মর্ডানিজমই ইসলাম

 

আকীদা শাস্ত্র, বিকৃত তাসাউফ ও হাদীস শাস্ত্র মুসলিম জাতি ধংসের মুল কারন (বিস্তারিত প্রমান জানতে হলে লিংক এর পোষ্ট গুলো পড়ুন)

আল্লামা ইকবাল ওলামা,  মোল্লা তন্ত্র ও সুফি তন্ত্র  বিরোধী ছিলেন। নিচে তার  কথা-বার্তার কিছু  উদাহরণ দিতেছি  । 

এটা খুব ইন্টারেস্টিং যে দেওবন্দী মোল্লারা মওদুদিকে ভ্রান্ত আকিদা, ফাসেক, আবার কেউ কেউ কাফেরও বলে। কিন্তু ইকবালকে নিয়া কিছু বলে না। এর  কারণ দুইটাঃ
 
১। ইকবাল এরা পড়ে না, কারণ মোল্লারা ফিলসফি বুঝে না, তাই ইকবালরে পড়ার চেষ্টা এরা খুব একটা  করে  নাই। 

২। ইকবাল মোল্লাদের বিরুদ্ধে কইলেও মওদুদির মত দেওবন্দীদের ট্রাইবাল ইসলামের উপর নিজের কোন দাবি-দাওয়া পেশ করে নাই। ফলে  ইসলামের উপর দেওবন্দীদের  ভাগ-বাটোয়ারার হিসেবে কোন ক্ষতি হয় নাই। 

এবার চলেন দেখি ইকবাল কি কইছেঃ 

"বস্তুবাদ ধর্মের বিরুদ্ধে দুর্বল অস্ত্র, কিন্তু মোল্লাতন্ত্র ও সুফিতন্ত্রের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত কার্যকর, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের অজ্ঞতা ও সরলতা থেকে ফায়দা তোলে। ইসলাম ধর্মের আত্মা বস্তুজগতের সংস্পর্শে আসতে ভয় পায় না। বরং কুরআনে বলা হয়েছে: "তোমার দুনিয়ার অংশ ভুলে যেয়ো না।" 
( Islam and Ahmadism, page: 43)

মোল্লাদের কল্প-কাহিনী  সৃষ্টির প্রবণতাই গড়পড়তা মুসলমানের বোকামির প্রধান কারণ। মোল্লাকে ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্র থেকে বাদ দিয়ে আতাতুর্ক যা করেছেন, তা ইবনে তাইমিয়া বা শাহ ওয়ালিউল্লাহর মনেও আনন্দের সঞ্চার করত। হাদিসগ্রন্থ মিশকাতে একটি বর্ণনা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে— শুধুমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রের আমির বা তাঁর নিযুক্ত প্রতিনিধি ধর্ম প্রচার করতে পারেন। আমি জানি না আতাতুর্ক এই হাদিস জানতেন কিনা, কিন্তু এটিই বিস্ময়কর যে, তাঁর ইসলামী বিবেকের আলো কিভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর পদক্ষেপকে আলোকিত করেছে। ( page 44-45)

“আসলে কামাল পাশা সঠিকভাবে বিচার করেছেন যে, জীবন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী করতে হলে, তাদেরকে মধ্যযুগীয় ফিকহ্‌ (ইসলামী আইনশাস্ত্র) থেকে মুক্ত করা অপরিহার্য।”
(Chapter : The Principle of Movement in the Structure of Islam, Book: The reconstruction of the religious thought of Islam) 

ইসলাম কখনোই মধ্যযুগীয় সুফিবাদের পুনর্জাগরণ মেনে নেবে না, যা ইতোমধ্যেই তার অনুসারীদের সুস্থ স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলো হরণ করে তাদের বিনিময়ে কেবল অস্পষ্ট ও ধোঁয়াটে চিন্তাভাবনা দিয়েছে। বিগত কয়েক শতকে এই ধারা ইসলামের সেরা মেধাগুলোকে শোষণ করেছে, আর রাষ্ট্রের কার্যক্রম ছেড়ে দিয়েছে কেবল গড়পড়তা লোকদের হাতে। আধুনিক ইসলাম এই ভুল পুনরাবৃত্তি করার সামর্থ্য রাখে না। 

একইভাবে, পাঞ্জাবের সেই দুঃখজনক অভিজ্ঞতারও পুনরাবৃত্তি ইসলাম সহ্য করতে পারে না—যেখানে মুসলমানদেরকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এমন সব ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল যার জীবনের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না। ইসলাম ইতোমধ্যে নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতার উন্মুক্ত আলোয় প্রবেশ করেছে—এখন আর কোনো সাধক বা নবী একে আবার সেই মধ্যযুগীয় সুফিবাদ বা ধর্মতাত্ত্বিক আইন শাস্ত্রের কুয়াশায় ফিরিয়ে নিতে পারবে না।
(Chapter : The Principle of Movement in the Structure of Islam)


তাকলিদি চিন্তাধারা

তাকলিদি বা অন্ধ অনুকরণপ্রবণ চিন্তাধারা পুরাতন নিয়ে অনড় থাকে, স্থবির হয়ে পড়ে থাকে। সে মনে করে, প্রথম যুগের লোকেরা পরবর্তী জমানার জন্য চিন্তা ও গবেষণার কোনো কিছুই বাদ রাখেন নি, সবকিছুই করে গেছেন। সে মনে করে, ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তাকলিদই এখন অবশ্যম্ভাবী তাকদির। সংকীর্ণ মাজহাবি ফিরকাবাজি থেকে আজাদ হওয়ার মানে বোধহয় দ্বীন থেকেই আজাদ হওয়া।

তাকলিদি চিন্তাধারার অনুসারীরা বসবাস করে অতীত যুগে। তাদের বাতচিত সবই অতীতের বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যাবলির সাথে, যা তারা ওয়ারিশ হিসেবে লাভ করেছে প্রাচীন ইলমুল কালাম থেকে; অথচ সেই সমস্যাগুলো আজ আর নেই। কিন্তু তাদের আচরণে মনে হয়, সেগুলো এতই প্রকট যে, এর জন্য যুদ্ধ চালাতে হবে জরুরি ভিত্তিতে এক ‘অস্তিত্বহীন’ শত্রুর বিরুদ্ধে।

একইভাবে অতীতের এই বুদ্ধিবৃত্তিক কাইজ্জাগুলো তারা ওয়ারিশ হিসেবে পেয়েছে পুরোনো ইলমুল ফিকাহ থেকে। সেই কাইজ্জাগুলো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তারা এখনো তা চালিয়ে যাচ্ছে।

সারকথা হচ্ছে, তাকলিদপন্থিরা বিরোধিতা করে প্রতিটি নতুনের। নাকোচ করি প্রতিটি তাজদিদ— সংস্কারকে।  বন্ধ করে দেয় ইজতিহাদের খোলা দরজা। তারা বলতে চায়, প্রতিটি পুরোনো বিষয় যেন তার আগের হালতেই থাকে, এমনকি যুগ-জমানা, স্থান-কাল আর মানুষ বদলে গেলেও।
হায়, তারা যদি পুরোনো ‘জীবন্ত মৌলিকতা’ নিয়েই পড়ে থাকত! কিন্তু না, তারা পড়ে আছে সেই মুতাআখখিরিনদের (পরবর্তী যুগের লোকদের) পুরোনো বিষয় নিয়ে, যারা জীবন যাপন করেছে স্থবিরতা, পশ্চাদপদতা ও পতনের যুগে। কে জানে, তারা যদি বর্তমান জমানা— যা তাদের দুনিয়া থেকে কত বিশালভাবে বদলে গেছে— পেত, তাহলে তারাও তাদের অনেক মতামত ও অবস্থানই পরিবর্তন করে ফেলত! 
আমরা জানি, ইমাম শাফেয়ির দুটি মাজহাব আছে: একটি প্রাচীন (কাদিম) মাজহাব, আরেকটি নতুন (জাদিদ) মাজহাব। এ কারণেই বলা হয়ে থাকে— প্রাচীন মাজহাব অনুযায়ী ইমাম শাফেয়ি বলেছেন, নতুন মাজহাব অনুযায়ী ইমাম শাফেয়ি বলেছেন। ইমাম আবু হানিফার সাথীরাও এক তৃতীয়াংশের অধিক মাসআলায় তার সাথে মতবিরোধ করেছেন। ইমাম মালেক এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল থেকেও এক মাসআলায় একাধিক রিওয়ায়াত পাওয়া যায়। তাঁদের ছাত্ররাও তাদের কাছ থেকে একই মাসআলায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো স্থান, কাল বা যুগের ভিন্নতা।

হাকিমুল ইসলাম ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (ওফাত : ১১৭৬ হিজরি) এই তাকলিদি চিন্তাধারাকে নাড়া দেন শক্তভাবে, জাগিয়ে তুলেন স্থবিরতা থেকে…। কিন্তু এরপরেও ভারতীয় উপমহাদেশে বহু মানুষজনই পুরোনো নিয়েই পড়ে রইল, ওগুলোই আঁকড়ে ধরে রাখল। তারা মনে করল, মুতাআখখিরিন হানাফিরা তাদের কিতাবাদিতে যা কিছু লিখে গেছেন, তাই চূড়ান্ত তাহকিকি কথা।  তারা যা বলে গেছেন, তাই চূড়ান্ত নিরীক্ষীত বক্তব্য। কোনো অবস্থায়ই সেগুলো ত্যাগ করা যাবে না। তারা মনে করেছে, সেগুলো ছেড়ে দেওয়া মানে দ্বীন ইসলামকেই ছেড়ে দেওয়া, কুরআন ও সুন্নাহর বন্ধন থেকেই মুক্ত হয়ে যাওয়া। এ কারণে, তৎকালীন ভারতে হানাফি মাজহাবের তাকলিদই ছিল প্রভাবশালী ধারা। প্রত্যেক মাজহাবের অনুসারীই তার স্বীয় মাজহাব আঁকড়ে ধরে থাকতো, এটাই ছিল প্রচলিত রীতি। আকিদায় আশয়ারি বা মাতুরিদি ধারার অনুসরণ, (ফিকাহয়) সাধারণত ইমাম আবু হানিফিার কিংবা কখনো কখনো ইমাম শাফেয়ির মাজহাবের অনুসরণ এবং তাসাউফি ধারা মেনে চলাই ছিল তৎকালীন ভারতের অনুসৃত রীতি। আর তাসাউফি ধারার প্রধান হিসেবে বরিত হতেন তখন ইমাম জুনাইদ। 

ইলমুত তাওহিদের কিতাব ‘আল জাওহারাহ’-এর শরাহ পড়েছিলাম আমরা আজহার ইনস্টিটিউটে, মাধ্যমিক স্তরে। গ্রন্থকার সেখানে বলছেন—

“মালিক এবং সকল ইমাম,
একইভাবে উম্মাহর পথপ্রদর্শক আবুল কাসিম—
তাদের কোনো একজন ইমামের তাকলিদ করা ওয়াজিব,
এমনটিই বর্ণনা করে গেছে লোকেরা, বোধগম্য ভাষায়।”

এখানে ইমাম মালিকের সাথে সকল ইমাম বলতে বোঝানো হয়েছে বাকি তিন ইমামকে অর্থাৎ আবু হানিফা, শাফেয়ি এবং আহমাদ বিন হাম্বল রহ.। আবুল কাসিম হচ্ছেন তাসাউফ ও রুহানি তারবিয়াতের ইমাম জুনাইদ। গ্রন্থকার মনে করেন— ফিকাহয় তাকলিদ আবশ্যক, এমনকি তাসাউফেও।  

ইউসুফ আল কারযাভী



"বহু ‘আলেম বা শায়েখ রয়েছেন যারা বইয়ের জগতে বাস করেন, কিন্তু বাস্তব জগতে তাদের আনাগোনা নেই। তারা বাস্তবতার যে ধ্যানধারণা (ফিক্‌হুল ওয়াকি’) তা থেকে অনুপস্থিত, বরং বলতে পারেন বাস্তবের ধ্যানধারণা তাদের কাছ থেকে অনুপস্থিত। কেননা এনারা জীবনের বইটাকে খুলে দেখেন না, যেভাবে তারা পূর্ববর্তী ‘আলেমদের বই আদ্যোপান্ত পড়েন। এ কারণে তাদের কাছ থেকে এমন সব ফাতওয়া বের হয় যা (শুনলে) মনে হয় যেন এগুলোকে কবর থেকে উঠিয়ে আনা হয়েছে। 

ইয়ূসুফ আল-কারাদাওয়ী:'মূজিবাত তাগায়্যুরিল-ফাতওয়া ফী 'আসরিনা'; পৃ: ৮৫]


মাদ্রাসায় পড়ে হুজুররা কী হয়? 
গলাকাটা বক্তা, মুতাওয়াল্লির কর্মচারী ইমাম, মুহতামিমের জিম্মি মুদাররিস, মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী, (আতর টুপি মেসওয়াক, মধু, কালোজিরা, হানিনাট,আখরোট ও খেজুরের) ব্যাবসায়ী। ব্যাস। এটাই তাদের শিক্ষার গন্তব্য। অবশ্য আখেরাতে তারা নিশ্চিত জান্নাতি। হুজুরদের পেশাক্ষেত্রের এটাই সাধারণ চিত্র। সামান্য ব্যতিক্রম ধরার মত নয়। 

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অন্যরা কী হয়?
খেটে খাওয়া শ্রমিক, কৃষক, কারিগর, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, জজ, ব্যারিস্টার, সৈনিক, প্রশাসক, বিজ্ঞানী, মহাকাশচারী, গবেষক, আবিষ্কারক, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদ, দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, নায়ক, নায়িকা, শিল্পী, খেলোয়াড়, গায়ক, কবি, উপন্যাসিক, কথাশিল্পী, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভাস্কর, চিত্রশিল্পী, রাজনীতিক, পলিসি মেকার, আইন প্রণেতা, মুক্ত চিন্তক, ছাত্রনেতা, ঠিকাদার, শিল্পপতি, সারা দুনিয়ার দক্ষ প্রবাসী, পাইলট, নাবিক, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী,পদার্থবিদ, রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞানী, লেখক , বুদ্ধিজীবী, প্রযুক্তিবিদ, প্যাথলজিস্ট, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, প্রায়ই সবক্ষেত্রে কর্মকর্তা, সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবি ইত্যাদি সব। 

এখন বলুন, কে কাকে চালাবে? রাষ্ট্র সমাজ দুনিয়াকে কারা নিয়ন্ত্রণ করবে? মাদ্রাসা না স্কুল কলেজ?

মাদ্রাসা শিক্ষা এভাবেই মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করছে। ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করছে। ওলামারা কাম কাজ না শিখে অন্যের হাদিয়ার উপর নির্ভরশীল জীবন যাপন করছে। ধর্ম বিক্রি ছাড়া যাদের আর উপায় নাই।

এই দুনিয়াবিমুখ বৈরাগ্যবাদী স্যেকুলার মাদ্রাসা নিঃসন্দেহে ইহুদী খ্রিস্টান ও হিন্দুত্ববাদী চক্রান্ত । হুজুররা বুঝে না বুঝে এই চক্রান্তে আঁটকে গেছে। সুকৌশলে দুনিয়া ত্যাগের নামে দুনিয়ার সব কিছু থেকে মাদ্রাসাকে আলাদা করে ভিক্ষাবৃত্তি ও ভন্ডামির একটা অবাস্তব কল্পনাবিলাসী শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়া হয়েছে। 

যেখানে গৌরব কপচানো ছাড়া, বুযুর্গভক্তি ছাড়া, চর্বিত চর্বন ছাড়া নতুন কোন জ্ঞান উৎপাদন হয় না। চার ইমামের ঠিক করে দেয়া মাসলার বাইরে এমনকি নতুন ইমাম, নতুন মাজহাব, নতুন গবেষণা বের হয় না। ২০/২২ বছর শুধু ধর্ম পড়েও কেউ নিজেকে মুজাদ্দিদ দাবি করার গোস্তাখি করে না! শুধু বিনয় আর অতিরিক্ত তায়াজু!! শুধু অতীতে কে কত বড় ছিল, কত বড় কিতাব লিখে গেছে এসবের গদগদে ভক্তি। আত্মশক্তির বহিঃপ্রকাশ নাই। এটা একটা শিক্ষার দর্শন হতে পারে না। নট এট অল। 

মুসলিম উম্মাহকে এই স্যেকুলার বৈরাগী মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার অথবা বিনাশ করতে হবে। না হয় সামনে তাদের মহা বিপদ।

ইসলাম কর্ম ছেড়ে শুধু ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকতে কোথায় বলেছে? 

সাহাবীদের কয়জন বড় মুফতি মুহাদ্দিস মুফাসসির ছিলেন? খুবই কম । একেবারে হাতেগোনা। বাকিরা ছিলেন কর্মজীবী। একেকজন একেক বিষয়ে দক্ষ পেশাজীবী। 

মাদ্রাসা থেকে ধর্মজীবী বের না করে পেশাজীবী বের করতে হবে। 

ধর্ম শিখবে। ভালোভাবেই শিখবে। কিন্তু ধর্ম বিক্রি করা ছাড়া তার উপায় থাকবে না, এমন কেন হবে?

১৫/১৬ বছরের একটা দীর্ঘ শিক্ষা জীবন কেন একটা ছেলেকে কেবল ধর্মজীবী ছাড়া আর কিছু বানাতে পারবে না? 

ফলতঃ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন, এই শিক্ষা ছেলেদের ভিতর একটা আত্মপরিচয়ের সংকট তৈরি করে। হীনমন্যতা সংকীর্ণতা তৈরি করে। সমাজ থেকে একটা পলায়নপর আত্মকেন্দ্রিক জীবনে সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চলে।





ইমাম ফখরুদ্দিন রাযির বক্তব্য উল্লেখ করি। তিনি বলেন,

وأما الظَّواهِر النقلية المشعرة بالجسمية والجهة فالجَواب الكُلِّي عَنْها أن القواطع العَقْلِيَّة دلّت على امْتناع الجسمية والجهة والظواهر النقلية مشعرة بِحُصُول هَذا المَعْنى والجمع بَين تصديقهما محال وإلّا لزم اجْتِماع النقيضين والجمع بَين تكذيبهما محال وإلّا لزم الخُلُو عَن النقيضين والقَوْل بترجيح الظَّواهِر النقلية على القواطع العَقْلِيَّة محال لِأن النَّقْل فرع على العقل فالقدح فِي الأصْل لتصحيح الفَرْع يُوجب القدح فِي الأصْل والفرع مَعًا وهُوَ باطِل فَلم يبْق إلّا الإقْرار بِمُقْتَضى الدَّلائِل العَقْلِيَّة القطعية وحمل الظَّواهِر النقلية إمّا على التَّأْوِيل وإمّا على تَفْوِيض علمها إلى الله سُبْحانَهُ وتَعالى وهُوَ الحق

"কোরআন হাদিসের বাহ্যিক "পাঠ" থেকে যদি আল্লাহর শরীর ও দিকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে এর জবাব হবে — অকাট্য যৌক্তিক উপসংহার থেকে আমরা জানি আল্লাহর জন্য শরীর ও দিক থাকা অসম্ভব। অন্যদিকে বাহ্যিক পাঠ বলছে, সম্ভব। আর এই দুই সাংঘর্ষিক বক্তব্যের উভয়ের একইসাথে সঠিক হওয়া তো সম্ভব না। আবার দুইটাও একইসাথে বেঠিক হওয়া সম্ভব না। সুতরাং কোন একটাকে অন্যটার ওপর স্থান দিতে হবে। এখন বাহ্যিক পাঠকে অকাট্য যুক্তি ওপর স্থান দেয়া অসম্ভব কারণ যেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এই "পাঠ" উৎসারিত হয়েছে, সেটা নিজেই যুক্তিবুদ্ধির আলোকে গৃহীত উপসংহারের একটি শাখা। অর্থাৎ যুক্তি হচ্ছে গাছের শেকড়, আর "পাঠ" হচ্ছে গাছের শাখা। যদি শাখা ঠিক রাখতে গিয়ে শেকড় উপড়ে ফেলা হয়, তাহলে শেকড় ও শাখা দুটোই উপড়ে ফেলা হবে। আর এটা বাতিল, এটা করার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং পথ কেবল একটাই থাকছে, তা হল — অকাট্য যৌক্তিক উপসংহারকে নিজ জায়গায় ঠিক রাখতে হবে এবং বাহ্যিক পাঠকে এর সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যাখ্যা করতে হবে অথবা এই পাঠের সঠিক ব্যাখ্যা কী হবে তার জ্ঞান আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে দিতে হবে। আর এটাই সঠিক পথ।"

— রাযী, মাআলিমু উসুলিদ দীন (ধর্মীয় মূলনীতির রূপরেখা)


 যেহেতু আমরা মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নিয়ে সুনিশ্চিত নই, সেহেতু প্রত্যেক মত-অভিমতের প্রতি অনেক বেশি সহনশীল হওয়াটা আমাদের কাম্য ! মাঝে মাঝে শুনি যে' সবার বিরোধী মতামত হাজির করে হয়তো আমরা ইউনিক হবার চেষ্টা করি বা অনন্য হতে চাই। ধরুন, সবাই যখন মেনে নিয়েছে যে নারী-পুরুষের ফ্রি মিক্সিং হারাম, তখন আমরা কল্যানকর উদ্দেশ্যে ফ্রী মিক্সিং জায়েজ বলা ফকীহদের আলাপ টেনে আনছি; বা যখন সবাই মিউজিক হারাম বলে দিচ্ছে, তখন আমরা বলছি শ্লীল যাবতীয় মিউজিক হালাল। মুরতাদের শাস্তি যখন আপনারা বলছেন একমাত্র শি/র-চ্ছেদ, তখন আমরা বলছি অমুক অমুক ফকিহ এটা স্বীকার করছেন না, তারা এটার বিরোধিতা করছেন! এইযে আলাপগুলো টেনে আনার মাধ্যমে আমাদের মুসলমান সাধারণ বা (কথিত) প্রাক্টিসিং মুসলিমরা চমকে উঠেন, এটা নিয়েই আমাদের কাজ ।

বাংলাদেশে মুসলিমদের স্বভাব হলো, নিজ মতবিরুদ্ধ কোন বিষয় পেলেই তাকে নানাবিধ তকমায় খারিজ করে দেয়া, ট্রোল করা বা বিদ্বেষ করা। কিন্তু অবশ্যই তারও এটা জানা উচিত এবং বিশ্বাস করা উচিত আমার জগতের বাহিরেও একটা বিস্তৃত জগত আছে। যে দ্বীনের অগনন শাখা প্রশাখা রয়েছে, যে দ্বীন সকল বিষয়- সর্বকালে- সর্ব হালতে সমাধান করার দাবী করে; সে দ্বীনের ব্যপারে আমার গোষ্ঠী -মাযহাব- মানহাজ তরীকা কিংবা আমার পীর বা শায়েখের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবেনা। কখনোই এই তৃপ্তিতে পৌঁছানো উচিত হবেনা যে আমি হয়তো একমাত্র চূড়ান্ত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছি এবং অন্যরা ভুল করছে। এই তৃপ্তি জঘন্য। 

অধিকাংশ মুহাদ্দিস - অধিকাংশ মুফাস্সির বা ফকিহ এমনটা বলেছেন ; তার বিপরীতে যদি একজনমাত্র ইমাম/ফকীহ ও ভিন্ন কিছু বলে থাকেন; তখনও তার মতামতকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের ইমামগণের শিক্ষা। হতে পরে ইসলামের এমনও অনেক শিক্ষা ও দর্শন আছে যার জ্ঞান আমরা এখনও অবগত নই- এটা দোষনীয় নয়; তবে আমাদের অজ্ঞানতা তখনই জাহেলিয়াত হয়ে যায় যখন আমরা আমাদের কাছে আসা নতুন কোন জ্ঞান বা আইডিয়াকে নিয়ে ট্রোল করি বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা অসম্মান করে উড়িয়ে দিয়ে থাকি।

যদি এমন হয়ে থাকে আপনি এ বিষয়ে অজ্ঞ যে- মিউজিককে অনেক ফহীহ হালাল বলেছেন, হতে পারে আপনি এ বিষয়ে অজ্ঞ যে মুরতাদ হত্যাকে অনেক ফকীহ অবৈধ বলেছেন, আপনি এ বিষয়ে অজ্ঞ যে নারীর জন্য মুখমন্ডল খোলা রাখাকে অনেক মুফতী জায়েজ এবং জরুরি বলেছেন, আপনি এ বিষয়ে অজ্ঞ যে বহু ফকিহ ভালোবাসা দিবসকে জায়েজ বলেছেন, আপনি এ বিষয়ে অজ্ঞ যে অনেক ফকিহ নিউ ইয়ার ও জন্মদিন পালনকে জায়েজ বলেছেন; এটা হতেই পারে, হতেই পারে আপনি এই  ফতোয়াগুলো অনুসরণ করবেন না। কিন্তু যখন এ ফতোয়াকে আপনি ট্রোল করছেন, অসম্মান করছেন এবং কেউ এগুলোর উপর আমল করলে জোর করে তাকে নিজের মতামত ও নিজের ইমামের মতামতকে আমল করতে বাধ্য করছেন তখন বিষয়টা খুব বাজে হয়ে যায়। এই অসহনশীলতা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম বহুমাত্রিক ধর্ম, যা কেবলই ধারণ করে এবং এটি খুব কম সংখ্যক  বিষয়কেই বাতিল করে থাকে। এজন্যই আল্লাহ হালালকে করেছেন অগনিত, কিন্তু হারাম করেছেন সুনির্দিষ্ট ও অল্পসংখ্যক। 

আমার বার্তা হলো- ইসলামের এইযে বহুমাত্রিকতা ও  বহুমুখিতা তাকে আমাদের মুসলিমগণের স্বীকার ও শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি করা উচিত। গান আপনার মতে হারাম হলে অবশ্যই আপনি শুনবেন না; কিন্তু যার মতে তা হালাল তাকে না শুনতে বাধ্য করাটা হবে জুলুম! নারীর মুখমণ্ডল দেখানো হারাম মনে করলে আপনি তা আমল করতে পারেন, কিন্তু যে এটাকে হালাল মনে করে তাকে মুখমণ্ডল বেঁধে রাখতে বাধ্য করার অধিকার ইসলাম আপনাকে দেয়নি। কেউ ভালোবাসা দিবসকে হালাল মনে করে তার ফ্যামেলি এবং বন্ধুদের সঙ্গে তা উদযাপন করলে আপনি তাকে "হারাম কাজ করছো" এটা বলার অধিকার নেই। নিঃসন্দেহে হালাল অবারিত, হারাম সুনির্দিষ্ট এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক। আপনাকে অনেক বেশি সহনশীল হওয়া কাম্য এবং যেসব ফিকহি সিদ্ধান্তে মতানৈক্য আছে তার ব্যপারে যে কারোই অধিকার আছে যে কোন মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার। তাই মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে কারো আমলকে বিদআত বা অনৈসলামিক বলে দেয়া, নতুন কোন দর্শন শুনলেই এটা মর্ডানিস্টদের কাজ মনে করা, কাউকে এসব বিষয়ে উদার হতে দেখলেই তাকে মটারেট তকমা দেয়া নিতান্তই নিন্দনীয় বিষয়৷

ফিকহের একটা উসুল আছে যে "এ যুগে রাসূল সা. থাকলে কি করতেন" এই প্রশ্নের আলোকে সিদ্ধান্ত অনুমান করা। সম্ভবত হযরত আয়েশা রা. এই উসূলের প্রবর্তক ছিলেন,  বলা হয় তিনিই প্রথম বলেছেন; "রাসূল সা. যদি এখন থাকতেন তখন এই এই করতে বলতেন বা এই এই করতে দিতেন না...." । এই উসূলের আলোকে যদি ভাবেন ও প্রশ্ন করেন এমন কি হতে পারেনা যে, এ আধুনিক যুগে মহানবী সা. বেঁচে থাকলে, যেটাকে আপনি হারাম মনে করছেন, মর্ডানিস্টদের সেই আমলটাই রাসূল সা. অনুমোদন করতেন?? অথবা যেটাকে বিদআত বলে প্রত্যাখ্যান করছেন সেই আমলটাকেই বর্তমানে জরুরি মনে করতেন??

হয়তো আপনি কুয়োকে পৃথিবী ভাবছেন, আর আপনি ভাবছেন বলেই সেটা পৃথিবী হয়ে যাবেনা নিঃসন্দেহে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নির্ভেজাল ইসলামের স্বরুপ সন্ধানে

সাড়ে তিন হাত বডিতে ইসলাম !

ইসলাম ও গনতন্ত্র