কুরআনে যার জবাব নেই

 পবিত্র কুর-আনকে যদি আমরা সামনে রাখি তবে এমন বহু বিষয় দেখব, যা রসূল (সঃ) এর অস্তিত্ব বা সহিহ হাদিস ছাড়া কুরআনের অস্তিত্বটা বহু ক্ষেত্রে মানুষ বুঝতেই পারবে না যে আল্লাহ কি বুঝাতে চাচ্ছেন। রসূল (সঃ) স্বাধীন সত্তা শরীয়ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে এবং মহান আল্লাহ রসূল (সঃ)-কে যে ওহী করেন, সেই ওহী থেকেই তিনি শরীয়ত প্রণয়ন করেন, কিন্তু সব ওহী কুরআনে নাই। যেমন মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আন নিসা এর ৬১ নং আয়াতে বলেছেন,

"তাদেরকে যখন বলা হয় আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে আস, তখন মুনাফিকদেরকে আপনি আপনার কাছ থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন।"


উক্ত আয়াতটি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, এই আয়াতে আল্লাহ তার কিতাবের পাশে রসূল (সঃ)-কে সম্পূর্ণ আলাদা সত্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ সূরা আন নিসা এর ১৫০ নং আয়াতে বলেছেন,


নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের সাথে কুফরী করে এবং আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে, ‘আমরা (আল্লাহর পক্ষ থেকে আসলে মানব আর আল্লাহর নবীর পক্ষ থেকে আসলে মানব না) কতক-এর উপর ঈমান আনি এবং কতকের সাথে কুফরী করি’। আর তারা মাঝামাঝি একটা পথ অবলম্বন করতে চায়।


এই আয়াত থেকে আমরা এতটুকুই জানতে পারি, মহান আল্লাহ এখানে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং রসূল (সঃ) এর পক্ষ থেকে যা কিছু আমাদের নিকট এসেছে, তার সবই আমাদেরকে মানতে হবে। কেননা, রসূল (সঃ) এর প্রতি যত ওহী হয়েছে, সব ওহী কুরআনে নাই। 


মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে সূরা আন নিসা এর ১৫২ নং আয়াতে বলেছেন,


" আর যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলগনের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাদের একের সাথে অপরের পার্থক্য করেনি, অচিরেই তাদেরকে তিনি তাদের প্রতিদান দেবেন।"


শরীয়ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে রসূল (সঃ) যে স্বাধীন সত্তা বা কোনো জিনিসকে হালাল/হারাম করেন তার জলযেন্ত প্রমাণ সূরা আল আরাফ এর ১৫৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। 👇


যারা অনুসরণ করে রাসূলের, উম্মী নবীর, যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিপিবদ্ধ পায়, যিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন। এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদেরকে তাদের গুরুভাব ও শৃংখল হতে মুক্ত করেন যা তাদের উপর ছিল। কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তার সাথে নাযিল হয়েছে সেটার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। 


উক্ত আয়াত টি ভালভাবে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই যে, সেখানে মহান আল্লাহ یَتَّبِعُوۡ (ইয়াত্তাবিউ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। পবিত্র কুরআনে কোথাও ইয়াত্তাবিউল্লাহ (আল্লাহকে ইত্তেবা) করো এ কথা ব্যবহার হয়নি। কেননা, ইত্তেবা এর শাব্দিক অর্থ হলো "একজন ব্যাক্তি সামনে হাঁটবে এবং তার পিছনের ব্যাক্তি তাকে অনুসরণ করবে যে, সে কোথায় কোথায় পা ফেলছে"। এটারই নাম ইত্তেবা, যেটার জন্য দেখা লাগে এবং অনুসরণ করা লাগে। এই ইত্তেবাটা সম্পূর্ণরুপে রসূল (সঃ) এর সাথেই খাস।


সকল মুনকিরিনে হাদিসরা (হাদিস অস্বীকারকারী) حِکۡمَۃَ (প্রজ্ঞা) শব্দ সামনে এনে বলেন, যে এই হিকমাহ মানেও কুর-আন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, মহান আল্লাহ কুরআনের বাইরেও অন্য কিছুকে হিকমাহ বলেছেন।


সূরা আল লুকমান এর ১২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,


আর অবশ্যই আমরা লুকমানকে হিকমত দিয়েছিলাম।  


আর আমরা সবাই জানি যে, লুকমান কোনো নবী ছিলেন না। তাহলে উনাকে যেই হিকমাহ দেওয়া হয়েছে, তা তো কোনো কিতাব নয়। তাহলে হিকমাহ বলতে যে সর্বদা কুর-আন হবে এ ধারণাটা যে ভুল তা প্রমাণিত হলো।


মহান আল্লাহ সূরা আল বাকারা এর ১৫১ নং আয়াতে বলেছেন,


যেমন আমরা তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি যিনি তোমাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন। আর তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। 


এই আয়াতটি পড়লে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি, মহান আল্লাহ এখানে কিতাব (কুর-আন)  এবং হিকমাহকে (প্রজ্ঞা) সম্পূর্ণরুপে আলাদা করেছেন। যদি ধরেও নেই, এখানে কিতাব এবং হিকমাহ একই জিনিস তাহলে মহান আল্লাহ কেন দুটি জিনিসকে পৃথক করে বললেন? আমরা সবাই জানি,  আরবিতে وَ (এবং বা ও) শব্দ ব্যবহৃত হয় দুইটি আলাদা সত্তাকে বুঝাতে। এখানে কিতাব ও হিকমাহ বলতে দুটিই যদি কুর-আন হয় তবে এটা হবে আল্লাহর সাহিত্যিক মানের ত্রুটি। আর মহান আল্লাহ একই কথা একই বাক্যের মধ্যে বার বার বলেন না। 


তারপরও যদি মেনে নেই যে কিতাব ও হিকমাহ একই জিনিস, তাহলে উক্ত আয়াতের শেষে মহান আল্লাহ কেন বললেন "আর তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না"। 


অর্থাৎ এখানে না জানা বিষয়টি কোথায়? সেটা অবশ্যই পবিত্র কুরআনের বাইরে। আমরা কক্ষনোই বলিনা যে, রসূল (সঃ) আল্লাহর ওহী ব্যতিত কোনো শরীয়ত প্রণয়ন করেছেন। বরং রসূল (সঃ) তার পুরো জীবনে শরীয়তের নামে যা যা বলেছেন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী ভিত্তিতেই। কিন্তু সব ওহী পবিত্র কুরআনে নাই। 


পবিত্র কুরআনে সূরা আল কিয়ামাহ এর ১৬ - ১৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন,


তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি তা নিয়ে আপনার জিহ্‌বাকে দ্রুত সঞ্চালন করবেন না। (১৬)


নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমাদেরই। (১৭)


কাজেই যখন আমরা তা পাঠ করি আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন, (১৮)


তারপর তার ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই। (১৯)


এই আয়াতগুলো পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই, মহান আল্লাহ এখানে ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণরুপে আলাদা করেছেন। এই ব্যাখ্যাটাই হলো হাদিস।


কুরআন তো কারো বাপ-দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে, কোনো ব্যাক্তি যেইদিক থেকে ইচ্ছা সেইদিক থেকে জমিন চাষ করবে তাতে কার কি? কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে রসূল (সঃ) এর উপর। তাই, কুরআনের প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যাও করবেন রসূল (সঃ)। এটি এভরিবডিস্ বিজনেস নয় যে, যার ইচ্ছা তেমনিভাবে বর্ণনা করবে। একজন চোরকে উত্তম মধ্যম না দিলে সে স্বীকার করেনা যে সে চোর। ঠিক তেমনি মুনকিরিনে হাদিসরাও রসূল (সঃ) এর শত-হাজার হাদিসকে অস্বীকার করেও তারা স্বীকার করেন না যে তারা মুনকিরিনে হাদিস (হাদিস অস্বীকারকারী)। পুরো মুনকিরিনে হাদিসদেরকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম। যদি হিম্মত থাকে তবে কুরআনের এই আয়াতের ব্যাখ্যাগুলো কুরআনের আয়াত দিয়েই করবেন, কেননা অধিকাংশ মুনকিরিনে হাদিসদের মতে কুরআনের বাইরে অন্য যেকোনো কিছু মানা শির্ক (প্রমাণ চাইলে দেওয়া যাবে)।👇


১। সকল মুনকিরিনে হাদিসদের (হাদিস অস্বীকারকারী) দাবি যে, কুরআনের বাহিরে কেউ অন্য কিছু (হাদিস) মানতে বাধ্য নয়। মহান আল্লাহ তো সারা পৃথিবী বাসির জন্য কুর-আনকে আম করে দিয়েছেন, তাহলে পোষ্টম্যানকে (রসূল সঃ)-কে আম করার কি প্রয়োজন?


যারা রসূল (সঃ)-কে দেখেনি বা পরবর্তীতে আসবে, তারা সেই রসূলের নির্দেশ কোথায় থেকে মানবে?


২। মুনকিরিনে হাদিসদের মতে হাদিস মানা শির্ক। তাহলে তো মহান আল্লাহ কুরআনে বলতে পারতেন যে, যে আল্লাহর আনুগত্য করলো, সে রসূলের আনুগত্য করলো। অথচ মহান আল্লাহ কেন এই কথার উল্টা কথা কুরআনে নাজিল করলেন? সূরা আন নিসা এর ৮০ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, 


যে রসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো।


৩। যদি রসূল (সঃ) এর হাদিস মানা না যায় এবং হাদিস মানা যদি শির্ক হয় তবে মহান আল্লাহ সূরা আন নিসা এর ৬৪ নং আয়াতে কেন বললেন, 


আল্লাহর অনুমতিক্রমে কেবলমাত্র আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূলদের প্রেরণ করেছি।


৪। যদি কেউ রসূল (সঃ) এর হাদিসকে বাদ দিয়ে নিজের মনমতো করে কুরআনকে বুঝতে চায় তবে কুরআনে এমন বহু আয়াত আছে, যা রসূল (সঃ) এর হাদিস ছাড়া ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। যেমন মহান আল্লাহ সূরা আল বাকারা এর ১৮৭ নং আয়াতে বলেছেন, 


আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা (সুতা) থেকে সাদা রেখা (সুতা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয়।


একজন সাহাবী ভুল করে বসলেন এবং তিনি রাতে সাদা সুতা এবং কালো সুতা নিয়ে ঘুমালেন এবং কিছুক্ষন পর পর দেখতে থাকলেন যে, কখন সাদা সূতা আর কালো সুতা স্পষ্ট হয়। পরে রসূল (সঃ) সেই সাহাবীকে বললেন যে, আরে শোনো, এখানে সাদা রেখা/সুতা আর কালো রেখা/সুতা অর্থ হলো রাতের অন্ধকাচ্ছন্ন এবং সকালের শুভ্রতা উদ্দেশ্য। তাহলে মুনকিরিনে হাদিসরা এই ব্যাখ্যা কুর-আনের কোথায় থেকে দিবে?


৫। সূরা আত-তাওবা এর ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, 


আল্লাহর নিকট মাসের গণনা ১২ টি। তার মধ্যে হারাম মাস ৪টি। 


সেখানকার কোন ৪ টি মাস হারাম তা তো কুরআনে কোথাও বলা নাই। যেহেতু এই ৪ টি হারাম মাসের মর্যাদা আছে, সেহেতু এই ৪ টি হারাম মাসের ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


৬।  মহান আল্লাহ সূরা আল মায়িদা এর ৩ নং আয়াতে বলেছেন,


তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোস্ত, আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু, গলা চিপে মারা যাওয়া জন্তু, প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু, অন্যপ্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু। 


তাহলে কি এই আয়াতের বাইরে যেইসমস্ত পশু  যেমন কুকুর থেকে শুরু করে বাঘ-ভাল্লুক এবং যত হিস্র প্রাণী আছে সবই কি মুনকিরিনে হাদিসরা খাবে? কেননা মহান আল্লাহ তো কুরআনে শূকর খাওয়া হারাম করেছেন, কুকুর খাওয়া তো নয়।


৭। মহান আল্লাহ সূরা আল মায়িদা এর ৩৮ নং আয়াতে বলেছেন, 


আর পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও। 


সেখানে কোন হাত কতটুকু কাটবে তার ব্যাখ্যা কুরআনে নাই। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লহাবিদ/ভাষাবিদের মধ্যে একাধিক মত আছে। কেউ বলেছেন, এখানে হাত মানে কব্জি, কেউ বলেছেন কুনুই পর্যন্ত, আবার কেউ বলেছেন কাঁধ পর্যন্ত। তাহলে এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


৮। মহান আল্লাহ সূরা আনফাল এর ৪১ নং আয়াতে বলেছেন - 


শোনো, গনীমতের মালের ৫ ভাগের ১ ভাগ আল্লাহ ও তার রসূলের জন্য।


উক্ত আয়াতে শুধুমাত্র ১ ভাগ গনীমতের মালের বর্ণনা পাওয়া যায়। তাহলে বাঁকি ৪ ভাগ কার? মুনকিরিনে হাদিসরা সেই গনীমতের মালের ৪ ভাগ কার কার, তার ব্যাখ্যা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


৯। মহান আল্লাহ সূরা আল আনাম এর ৮২ নং আয়াতে বলেছেন, 


যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।


আমরা সবাই জানি যে, প্রত্যেক গুনাহ হলো যুলুম। তাহলে যারা ছগিরা (ছোট) গুনাহ করেছে, তাদের তো এই আয়াত অনুযায়ী বাঁচার কোনো পথ নাই। এমন কোনো সাধারণ মানুষ নাই, যেই ব্যাক্তি ছোট-খাটো গুনাহ থেকে মুক্ত। রসূল (সঃ) এর হাদিস ছাড়া এই আয়াতের ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


১০। মহান আল্লাহ সূরা আল মায়িদার ৯০-৯১ নং আয়াতে বলেছেন,


হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ নাপাক এবং শয়তানের কর্ম।


কুরআনের এই আয়াত দ্বারা মদ হারাম। কিন্তু কুরআনের কোথায়ও নাম ধরে ধরে বলা নাই যে এইগুলো এইগুলো মদ। এটা নিয়ে লহাবিদ এবং ভাষাবিদদের মধ্যে চরম ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) আছে। কেউ আঙুর ফলের মদকে মদ বলেছেন আবার কেউ খেজুরের মদকে মদ বলেছেন। তাহলে এই আয়াতের ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


১১। মহান আল্লাহ কুরআনে সূরা আল হিজর এর ৮৭ নং আয়াতে বলেছেন, 


আর আমরা তো আপনাকে দিয়েছি পুনঃপুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন। 


উল্লেখ যে, কুরআনুল কারিমে সূরা আল ফাতিহা এবং সূরা আল মাঊন উভয় সূরারই আয়াত সংখ্যা ৭ টি। আল্লাহ তো কুরআনে কোথাও বলেননি যে, সেই ৭ আয়াত বিশিষ্ট সূরা কোনটি? রসূল (সঃ) এর হাদিস ছাড়া এই আয়াতের ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


১২। মহান আল্লাহ সূরা আত-তূর এর ৪ নং আয়াতে বায়তুল মা'মুর এর কথা বলেছেন। বায়তুল মা'মুর যে আসলে কি তা কুরআনে কোথাও বলা নাই। রসূল (সঃ) এর হাদিস ছাড়া এই আয়াতের ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


১৩। আল্লাহ কুরআনে সূরা আন- নাজম এর ১৪ নং আয়াতে সিদরাতুল মুনতাহার কথা বলেছেন। মুনকিরিনে হাদিসরা কুর-আন থেকে কি সিদরাতুল মুনতাহা কি তা ব্যাখ্যা করতে পারবে?


১৪। সূরা আল কাউসার এর ১ নং আয়াতে মহান আল্লাহ আমাদের নবীকে বলেছেন, 


নিশ্চয় আমরা আপনাকে কাউছার দান করেছি।


যারা রসূল (সঃ) এর সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করে তারা কি পারবে কাউসার কি তা কুর-আন থেকে ব্যাখ্যা করতে?


১৫। মহান আল্লাহ সূরা আল বাকারা এর ২২২ নং আয়াতে ঋতুবতী মহিলা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। 


মুনকিরিনে হাদিসদের চৌদ্দ গোষ্ঠি কি পারবে কুরআন থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে? অথচ যদি কেউ এই আয়াত বুঝতে ভুল করে তবে সে একটি কবিরা গুনাহতে লিপ্ত হবে এবং বিধর্মীরা ভাববে যে, ইসলাম নারীকে মর্যাদা দেয়নি।


১৬। কুরআনে রসূল (সঃ) এর প্রতি মানুষ এবং ফেরেস্তাদের সলাত/সালাম পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। রসূল (সঃ) এর প্রতি আমরা কিভাবে সলাত পাঠ করবো তার জবাব কি মুনকিরিনে হাদিসরা কুর-আন থেকে দিতে পারবে?


১৭। সূরা আল ইসরা (বানী-ইসরাইল) এর ৭৯ নং আয়াতে বলা আছে, 


আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় আপনার রব আপনাকে মাক্বমাম মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন।


 উক্ত আয়াতে মাকামাম মাহমুদ বলতে কি বুঝানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


*** মুনকিরিনে হাদিসরা তাদের বইয়ে লিখে রেখেছেন, বিয়ের জন্য ২ জন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। কুরআনুল কারীমে এই বর্ণনা কোথায় আছে?


*** কেউ তার পিতাকে হত্যা কররলে সে তার পিতার সম্পত্তির অংশিদার নয়। রসূল (সঃ) এর হাদিসকে বাদ দিলে এই বিধান আমরা কোথায় থেকে জানবো?


*** মহিলারা ঋতুবতী অবস্থায় সলাত ছেড়ে দেয় এবং তার কাযা করেনা,কিন্তু ঋতুবতী অবস্থায় সিয়াম ছেড়ে দিলে, তারা পরবর্তীতে সেই সিয়ামের কাযা আদায় করে। এই বিধান কুরআনে কোথায় আছে? কোনো মুনকিরিনে হাদিস কি কুরআন থেকে দেখাতে পারবে কুরআনের কোথায় এর সমাধান আছে?


*** কেউ চাইলে তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর খালাকে বিয়ে করে একসাথে সংসার করতে পারবে কিনা এর ফায়সালা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


*** দাদি কতটুকু অংশ পাবে মিরাসের? রসূল (সঃ) এর হাদিসকে পরিত্যাগ করে মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে এর সমাধান দিবে?


*** ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, রসূল (সঃ) বলেছিলেন, 


খলিফা হবে কুরাইশ বংশ থেকে। কিন্তু এই বর্ণনা তো রসূল (সঃ) এর হাদিস ছাড়া কুরআনের কোথাও বলা নাই।


১৮। মহান আল্লাহ কুরআনে ৮০ বারেরও অধিক জায়গায় সলাত কায়েম করার কথা বলেছেন। কিন্তু কুরআনে সলাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত বর্ণনা রসূল (সঃ) এর হাদিসে ছাড়া কুরআনে তার বর্ণনা নাই। তাহলে কি মুনকিরিনে হাদিসরা যে যার ইচ্ছা সেইভাবে সলাত আদায় করবে? কোনো মুনকিরিনে হাদিস কি পারবে কুর-আন থেকে শুধুমাত্র ২ রাকাত সলাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদায় করে দেখাতে?


১৯। মহান আল্লাহ কুরআনের বহু আয়াতে বলেছেন যাকাত আদায়ের কথা। কিন্তু কতটুকু সম্পদের মালিক হলে কি পরিমান সম্পদ যাকাত দিতে হবে তার কোনো বর্ণনা কুুরআনে নাই।  তাহলে যাকাতের নিসাব কি পরিমান তার ব্যাখ্যা মুনকিরিনে হাদিসরা কুরআনের কোথায় থেকে দিবে?


*** রসূল (সঃ) এর মৃত্যুর পর যখন আবু বকর (রঃ) খলিফা হয়েছিলেন তখন একদল লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তখন আবু বকর (রঃ) ঐসমস্ত যাকাত অনাদায়কারীদের বিরুদ্ধ যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন কিসের ভিত্তিতে?


তাহলে কি সবাই নিজেদের ইচ্ছামতো যাকাত আদায় করবে? যদি করে থাকে তবে কি তা শির্ক এবং বিদ'আতে পরিনত হবেনা?


২০। ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত যে, রসূল (সঃ) এর মৃত্যুর পর ফাতিমা (রঃ) এবং আলী (রঃ) গিয়েছিলেন আবু বকর (রঃ) এর কাছে রসূল (সঃ) এর সম্পদের উত্তরাধিকার হতে। তখন আবু বকর (রঃ) তাদের সামনে রসূল (সঃ) এর হাদিস পাঠ করে শুনিয়েছিলেন যে, রসূল (সঃ) বলেছেন, নবীদের সম্পদের উত্তরাধিকার নাই। এই সম্পর্কে কোনোরুপ বর্ণনা কি কুরআনের কোথাও আছে? তাহলে এর ফায়সালা মুনকিরিনে হাদিসরা হাদিসকে বাদ দিয়ে কোথায় থেকে দিবে?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নির্ভেজাল ইসলামের স্বরুপ সন্ধানে

ইসলাম ও গনতন্ত্র

সাড়ে তিন হাত বডিতে ইসলাম !