোন ব্যাখ্যা সঠিক আর কোন ব্যাখ্যা ভুল ইত্যাদি সকল প্রশ্নের উত্তর মানুষের তৈরী। যেমন, ইজমা-কিয়াস শরিয়তের উতস কিনা, মওজু হাদিসের গুরুত্ব বেশি না কিয়াসের গুরুত্ব বেশি, মাদানি উদাহরণ কি প্রমাণ কিনা, ইস্তিহসানের অনুমতি আছে কিনা, সুন্নত বলতে কি বোঝায় ইত্যাদি প্রসঙ্গে চার মাজহাবের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ আছে। এবং এই মতবিরোধগুলি মানবরচিত, মানুষই তার নিজস্ব যুক্তি-তর্ক দিয়ে এই মত-দ্বিমতে উপনীত হয়েছে। এবং প্রত্যেক মাজহাব তার মানবরচিত কাঠামো দিয়েই কোনটা শরিয়ত এবং সেই শরিয়তের এপ্লিকেশন কি সেটা নির্ণয় করে। ওয়ায়েল হাল্লাক তাঁর শরিয়া শীর্ষক কেতাবে (ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৯) উল্লেখ করেন যে বাস্তবে শরিয়ত হচ্ছে খোদায়ী বিধান সম্পর্কে মানুষের ধারণা। খালেদ আবু আল ফদল এপ্রসঙ্গে বলেন যে তত্ত্বীয়ভাবে শরিয়ত খোদায়ী বিধান হলেও বাস্তব শরিয়ত আসলে ফেকাহ। এবং ফেকাহ মানবরচিত। সমাজে খোদায়ী বিধান নামে যা যা প্রচলিত আছে তা মূলত খোদায়ী বিধান স...

আদম আ. এর উচ্চতা বিষয়ক জাল হাদীস

ছবি
 হাদিসে বর্ণিত ‘আদমের ৬০ হাত উচ্চতা’ কি বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক? হাদিসের কিতাবগুলোতে (সহীহ বুখারী: ৩৩২৬, মুসলিম: ২৮৪১) বর্ণিত আছে— আদম (আ.)-কে ৬০ হাত উচ্চতায় সৃষ্টি করা হয়েছিল, তারপর মানুষের উচ্চতা ক্রমশ কমে যায়। কিন্তু এই বক্তব্য- যুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত নয়। বিজ্ঞানের তথ্য ও যুক্তি --- ১. পদার্থবিজ্ঞান ও স্কোয়ার-কিউব ল (The Physics Trap) গ্যালিলিও গ্যালিলিও প্রথম এই সূত্রটি ব্যাখ্যা করেন। যদি কোনো প্রাণীর উচ্চতা ও দৈর্ঘ্য ১০ গুণ বাড়ানো হয়, তবে তার পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল (Surface area) বাড়বে ১০০ গুণ (10^2), কিন্তু তার আয়তন ও ওজন বাড়বে ১,০০০ গুণ (10^3)।  *হাড়ের সীমাবদ্ধতা: মানুষের হাড়ের ঘনত্ব এবং শক্তি তার ওজনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে না। ৯০ ফুট উচ্চতার একজন মানুষের ওজন কয়েকশ টন হতো। তার পায়ের হাড় নিজের শরীরের ভার সইতে না পেরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত। *কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম: ৯০ ফুট উপরে মস্তিষ্কে রক্ত পাম্প করার জন্য যে শক্তিশালী হৃদপিণ্ড প্রয়োজন, তা মানবদেহের কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমান মানুষের ১২০ mmHg রক্তচাপ সেখানে কয়েক হাজার mmHg হতে হতো, যা ধমনী ফাটিয়ে দেওয়ার জন্য ...

জামায়াতে নামাজ ওয়াজিব নাকি সুন্নাত?

 ▌জামা’আতে সালাতের ব্যাপারে ইসলামের মাযহাবগুলোর ফুকাহাদের ফাতওয়া: فتوى لفقهاء المذاهب الإسلامية في مسألة صلاة الجماعة নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্’রই, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নিজের মন্দ এবং আমাদের কাজের মন্দ থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ্ যাকে [সঠিক] পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, এবং আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে [সঠিক] পথ দেখাবে এমন কেউই নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহাপরাক্রমশালী— মহান আল্লাহ্ ব্যতীত ইবা’দতের যোগ্য কেউ নেই, এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে— মুহাম্মদ ﷺ-তাঁর দাস ও রাসূল। বাণীর মধ্যে সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ্’র ক্বিতাব [এর বাণী] ও সর্বোত্তম হি’দায়েত হল মুহাম্মদ ﷺ-এর হি’দায়েত, এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল [দ্বীনে] নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ [বিদ’য়াত],  প্রত্যেক বিদ’য়াতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। . ফাতাওয়া: ১. ইমাম আল-আওযা’ঈ: ওয়াজীব।  ২. সুফইয়ান আছ-ছাওরী: ওয়াজীব। ৩. ইসহাক বিন রাহওয়াইহ: ওয়াজীব। ৪. ইমাম শাফেঈ: ফরযে কিফায়া।  ৫. আল-মুযানী: ফরযে ...

জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে?

শুরু করছি মহান আল্লাহ্’র নামে। ছালাত ও ছালাম বর্ষিত হোক প্রিয়নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-‘ছাল্লামের উপর। অতঃপর: এই প্রবন্ধে যারা বলে ‘জ্বীন মানুষের শরীরে ভর করতে পারে, মানুষের জিহ্বা দিয়ে কথা বলাতে পারে’ তাদের রদ্দ/খন্ডণ করা হবে। আমরা জানি যে, জ্বীন আল্লাহ্’র সৃষ্টি। তারা আমাদের খারাপ কাজ করার জন্য ওয়াছওয়াছা/প্ররোচনা দিতে পারে, কিন্তু শরীরে ভর করে কোন খারাপ বা ভাল কাজ করাতে পারে না৷ যারা বলে ‘শরীরে ভর করতে পারে’ তাদের দালীলগুলোর খন্ডণ করা হয়েছে। আর তাদের এই বাতিল মতের খন্ডণের জন্য কুর’আনের এই আয়াতই যথেষ্ট। আল্লাহ্ কুর’আনে বলেছেন: “আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়ত্বান বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতঃপূর্বে তোমরা আমাকে যার সাথে শরীক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় য...

শুক্রুবারে কেয়ামত - বুখারীর জাল হাদীস

 শুক্রবারে কেয়ামত? ------------------------------- সহীহ মুসলিমের হাদিসে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত "সূর্য যে দিনে উদিত হয়েছে সেই দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো শুক্রবার; এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এই দিনে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে, এবং কিয়ামত কখনো শুক্রবার ছাড়া অন্য কোনো দিনে সংঘটিত হবে না" এই ধর্মীয় দাবিটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ভূগোল, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও ইতিহাসের আলোয় পর্যালোচনা করলে অসংখ্য মৌলিক ত্রুটি ও যৌক্তিক অসংগতি প্রকাশ পায় যা এই সহি হাদিসকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর ও অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণ করে।  এই সহীহ হাদিসের মূল সমস্যা হলো এটি ধরে নেয় যে আদম এর সৃষ্টির শুক্রবার থেকে শুরু করে সাত দিনের অবিচ্ছিন্ন চক্র অনুসরণ করে আজকের শুক্রবার পর্যন্ত ৭ এর নিখুঁত গুণিতক বজায় রয়েছে, কিন্তু মানব ইতিহাসে ক্যালেন্ডার সংস্কার, সময় গণনার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সভ্যতার ভিন্ন ভিন্ন দিন সপ্তাহ ব্যবস্থার কারণে এই ধারাবাহিকতা বহুবার ভেঙে গেছে এবং হারিয়ে গেছে। ক্যালেন্ডার সংস্কারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ১৫৮২ সালের গ্রেগরিয়ান ক্...