নাস্তিকতার যুক্তি
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১.৯ বিলিয়ন মানুষ কেন পৃথিবীর প্রচলিত কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না
আদম সম্পর্কে ইহুদি , খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৬০ কীউবিট অর্থাৎ ৯০- ১০০ ফুট লম্বা একজন মানুষ ছিলেন।আদম ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে হিব্রু বাইবেলের একটি চরিত্র।ইহুদীরাই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে বুক অফ জেনেসিসের মাধ্যমে আদম নামক পৃথিবীর প্রথম মানবের গল্প প্রচার করে। চীনে ৮৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডায়নোসরের ডিম পাওয়া গেলেও পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত ৯০ ফুট লম্বা কোন মানবের অস্তিত্ব ও কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়নি। Tyrannosaurus Rex নামক ৬৮ মিলিয়ন বছর পুরোনো ডায়নোসরের ফসিল অবিস্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দশ হাজার বছরের পুরোনো পৃথিবীর প্রথম মানবের কোন চিহ্ন কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী পুরো পৃথিবী তন্ন তন্ন করেও আবিষ্কার করতে পারেন নি।
পৃথিবীর প্রায় সব বড় ধর্ম তথা কোরআন , বাইবেল ও তোরাহ গ্রন্থে এক ঈশ্বরের কথা থাকলেও বিগ ব্যাং থিওরি তথা ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও চার্লস ডারউইনের থিউরি অফ ইভ্যালুশন বইগুলো পড়লে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনি প্রশ্ন করতে বাধ্য হবেন।বিজ্ঞানী নিউটন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করলে স্যার আইনস্টাইন , স্টিফেন হকিং ও রিচার্ড ডকিন্সের মতো বিজ্ঞানীরা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিন। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে পুরো বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করে তারা আস্তিক আর যারা বিশ্বাস করেনা তাদের বলা হয় এথিষ্ট।
প্রাচীন মানুষ বজ্রপাত , ভুমিকম্প , বৃষ্টি ও সূর্যগ্রহণ কেন হয় তার সম্পর্কে নূন্যতম কোন জ্ঞান রাখতো না। মানুষের ভয় থেকেই মূলত ধর্মগ্রন্থের সৃষ্টি। নৃবিজ্ঞানীরা বলেন, " অদৃশ্য শক্তির ভয় থেকেই পৃথিবীতে অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার জন্ম হয়েছে।"
ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা অনেক ঘটনা ও ব্যাক্তির সরাসরি প্রত্নতাত্ত্বিক কোন প্রমাণ নেই। ধর্মগ্রন্থে এমন কিছু মিথ বা গল্প আছে যা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন। ফ্রেডরিক নিতশে , বার্ট্রান্ড রাসেলের মত দার্লনিকরা তাই ধর্মগ্রন্থের বিপরীতে বিভিন্ন সত্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যার উত্তর আজ পর্যন্ত মিলেনি।
বিশ্বাস বনাম ঐতিহাসিক প্রমাণ এইসব দন্ধ থেকেই পৃথিবীতে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী দুটো ধারা তৈরি হয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে আজ পর্যন্ত আদম ও হাওয়া এই দুটো মানুষের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।নোহা বা নুহ (আঃ) এর মহা প্লাবনের আজ পর্যন্ত কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলেনি।মিশর থেকে ইসরায়েলীদের বের করে আনার যে গল্প হিব্রু বাইবেলে বলা হয়েছে তার সম্পর্কে কোন শক্ত প্রমাণ আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে পাওয়া যায়নি।পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত " নুহ মহাপ্লাবন" তথা পুরো পৃথিবী ডুবে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক বন্যার আজ পর্যন্ত কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তোরাহ ও বাইবেলে সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তার কোন যুক্তিযুক্ত প্রমাণ আজ পর্যন্ত মিলেনি।যিশু খ্রিস্টের পিতা ছাড়া জন্মের গল্পও বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত স্বীকার করে না।কারণ তখনকার পৃথিবীতে এই ধরণের কোন বায়োলজিক্যাল প্রযুক্তি ছিলো না। ইসলামের মক্কা থেকে জেরুজালেম হয়ে আকাশ ভ্রমণের মিরাজ কাহিনী বিজ্ঞান সম্পূর্ণ অবাস্তব ও মানুষের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ করে না। তখনকার সময়ে রকেটের মতো কোন উন্নত প্রযুক্তিই ছিলো না।তাই বিজ্ঞান এসব মানুষের কল্পনাপ্রসূত বিশ্বাস মনে করে এড়িয়ে যায়।
দার্শনিকরা " প্রবলেম অফ ইভিল " এর যুক্তি দেখিয়ে বলেন , " সৃষ্টিকর্তা যদি সর্বশক্তিমান , সর্বজ্ঞ ও সর্বদয় হন , তবে পৃথিবীতে এত দুঃখ, যুদ্ধ , দুর্ভিক্ষ ও রোগ কেন কেন আসমান থেকে পৃথিবীর মানুষের জন্য কোন অলৌকিক সাহায্য আসে না
ধর্ম সম্পর্কে দার্শনিকরা বলেন , " কোন দাবি সত্য হলে তার প্রমাণ থাকা উচিত।" ধর্মগ্রন্থে এমন বেশকিছু গালগল্প প্রচার করা হয় যার কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি বা প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি। এজন্য মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, ' ধর্ম মানুষের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।"
ধর্মীয় মানুষরা বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী দাবি করে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।যদি একটি ধর্ম সত্য হয় , তবে অন্য ধর্ম অবশ্যই ভুল। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্মকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম মেনে অন্য ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করে , যা এদের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিজ্ঞানীরা মানুষের ডিএনএ পরীক্ষা করে মানুষের বিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রমাণ পেয়েছেন। বর্তমান বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র দিয়ে মাইক্রোইভ্যুলুশন স্বপক্ষে দেখতে পেয়েছেন। বিভিন্ন প্রাণীর ফসিল রেকর্ড , শরীরের গঠনের মিল , ডিএনএ ও জেনেটিক তথ্য , তাদের ন্যাচারাল সিলেকশন ও জীব বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বিবর্তনে বিশ্বাস করেন। কিন্তু ধর্মগ্রন্থ মানুষ ঈশ্বরের তৈরি এর স্বপক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি।
বিজ্ঞানীরা ডিএনএ এর জেনেটিক ঘড়ি তথা মিউটেশন রেট পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিভিন্ন প্রাণীর বয়স ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছেন। প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের ডিএনএ থেকে মানুষ ও নিয়েনডার্থাল এর ক্রস ব্রিডিং এর প্রমাণ ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। মানুষের শরীরের জিনোমে এখনও নিয়েনডার্থাল এর জিন রয়েছে।
মানুষ খালি চোখে আকাশের তারার দিকে হা করে তাকিয়ে অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবে। বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করেন কসমোলজি ও প্রমাণভিত্তিক প্রাকৃতিক ব্যাখার মাধ্যমে। এডউইন হাবল ১৯২৯ সালে প্রমাণ করে দিয়েছেন ( Expansion of the universe) তথা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ তত্ত্ব।১৯৬৫ সালে Cosmic Microwave Background Radiation ( CMBR) বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন। হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অনুপাত নির্ধারণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মানুষের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছেন মহাকর্ষ , কোয়ার্ক ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম এইসব কিছু প্রাকৃতিক। এর জন্য আপনাদের Alan Guth ও Andrei Linde এর " Inflation Theory" পড়তে হবে।একটি মাত্র বই পড়ে মহাবিশ্বের সব জেনে ফেলেছেন এসব ভণ্ডামি কথাবার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ধর্মগ্রন্থ পড়লে আপনার মনে হবে পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছরে " হয়ে যাও" তত্বে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর। বিজ্ঞানীরা গালগল্পে বিশ্বাস করেন না। পৃথিবীর বয়স নির্ধারণ করার জন্য বিজ্ঞানীরা রেডিওমেট্রিক ডেটিং এবং জিরকন ক্রিস্টালের মত বিরল খনিজ পদার্থ পেয়েছেন , যার বয়স ৪.৪ - ৪.৫ বিলিয়ন বছর। সৌরজগতের খনিজ ধাতু ইউরেনিয়াম - লেড সিস্টেম দিয়ে ডেটিং করলেও পৃথিবীর বয়স ৪.৫ বিলিয়ন বছর পাওয়া যায়।
পৃথিবীতে ধর্মের জন্য অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। ক্রুসেডের যুদ্ধ সম্পর্কে আপনারা কমবেশি পড়েছেন।থার্টি ইয়ার'স ওয়ার তথা এসব ধর্মযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে আপনি মানুষ ও মানবিকতা নিয়ে বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। একজন অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্টির জন্য ১৪,৫০০ যুদ্ধে পৃথিবীতে ৩.৫ বিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম নিয়ে হানাহানি , সংঘাত , উগ্রতা ও জঙ্গীবাদের কারণে অসংখ্য মানুষ দিন দিন প্রচলিত ধর্মগ্রন্থের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন।
ধর্মের নামে মানুষ হত্যা , যুদ্ধ এসব কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না।রোমান ক্যাথলিক চার্চ সহ ইসলাম ধর্মের মসজিদ , মাদ্রাসা ও ধর্মীয় রাজনীতির নামে রাজনীতিকে ধর্মীয় ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এসব মানুষের হীনমন্যতা ও নীচু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এক ধর্মে জন্মগ্রহণ করে অন্য ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ম আপনাকে হিংসা ও বিদ্বেষ শেখায়। একটা সভ্য সমাজের মানুষ কখনোই এই ধর্মীয় হিংসা , ঘৃণা ও আধিপত্যবাদের এই যুদ্ধ সমর্থন করতে পারে না।
ধর্মের দোয়া প্রার্থনা , তাবিজ , মন্ত্র পাঠের মতো অসংখ্য কুসংস্কার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সমর্থন করে না।একেক ধর্মে একেক খাবারকে হালাল ও হারাম বলা হয়েছে , যার কোন যুক্তিযুক্ত প্রমাণ বিজ্ঞান পায়নি।শুক্র হালাল হিসেবে ক্যান্সারের কথা বলা হলে গরুর মাংস তথা যেকোনো রেড মিট খেলে ক্যান্সার হয় , এইসব তথ্য কী তাদের জানা ছিলো না? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মনে করে , অতিরিক্ত উপবাস হাইপোগ্লাইসেমিয়া, রক্তশূন্যতা ও শারীরিক দূর্বলতা সৃষ্টি করে। তাই এসবের কোন ভিত্তি নেই। অনেক ধর্ম টীকা নিতে পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে , যা এককথায় হাস্যকর।
মানুষের জানতে চাওয়া অপরাধ নয়। সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ প্রশ্ন করতে শিখেছে।ঐশ্বরিক সৃষ্টিকর্তার স্বর্গে যাওয়ার জন্য মেসোপটেমিয়া , ইজিপ্ট, ইন্দ্ররা যুদ্ধ করেছে। মুসলমান খ্রিস্টানদের ক্রুসেডের ধর্মীয় যুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।এসব মৃত্যু মানুষকে আজও প্রশ্ন করতে শেখায়। ধর্মের নাম করে আজও আমাদের দেশে সামাজিক বিরোধ ও জাতিগত বিরোধ সহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো হয়।দীপু দাসের মতো নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা , এসব আগামী প্রজন্মের তরুণদের ধর্ম নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।
Protastant Reformation এর নামে খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের যুদ্ধ , থার্টি ইয়ার'স ওয়ার নামে ইউরোপে আট মিলিয়ন নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ইসলামে শিয়া ও সুন্নি সংঘাত ও সপ্তম শতক থেকে রাজ্য দখলের নামে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যার ইতিহাস একদিন আমাদের তরুণরা জানবে।১৯৭১ এর পাকিস্তানের নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস আমাদের তরুণ প্রজন্মকে একদিন বিবেকের দরজায় দাঁড় করাবেই।
তাই যদি তোমার বিবেক থাকে তবেই তুমি মানুষ। একমাত্র বিবেকহীন মানুষই ধর্মান্ধ , উগ্র , মৌলবাদী , জ-ঙ্গী ও দেশদ্রোহী হয়।। যে বিবেক তোমাকে প্রশ্ন করতে শেখায় না , সেই বিবেক অন্ধ। তাই পৃথিবীর কিছু ধর্ম নিজ ধর্মগ্রন্থে বহুবার অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যা করার বৈধতা দিয়েছে।এসব কখনোই সভ্য মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
আজ আমি বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি। আগামীকাল তুমিও দাঁড়াবে। চোখের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে পড়তে একদিন তুমিও বলবে - মানুষ হত্যার , হিংসার ও মানুষকে গোলাম বানিয়ে রাখার এসব মধ্যযুগীয় ধর্মীয় নিয়ম কানুন নিয়ে একদিন তুমিও প্রশ্ন করতে বাধ্য হবে। ধর্মান্ধ না হয়ে তোমরা সবাই মানুষ হও। মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে ধর্মান্ধ হয়ে মানুষকে ঘৃণা করার শিক্ষা নিও না।মনে রেখো , পৃথিবীর সব মানুষের রক্ত লাল। হিংসা ও বিদ্বেষের শিক্ষা কখনোই মানুষের কোন ধর্ম হতে পারে না।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম (লিখক)
বিবর্তনবাদ
চলুন, খোলা মন নিয়ে একটা বিশেষ আলোচনায় বসা যাক।
ধরুন, আপনি আর আপনার বন্ধু পরীক্ষা দিতে বসলেন। বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামছে। আজকে আপনাদের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা। উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন গল্প, কবিতার নানানকিছু আপনাদের নিজস্ব ইন্টারপ্রেটেনশনের ধানাই পানাই আরকি। আপনাদের দুজনেরই পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। হঠাৎ আপনাদের হলের ইনভিজিলেটর এসে আপনাদের দুজনের খাতা-ই জব্দ করল। দোষ কী আপনাদের?
তাদের দাবি হচ্ছে, আপনি আপনার খাতা খোলা রেখেছেন আর আপনার বন্ধু তা পুরোটা দেখে দেখে লিখেছে। কিন্তু, আপনার বন্ধু সেই লেভেলের নাছোড়বান্দা। সে কোনোমতেই স্বীকার করছে না যে, সে দেখে দেখে লিখেছে। যা অল্প কিছু মিল দেখা যাচ্ছে প্রথম দেখায়, এসব নেহাতই কাকতালীয়।
কিন্তু, ক্লাসে ঢুকলো এক পাগলাটে টিচার। সে আপনাদের দুজনের খাতা পাশাপাশি রেখে evaluate করা শুরু করলো। আপনার বন্ধু যে মিথ্যা বলেছে, তা সেই পাগলাটে লোক প্রমাণ করেই ছাড়বে।
এবার টিচার গুনে দেখলো, দুজনের খাতাতেই মোট ১২,৪৮৭টা অক্ষর, একদম সমান। প্রতিটা প্রশ্নে উত্তর সংখ্যা ১০টা করে, এবং ১০টা প্রশ্নেই একই ক্রমে একই উত্তর লেখা। মোট ৮৭টা একই বানান ভুল, ৩২টা একই জায়গায় কাটাকাটি, আর ১৯টা একই লাইনে বাক্য শেষ। কমা ৫৬টা, ফুলস্টপ ১০টা… সবই একদম একই অবস্থানে। এমনকি প্রতিটা লাইনের স্পেসিং, প্যারাগ্রাফ ব্রেক, আর শব্দের গ্যাপ পর্যন্ত মিল। দুটো খাতার কেবল হাতের লেখা ছাড়া বাকি সবকিছু ১০০% হুবহু একই। এবার আপনিই বলুন, আপনার বন্ধুর সবকিছু আপনার সাথে ১০০% মিলে যাওয়া কাকতালীয় কি? আপনি বিশ্বাস করবেন?
আমার এ লেখাটা এতোটুকু পড়ে বুঝে আসা যে কেউ তার বন্ধুর এতোটুকু ধাপ্পাবাজি ধরে রাখার মতো ইন্টেলেক্ট রাখে। এবার আপনাকে সামনে যা বলতে যাচ্ছি, তা বুঝার মতো বুদ্ধিসুদ্ধিও আপনার আছে বলে আমার বিশ্বাস।
এবার আপনাকে ৩ টা গল্প বলবো। ধৈর্য্য ধরে শুনবেন, একই সাথে আপনার বন্ধুকেও ভুলে যাবেন না। গল্পের মাঝে তাকে আর আপনাকে পাঠানো হবে পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুই সমুদ্র সৈকতে, আবার কখনো আপনাদেরকে বসানো হবে বল বাছাইয়ের পরীক্ষায়।
গল্প নম্বর-১:
অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী (যেমন- কুকুর, বিড়াল বা গরু) তাদের নিজেদের শরীরের ভেতরেই ভিটামিন-সি তৈরি করতে পারে। কিন্তু মানুষ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা এবং ওরাংওটাংরা তা পারে না; খাবারের সাথে ভিটামিন-সি না খেলে আমাদের স্কার্ভি রোগ হয়। গরু, ছাগল, বিড়ালের মধ্যে ভিটামিন সি তৈরির জন্য আছে GULO নামে একটা জিন। আমরা যদি মানুষের DNA ঘেঁটে দেখি, তাহলে দেখবো GULO জিনটা মানুষের DNA তেও আছে। কিন্তু সেটা কাজ করে না। কারণ জিনের কোডের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ছোট্ট একটি মিউটেশন বা ত্রুটি আছে, যার ফলে জিনটি অকেজো হয়ে গেছে। জীববিজ্ঞানীরা এমনসব জিনকে সিউডোজিন বলে।
এবার, জাপানের ওয়াকায়ামা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত গবেষক মিরিমিতসু নিশিকিমি এক কাজ করলেন। তিনি এবং তাঁর দল শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা ম্যাকাকের DNA পরীক্ষা করে দেখলেন তাদেরও ঐ একই জিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এবং… এবং আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই শিম্পাঞ্জি, গরিলাদেরও হুবহু একই জায়গায়, একই মিউটেশনের কারণে GULO জিনটা অকেজো! মানুষের GULO সিউডোজিনের যেই নিউক্লিওটাইডটা হারিয়ে গেছে, শিম্পাঞ্জি, গরিলাদেরও ঠিক একই জায়গায় একিই নিউক্লিওটাইড হারিয়ে গেছে৷
ডিএনএ-র ৩০০ কোটি অক্ষরের (Base pairs) মধ্যে দৈবক্রমে বা কাকতালীয়ভাবে মানুষ, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, গরিলার জিনের ঠিক একই জায়গায় একই ত্রুটি ঘটার গাণিতিক সম্ভাবনা আক্ষরিক অর্থেই শূন্য। এর একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা হলো, আমাদের এক সাধারণ পূর্বপুরুষের শরীরে এই মিউটেশনটি ঘটেছিল এবং আমরা সবাই সেই ভাঙা জিনটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।
ধরুন মানুষ, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, গরিলা, ম্যাকাক… এরা একই পূর্বপুরুষ থেকে আসলো না। সেক্ষেত্রে আমাদের এই বিলিয়ন বিলিয়ন বেইস পেয়ারের একই GULO জিনে একই জায়গায় সেইম মিউটেশন ঘটা পুরোপুরিভাবে অসম্ভব।
বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখিয়েছেন যে, এরকম একই রকম পরিবর্তন (parallel substitutions) ঘটার সম্ভাবনা প্রায় ১.৮৩ × ১০^{-১২}... অর্থাৎ ১০ লাখ কোটি বারের মধ্যে মাত্র ১ বার। [১]
গল্প নম্বর-২: জাম্পিং আলুর গল্প
জাম্পিং আলুর কেচ্ছায় যাওয়ার আগে আপনার বন্ধুকে এখানে টেনে আনি আরেকবার। ধরুন আপনাকে বসানো হলো বাংলাদেশের একটা ঘরে। আর আপনার বন্ধুকে বসানো হলো পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, ব্রাজিলের একটা ঘরে। আপনাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এখন আপনাদের দুজনের ঘরেই ৩০ হাজারটা বল রাখা। প্রতিটাতেই নাম্বারিং করা। এখন, আপনাদের দুজনকেই ৩ টা বল তুলতে বলা হলো। আপনি তুললেন ৪৫৬৭ নং, ২৭৮ নং ও ৮৯০৮ নং… বল।
এখন কাকতালীয়ভাবে আপনার বন্ধুরও একই নাম্বারের তিনটা বল তোলার সম্ভাবনা 2 × 10^{-13}.... কয়েক ট্রিলিয়নে একবার। যা বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। বাস্তবে এটা সম্ভব, যদি আপনি তার সাথে “কানেক্টেড” থাকেন বা দুজনই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন একই নম্বরের বল তুলবেন...… yes, “connection” beats the odds…
এবার জাম্পিং আলুর গল্পে যাই…
আমাদের ডিএনএ-তে এমন কিছু অদ্ভুত অংশ আছে, যাদের কাজ হলো শুধু নিজেদের কপি করা এবং ডিএনএ-র অন্য কোনো র্যান্ডম জায়গায় গিয়ে বসে পড়া। এদের বলা হয় 'জাম্পিং জিন' বা ট্রান্সপোজন (Transposons)। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো Alu Elements । মানুষের জিনোমে এমন প্রায় ১০ লাখের বেশি Alu সিকোয়েন্স বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। (Alu এর উচ্চারণটা কিন্তু অ্যালু হবে)
একটি Alu সিকোয়েন্স যখন ডিএনএ-র ৩০০ কোটি জোড়া বেসের কোনো একটিতে গিয়ে বসে, সেটি সম্পূর্ণ র্যান্ডম একটি ঘটনা। সে আমাদের DNA এর যেকোনো জায়গায়ই বসতে পারে। এখন, ধরেন বিবর্তন তত্ত্ব ভুয়া। কমন এনসেস্ট্রির কেচ্ছা সব ভুয়া। সেক্ষেত্রে একেক প্রাণির জিনে একেক জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে Alu সিকোয়েন্স থাকার কথা, তাই না?
কিন্তু আপনাকে হতাশ করে দিয়ে বলতে হচ্ছে, এমনটা ঘটেনি।
বিজ্ঞানীরা মানুষের ডিএনএ-র সাথে শিম্পাঞ্জির ডিএনএ মিলিয়ে দেখলেন, হাজার হাজার Alu এলিমেন্টস মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির ক্রোমোজোমে হুবহু একই স্থানে বসে আছে! ভেবে দেখুন, ৩০০ কোটি বেইস পেয়ারে হাজার হাজার Alu সিকোয়েন্স দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতির প্রাণির দেহের DNA তে একই জায়গায় আছে!
ধরুন শিম্পাঞ্জি আর আমরা একই পূর্বপুরুষ দ্বারা কানেক্টেড না। সেক্ষেত্রে Alu এলিমেন্টস একই জায়গায় বসার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব। Alu elements একবার বসার পর সেটা সাধারণত স্থায়ী হয়ে যায়। তাই এগুলো আলাদা আলাদা করে ঘটা সম্ভব না। [২]
গল্প-৩:
চার্লস ডারউইন নামক এক র্যান্ডম ধর্মপ্রাণ ব্রিটিশ যখন বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হলেন, তখন ভদ্রলোকের কোনো ধারণা ছিলো না জিনতত্ত্ব নিয়ে। সে এক বড় গল্প। কিন্তু ভদ্রলোক শারীরতাত্ত্বিক, ভ্রুণতাত্ত্বিক মিলজুক দিয়ে বিবর্তন তত্ত্বের কাঠামো বেশ ভালো রকমেই দাঁড় করিয়েছিলেন। উনিশ শতকের পর থেকে নানান জায়গায় জীবাশ্মের সন্ধান মিলতে মিলতে কমন এনসেস্ট্রির চমৎকার একটা নকশাও দাঁড় করান বিজ্ঞানীরা। একটা প্রজাতি মানুষের থেকে কতো দূরের আত্মীয়, তাদের আর আমাদের পূর্বপুরুষ কতো আগে একই প্রজাতিরূপে ছিলো, তা জিনতত্ত্বের বিকাশের আগেই জীবাশ্ম রেকর্ড থেকেই বেশ ভালো মতোই বলে দেয়া গেছে। প্রাইমেটরা আমাদের সবচেয়ে কাছের, এরপর অন্যান্য স্থন্যপায়ীরা, এরপর অন্যান্য ভার্টিব্রেটরা, এরপর ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো, জিনতত্ত্বের আতশি কাঁচের নীচে ফেলে বিবর্তন তত্ত্বকে যাচাবাছাইয়ের সুযোগ আসে অনেক পড়ে। এখন ধরেন ফসিল টসিল দেখে বিবর্তন তত্ত্ব বললো আমাদের নিকটাত্মীয় ওরাংওটাং, কিন্তু দেখা গেলো জেনেটিক্যালি ছাগল আমাদের আরও কাছের… that would be a bummer… ভাগাড়ে গেলো বিবর্তন তত্ত্ব!
কিন্তু না… বাস্তবে তা ঘটেনি। একশো বছর আগে ফসিল রেকর্ড থেকে বিবর্তনের যে নকশা এঁকে দিয়েছে, শখানেক বছর পর জিনতত্ত্বও এসে একই নকশা আঁকলো। এমন instance অসংখ্য। সেসব উদাহরণ এক এক করে নাহয় আপনাদের অন্য কোনোদিন বলবো। আজকে চলুন ঢুকে পড়ি আমাদের গল্প নম্বর ৩-এ।
সাইটোক্রোম-সি হলো এমন একটি প্রোটিন, যা উদ্ভিদ থেকে শুরু করে প্রাণী…. সবার কোষে শক্তি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এটি ১০৪টি অ্যামিনো এসিডের একটি চেইন দিয়ে তৈরি। এই চেইনের কিছু অ্যামিনো এসিড পরিবর্তন হলেও প্রোটিনটি তার কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা যখন বিভিন্ন প্রাণীর সাইটোক্রোম-সি এর গঠন মেলাতে শুরু করলেন, তারা দেখলেন:
১. মানুষের সাইটোক্রোম-সি এবং শিম্পাঞ্জির সাইটোক্রোম-সি *১০০% হুবহু এক। এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
২. এবার মানুষের আরেকটু দূরের আত্মীয় রিসাস বানরের সাথে সে পার্থক্য কতো হতে পারে? মাত্র ১ টি অ্যামিনো এসিডের।
৩. এবার আরেকটু দূরের কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী বাছাই করা যাক। কাকে করা যায়?.... ummm… কুকুর। তাদের সাথে পার্থক্য ১১ টি অ্যামিনো এসিডের।
৪. আরও দূরে যাই। স্তন্যপায়ী ছাড়া অন্য একটা ভার্টিব্রেট ধরা যাক। মাছ। মাছের সাথে ২১ টি অ্যামিনো এসিডের পার্থক্য।
৫. এবার ভার্টিব্রেট পেরিয়ে আরও দূরের কোনো জীবে যাই। ইস্টের সাথে আমাদের পার্থক্য ৫১ টি অ্যামিনো এসিডের।
এই পার্থক্যগুলো ঠিক সেই অনুক্রমেই বাড়ে, ফসিল রেকর্ড অনুযায়ী আমাদের পূর্বপুরুষরা যত আগে একে অপরের থেকে আলাদা হয়েছিল। ফসিল রেকর্ড বা হাড়গোড় ছাড়াই কেবল এই প্রোটিনের গঠন মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারেন কে কার কত কাছের আত্মীয়। [৩]
এবার, কমন এনসেস্ট্রি বা সাধারণ পূর্বপুরুষের ধারণা ব্যতীত এমন শৃঙ্খলা একেবারেই অসম্ভব। একটা ্রোটিন তৈরি করতে সম্ভাব্য অ্যামিনো অ্যাসিডের সিকোয়েন্সের সংখ্যা অত্যন্ত বিশাল (প্রায় ১০^৯৩ এর মতো, যা মহাবিশ্বের মোট পরমাণুর সংখ্যার চেয়েও বেশি)।
এতো বিশাল “সম্ভাব্যতার জগত” এর মধ্যে থেকে ঠিক সেই
সিকোয়েন্সগুলো বেছে নেওয়া যাতে সব প্রজাতির মধ্যে একটা নির্দিষ্ট গাছের মতো প্যাটার্ন (nested hierarchy) তৈরি হয়, সেটা র্যান্ডমভাবে ঘটা প্রায় অসম্ভব।
এবার আপনিই বলুন, কীভাবে এতোকিছু কাকতালীয় হয়?
আগামী কোনো এক আলোচনায় হয়তো গল্প হবে, কীভাবে মানুষ, শিম্পাঞ্জি, বেবুন আর ওরাংওটাংয়ের ডিএনএ-র ঠিক একই জায়গায় রেট্রোভাইরাল ইনসার্শনের (ERV) আলামত পাওয়া গেছে…. এটি কাকতালীয় হওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনা এতই ক্ষীণ যে, ১-কে মহাবিশ্বের মোট পরমাণুর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেও তা মেলানো কঠিন! জানাবো, কীভাবে ন্যানোগ (Nanog) নামের একটি জিন মানুষ, শিম্পাঞ্জির ক্ষেত্রে ঠিক একই লোকেশনে, হুবহু একই নিউক্লিওটাইডে এসে ভেঙে পড়েছে। এভাবেই হয়তো একদিন আমরা পড়বো আমাদের ডিএনএ-র পরতে পরতে সযতনে লেখা ৩৫০ কোটি বছরের বিবর্তনের সেই বিশাল ইতিহাস…
Stay hungry, stay foolish…
তথ্যসূত্র: (লিংক চাইলে দেয়া হবে মন্তব্যের ঘরে)
[১] Ohta, Y., & Nishikimi, M. (1999). "Random nucleotide substitutions in primate nonfunctional gene for L-gulono-gamma-lactone oxidase, the missing enzyme in L-ascorbic acid biosynthesis." Biochimica et Biophysica Acta (BBA) - General Subjects, 1472(1-2), 408–411. PubMed: 10572964.
[২] Salem, A. H. et al. (2003). "Alu elements and hominid phylogenetics." Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS), 100(22), 12787–12791. DOI: 10.1073/pnas.2133766100
[৩] Margoliash, E. (1963). "Primary structure and evolution of cytochrome c." Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন