নাস্তিকতার যুক্তি
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১.৯ বিলিয়ন মানুষ কেন পৃথিবীর প্রচলিত কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না
আদম সম্পর্কে ইহুদি , খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৬০ কীউবিট অর্থাৎ ৯০- ১০০ ফুট লম্বা একজন মানুষ ছিলেন।আদম ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে হিব্রু বাইবেলের একটি চরিত্র।ইহুদীরাই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে বুক অফ জেনেসিসের মাধ্যমে আদম নামক পৃথিবীর প্রথম মানবের গল্প প্রচার করে। চীনে ৮৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডায়নোসরের ডিম পাওয়া গেলেও পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত ৯০ ফুট লম্বা কোন মানবের অস্তিত্ব ও কঙ্কাল আবিস্কৃত হয়নি। Tyrannosaurus Rex নামক ৬৮ মিলিয়ন বছর পুরোনো ডায়নোসরের ফসিল অবিস্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দশ হাজার বছরের পুরোনো পৃথিবীর প্রথম মানবের কোন চিহ্ন কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী পুরো পৃথিবী তন্ন তন্ন করেও আবিষ্কার করতে পারেন নি।
পৃথিবীর প্রায় সব বড় ধর্ম তথা কোরআন , বাইবেল ও তোরাহ গ্রন্থে এক ঈশ্বরের কথা থাকলেও বিগ ব্যাং থিওরি তথা ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও চার্লস ডারউইনের থিউরি অফ ইভ্যালুশন বইগুলো পড়লে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনি প্রশ্ন করতে বাধ্য হবেন।বিজ্ঞানী নিউটন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করলে স্যার আইনস্টাইন , স্টিফেন হকিং ও রিচার্ড ডকিন্সের মতো বিজ্ঞানীরা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিন। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে পুরো বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করে তারা আস্তিক আর যারা বিশ্বাস করেনা তাদের বলা হয় এথিষ্ট।
প্রাচীন মানুষ বজ্রপাত , ভুমিকম্প , বৃষ্টি ও সূর্যগ্রহণ কেন হয় তার সম্পর্কে নূন্যতম কোন জ্ঞান রাখতো না। মানুষের ভয় থেকেই মূলত ধর্মগ্রন্থের সৃষ্টি। নৃবিজ্ঞানীরা বলেন, " অদৃশ্য শক্তির ভয় থেকেই পৃথিবীতে অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার জন্ম হয়েছে।"
ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা অনেক ঘটনা ও ব্যাক্তির সরাসরি প্রত্নতাত্ত্বিক কোন প্রমাণ নেই। ধর্মগ্রন্থে এমন কিছু মিথ বা গল্প আছে যা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন। ফ্রেডরিক নিতশে , বার্ট্রান্ড রাসেলের মত দার্লনিকরা তাই ধর্মগ্রন্থের বিপরীতে বিভিন্ন সত্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যার উত্তর আজ পর্যন্ত মিলেনি।
বিশ্বাস বনাম ঐতিহাসিক প্রমাণ এইসব দন্ধ থেকেই পৃথিবীতে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী দুটো ধারা তৈরি হয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে আজ পর্যন্ত আদম ও হাওয়া এই দুটো মানুষের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।নোহা বা নুহ (আঃ) এর মহা প্লাবনের আজ পর্যন্ত কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলেনি।মিশর থেকে ইসরায়েলীদের বের করে আনার যে গল্প হিব্রু বাইবেলে বলা হয়েছে তার সম্পর্কে কোন শক্ত প্রমাণ আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে পাওয়া যায়নি।পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত " নুহ মহাপ্লাবন" তথা পুরো পৃথিবী ডুবে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক বন্যার আজ পর্যন্ত কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তোরাহ ও বাইবেলে সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তার কোন যুক্তিযুক্ত প্রমাণ আজ পর্যন্ত মিলেনি।যিশু খ্রিস্টের পিতা ছাড়া জন্মের গল্পও বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত স্বীকার করে না।কারণ তখনকার পৃথিবীতে এই ধরণের কোন বায়োলজিক্যাল প্রযুক্তি ছিলো না। ইসলামের মক্কা থেকে জেরুজালেম হয়ে আকাশ ভ্রমণের মিরাজ কাহিনী বিজ্ঞান সম্পূর্ণ অবাস্তব ও মানুষের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ করে না। তখনকার সময়ে রকেটের মতো কোন উন্নত প্রযুক্তিই ছিলো না।তাই বিজ্ঞান এসব মানুষের কল্পনাপ্রসূত বিশ্বাস মনে করে এড়িয়ে যায়।
দার্শনিকরা " প্রবলেম অফ ইভিল " এর যুক্তি দেখিয়ে বলেন , " সৃষ্টিকর্তা যদি সর্বশক্তিমান , সর্বজ্ঞ ও সর্বদয় হন , তবে পৃথিবীতে এত দুঃখ, যুদ্ধ , দুর্ভিক্ষ ও রোগ কেন কেন আসমান থেকে পৃথিবীর মানুষের জন্য কোন অলৌকিক সাহায্য আসে না
ধর্ম সম্পর্কে দার্শনিকরা বলেন , " কোন দাবি সত্য হলে তার প্রমাণ থাকা উচিত।" ধর্মগ্রন্থে এমন বেশকিছু গালগল্প প্রচার করা হয় যার কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি বা প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি। এজন্য মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, ' ধর্ম মানুষের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।"
ধর্মীয় মানুষরা বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী দাবি করে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।যদি একটি ধর্ম সত্য হয় , তবে অন্য ধর্ম অবশ্যই ভুল। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্মকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম মেনে অন্য ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করে , যা এদের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিজ্ঞানীরা মানুষের ডিএনএ পরীক্ষা করে মানুষের বিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রমাণ পেয়েছেন। বর্তমান বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র দিয়ে মাইক্রোইভ্যুলুশন স্বপক্ষে দেখতে পেয়েছেন। বিভিন্ন প্রাণীর ফসিল রেকর্ড , শরীরের গঠনের মিল , ডিএনএ ও জেনেটিক তথ্য , তাদের ন্যাচারাল সিলেকশন ও জীব বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বিবর্তনে বিশ্বাস করেন। কিন্তু ধর্মগ্রন্থ মানুষ ঈশ্বরের তৈরি এর স্বপক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি।
বিজ্ঞানীরা ডিএনএ এর জেনেটিক ঘড়ি তথা মিউটেশন রেট পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিভিন্ন প্রাণীর বয়স ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছেন। প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের ডিএনএ থেকে মানুষ ও নিয়েনডার্থাল এর ক্রস ব্রিডিং এর প্রমাণ ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। মানুষের শরীরের জিনোমে এখনও নিয়েনডার্থাল এর জিন রয়েছে।
মানুষ খালি চোখে আকাশের তারার দিকে হা করে তাকিয়ে অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবে। বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করেন কসমোলজি ও প্রমাণভিত্তিক প্রাকৃতিক ব্যাখার মাধ্যমে। এডউইন হাবল ১৯২৯ সালে প্রমাণ করে দিয়েছেন ( Expansion of the universe) তথা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ তত্ত্ব।১৯৬৫ সালে Cosmic Microwave Background Radiation ( CMBR) বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন। হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অনুপাত নির্ধারণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মানুষের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছেন মহাকর্ষ , কোয়ার্ক ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম এইসব কিছু প্রাকৃতিক। এর জন্য আপনাদের Alan Guth ও Andrei Linde এর " Inflation Theory" পড়তে হবে।একটি মাত্র বই পড়ে মহাবিশ্বের সব জেনে ফেলেছেন এসব ভণ্ডামি কথাবার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ধর্মগ্রন্থ পড়লে আপনার মনে হবে পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছরে " হয়ে যাও" তত্বে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর। বিজ্ঞানীরা গালগল্পে বিশ্বাস করেন না। পৃথিবীর বয়স নির্ধারণ করার জন্য বিজ্ঞানীরা রেডিওমেট্রিক ডেটিং এবং জিরকন ক্রিস্টালের মত বিরল খনিজ পদার্থ পেয়েছেন , যার বয়স ৪.৪ - ৪.৫ বিলিয়ন বছর। সৌরজগতের খনিজ ধাতু ইউরেনিয়াম - লেড সিস্টেম দিয়ে ডেটিং করলেও পৃথিবীর বয়স ৪.৫ বিলিয়ন বছর পাওয়া যায়।
পৃথিবীতে ধর্মের জন্য অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। ক্রুসেডের যুদ্ধ সম্পর্কে আপনারা কমবেশি পড়েছেন।থার্টি ইয়ার'স ওয়ার তথা এসব ধর্মযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে আপনি মানুষ ও মানবিকতা নিয়ে বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। একজন অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্টির জন্য ১৪,৫০০ যুদ্ধে পৃথিবীতে ৩.৫ বিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম নিয়ে হানাহানি , সংঘাত , উগ্রতা ও জঙ্গীবাদের কারণে অসংখ্য মানুষ দিন দিন প্রচলিত ধর্মগ্রন্থের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন।
ধর্মের নামে মানুষ হত্যা , যুদ্ধ এসব কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না।রোমান ক্যাথলিক চার্চ সহ ইসলাম ধর্মের মসজিদ , মাদ্রাসা ও ধর্মীয় রাজনীতির নামে রাজনীতিকে ধর্মীয় ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এসব মানুষের হীনমন্যতা ও নীচু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এক ধর্মে জন্মগ্রহণ করে অন্য ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ম আপনাকে হিংসা ও বিদ্বেষ শেখায়। একটা সভ্য সমাজের মানুষ কখনোই এই ধর্মীয় হিংসা , ঘৃণা ও আধিপত্যবাদের এই যুদ্ধ সমর্থন করতে পারে না।
ধর্মের দোয়া প্রার্থনা , তাবিজ , মন্ত্র পাঠের মতো অসংখ্য কুসংস্কার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সমর্থন করে না।একেক ধর্মে একেক খাবারকে হালাল ও হারাম বলা হয়েছে , যার কোন যুক্তিযুক্ত প্রমাণ বিজ্ঞান পায়নি।শুক্র হালাল হিসেবে ক্যান্সারের কথা বলা হলে গরুর মাংস তথা যেকোনো রেড মিট খেলে ক্যান্সার হয় , এইসব তথ্য কী তাদের জানা ছিলো না? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মনে করে , অতিরিক্ত উপবাস হাইপোগ্লাইসেমিয়া, রক্তশূন্যতা ও শারীরিক দূর্বলতা সৃষ্টি করে। তাই এসবের কোন ভিত্তি নেই। অনেক ধর্ম টীকা নিতে পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে , যা এককথায় হাস্যকর।
মানুষের জানতে চাওয়া অপরাধ নয়। সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ প্রশ্ন করতে শিখেছে।ঐশ্বরিক সৃষ্টিকর্তার স্বর্গে যাওয়ার জন্য মেসোপটেমিয়া , ইজিপ্ট, ইন্দ্ররা যুদ্ধ করেছে। মুসলমান খ্রিস্টানদের ক্রুসেডের ধর্মীয় যুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।এসব মৃত্যু মানুষকে আজও প্রশ্ন করতে শেখায়। ধর্মের নাম করে আজও আমাদের দেশে সামাজিক বিরোধ ও জাতিগত বিরোধ সহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো হয়।দীপু দাসের মতো নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা , এসব আগামী প্রজন্মের তরুণদের ধর্ম নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।
Protastant Reformation এর নামে খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের যুদ্ধ , থার্টি ইয়ার'স ওয়ার নামে ইউরোপে আট মিলিয়ন নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ইসলামে শিয়া ও সুন্নি সংঘাত ও সপ্তম শতক থেকে রাজ্য দখলের নামে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যার ইতিহাস একদিন আমাদের তরুণরা জানবে।১৯৭১ এর পাকিস্তানের নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস আমাদের তরুণ প্রজন্মকে একদিন বিবেকের দরজায় দাঁড় করাবেই।
তাই যদি তোমার বিবেক থাকে তবেই তুমি মানুষ। একমাত্র বিবেকহীন মানুষই ধর্মান্ধ , উগ্র , মৌলবাদী , জ-ঙ্গী ও দেশদ্রোহী হয়।। যে বিবেক তোমাকে প্রশ্ন করতে শেখায় না , সেই বিবেক অন্ধ। তাই পৃথিবীর কিছু ধর্ম নিজ ধর্মগ্রন্থে বহুবার অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যা করার বৈধতা দিয়েছে।এসব কখনোই সভ্য মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
আজ আমি বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি। আগামীকাল তুমিও দাঁড়াবে। চোখের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে পড়তে একদিন তুমিও বলবে - মানুষ হত্যার , হিংসার ও মানুষকে গোলাম বানিয়ে রাখার এসব মধ্যযুগীয় ধর্মীয় নিয়ম কানুন নিয়ে একদিন তুমিও প্রশ্ন করতে বাধ্য হবে। ধর্মান্ধ না হয়ে তোমরা সবাই মানুষ হও। মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে ধর্মান্ধ হয়ে মানুষকে ঘৃণা করার শিক্ষা নিও না।মনে রেখো , পৃথিবীর সব মানুষের রক্ত লাল। হিংসা ও বিদ্বেষের শিক্ষা কখনোই মানুষের কোন ধর্ম হতে পারে না।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম (লিখক)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন