সকল ইসলামী দলগুলোর প্রতি আকুল আবেদন
(সকল পীর কেন ভন্ড)
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমার পীরালি ব্যাবসা তো ঠিকই আছে মারেফাত, তরিকত, হাকিকতের নাম দিয়া আমার মাজার ব্যাবসা তো ভালই চলছে দেশ-ইসলাম গোল্লায় যাক আমার তাতে কি ? আমি আমার এত লাভজনক ব্যাবসার ক্ষতি সাধন করে দেওবন্দী আর জামাতে ইসলামকে সাপোর্ট দিতে পারব না। ইসলামী রাষ্ট্রে কায়েমের আমার কোন ফরজিয়্যাত নাই।
(ওলামায় দেওবন্দ কেন বিচক্ষণহীন)
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমি তো আমার মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকা-তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এভাবে দেশের নিম্নবিত্ত্ব মানুষকে আমলদার বানাতে পারলেই ইসলামী হুকুমত অটোমেটিক কায়েম হয়ে যাবে। উচ্চবিত্ত মানুষেরা আমাদেরকে কাটমোল্লা ভাবুক, মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত বলে ব্যঙ্গ করুক তাতে আমাদের কিছুই আসে যায় না, আমরা যাকাত-ফেতরার টাকায় চলে নিম্নবিত্তদের মাঝেই ইসলামে খেদমত করে যাব তবুও জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিয়ে ঐ গণতন্ত্র আর নারী নেতৃত্বে গিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত পরিষরে ইসলাম কায়েমের কোন দরকার ই আমাদের নেই। অনৈসলামিক পন্থায় ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়। আমাদের এখন মক্কী জীবন চলছে মাদানী জীবন আসলেই ইসলামী হুকুমত কায়েম হয়ে যাবে।
(আহলে হাদীসদের গোমরাহী)
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমি তো মানুষকে সহিহ হাদীস পালনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছি। আগে মানুষকে মাজহাবী শের্ক-বেদাত মুক্ত করতে হবে তারপরে দেশে ইসলাম কায়েম করতে হবে বোমাবাজী করে। গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম হবে না ।
এই তিন দলের সকলের কাছে আমার অনুরোধ আমার নিচের লিঙ্ক এর পোষ্ট গুলো পড়ুন এবং নিজের বিবেককেই প্রশ্ন করুন সবার এক হওয়া এখন ফরজে আইন কিনা ?
যে সকল পীর পন্থি ভাইগণ দেওবন্দ, জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে সারাদিন জিহাদ চালাচ্ছেন, যে সকল দেওবন্দী ভাইগণ জামায়াতে ইসলাম ও জাকির নায়েক ও আহলে হাদীস ভাইদের বিরুদ্ধে সারাদিন জিহাদ চালাচ্ছেন, যে সকল আহলে হাদীস ভাইগণ সারাদিন জামাতে ইসলাম ও দেওবন্দের বিরুদ্ধে জিহাদ চালাচ্ছেন তাদের কাছে আমার কড়জোরে বিনীত আরোজ এখন কি আমাদের ভ্রাতৃঘাতি অন্তর্দন্দ করে নিজেদের কে নাস্তিকদের কাছে করুনার পাত্র করার সময় নাকি সকল ক্ষুদ্র মতভেদ আপাতত একপাশে রেখে সবাই মিলে অন্তত একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করে এ দেশ থেকে নাস্তিকদের লম্বা হাতকে কঠোর ভাবে দমন করার সময় যে লম্বা হাত অলরেডি এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে দেয়ার সকল ষড়যন্ত্র প্রস্তুত করে রেখেছে ?
(প্রমাণ আমার নিচের লিঙ্ক গুলোতে পাবেন)
আমরা মুসলমান, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি করে নাস্তিক হবে? একটা সাভাবিক প্রশ্ন। অথচ সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হওয়ার মতোই বিষয়টি বাস্তব। আমাদের চোখের সামনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নাস্তিক করা হচ্ছে, আইনগতভাবেই তা করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কিছু বিষয় আমাদের কাছে খটকা লাগে, তবে তার অন্তর্নিহিত অর্থ এবং দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপটে তার ফল কি তা আমরা অনুভব করতে পারি না। এই কথাটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিশারদ আলেক্সন্ডার ব্রেজমেনভ। যারা ইংরেজি ভাল বুঝেন তারা তা ইউটিউব https://www.youtube.com/watch?v=IHgYPDvQFU8 সাক্ষাৎকারটি দেখে নিতে পারেন।
আমাদের জানা প্রয়োজন যে, আমাদের দেশে কিভাবে নাস্তিকতার প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবেই তা হচ্ছে যার যৎসামান্য অংশ আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আপনাদের মধ্যে যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিশ্বাস নিয়ে চিন্তিত তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। আর যারা ইতোমধ্যেই ইসলামের শত্রুদের মগজধোলাই কার্যক্রমের কারণে তথাকথিত মুক্তচিন্তা, নাস্তিকতা কিংবা ইসলাম বিদ্বেষী মানসিকতার অধিকারী বলে নিজেদেরকে ধারণা করেন, তাদের জন্য, এই লেখাটির বাকি অংশটুকু না পড়লেও চলবে।
এবার আসুন দেখি! কিভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নাস্তিক বানানো হচ্ছে। ব্রেজমেনভ বলেছে একটি জাতি কিংবা একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস/উপলব্ধিগত পরিবর্তনের জন্য এক প্রজন্ম সময়ের প্রয়োজন। অর্থাৎ ছোট একটি বাচ্চার মধ্যে ওই অল্প বয়স থেকেই বিভ্রান্তিপূর্ণ উপলব্ধি প্রবেশ করাতে শুরু করতে হয়। সে যখন সাবালক হয় তখন সে হয়ে যায় পরিবর্তিত মানসিকতার এক ব্যক্তিত্ব। একটি পর্যায়ে এসে তার বিশ্বাস এবং উপলব্ধি শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক বিশারদের লক্ষ্য অনুযায়ী রূপ লাভ করে। এক্ষেত্রে কোন দেশ বা জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে মগজ ধোলাইয়ের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাঙ্গণ। শত্রু দেশ যদি এই প্রাঙ্গণটিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে ওই জাতির মগজধোলাই হওয়াটা হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার মাত্র।
যেমন-
১। আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী একজন স্বঘোষিত নাস্তিক
২। শিক্ষাসচিব অঘোষিত নাস্তিক
৩। উপসচিব একজন হিন্দু
৪। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপতরের প্রবেশ করলে মনে হবে ভারতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর। শতকরা ৭০ জন কর্মকর্তা হিন্দু, নিজ চোখকে তখন অবিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়।
৫। ঢাকা বোর্ডেও ওই একই অবস্থা। এনসিটিবি অধিদপ্তর, যারা জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলাম নির্ধারণ করে, তার ডিজি হচ্ছে একজন হিন্দু। ৯৮ ভাগ মুসলমানদের জন্য শিক্ষানীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকার একজন হিন্দুর কাছে অর্পণ করেছে।
৬। ফলশ্রুতিতে কি হয়েছে? স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তকসমূহে যত গদ্য/পদ্য আছে তার ৫০ ভাগেরও বেশি লেখক হচ্ছে হিন্দু। আর মুসলমান লেখকদের মধ্যে আছে ইসলাম বিদ্বেষী হুমায়ুন আজাদ ও তদীয় মানসিকতার কিছু লেখক/কবি। কবি নজরুল ইসলাম কিংবা তদীয় কিছু লেখক/কবিদের লেখা না দিলেই নয় বলে উনাদেরকে রাখা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সিলেবাসভুক্ত নয়।
৭। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী প্রায় সকল শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের যৌন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন শরীর চর্চার পাঠ্যক্রমে। একজন মহিলা শিক্ষিকা ছেলেদের ক্লাস এবং একজন পুরুষ শিক্ষক মেয়েদের ক্লাসে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে তা পড়াতে গিয়ে।
৮। ২০১৩ সালে ৮ম শ্রেণীর ইসলামী শিক্ষা বইতে বেশ কিছু বিভ্রান্তি পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করানো হয়, যা ব্যাপক প্রতিবাদের কারণে এবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
৯। ব্লগ এবং ফেসবুক হচ্ছে আগামী প্রজন্মের মুসলমানদের নাস্তিক করার অপর এক বিশাল প্রাঙ্গণ। এ বিষয়ে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করছে বেশ কিছু ব্লগ http://www.somewhereinblog.net/blog/MonirHasan/29053063
http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=2884
(এরকম শত শত ব্লগ পোষ্ট আছে নাস্তিকদের প্রায় ত্রিশটি ব্লগ এ)
১০। বেশ কিছু ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগ মুসলমানদের নামে ‘নিক’ নিয়ে ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ন্যক্কারজনকভাবে অপপ্রচার চালায়। সরকার ওই সব নাস্তিক ব্লগারদের শাহবাগ আন্দোলনের সময় পুলিশ গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১১। ব্লগে লিখিত ওইসব ইসলামবিদ্বেষী লেখাসমূহকে সঙ্কলন করে তারা ২১-এর বই মেলায় বই বিতরণ করে। আমাদের তথাকথিত বর্তমান মুসলমান গণতান্ত্রিক সরকার এ বিষয়ে মৃত লাশের মতো নিশ্চুপ।
একবার একটু ভাবুন তো আপনারা নিজেদের বিরুদ্ধে যত ঘন্টা টাইম দিচ্ছেন এ দের বিরুদ্ধে কত ঘন্টা দিতে পেরেছেন আজ অবধি (এদের বিরুদ্ধে কলম ধরার যোগ্যতা আছে কজনের !) ?
বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'(নাস্তিকতা)চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা ) http://www.somewhereinblog.net/blog/MonirHasan/29053063
যারা পীর ব্যাবসা নিয়ে আছেন বা দেশ-সমাজের বৃহত পরিসরে দ্বীনের দাওয়াত বর্জন করে মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকা-চিল্লার ক্ষুদ্র পরিসরের দ্বীনের দাওয়াত নিয়েই পরিতৃপ্ত এবং অহংকারী হয়ে কলেজ-ভার্সিটি-সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্রের বৃহত পরিসরে দ্বীনের দাওয়াতে ব্যাস্ত জামাত-শিবির-জাকির নায়েকদের সমালোচনায় সারাদিন কাটান তাদের কয়জনের যোগ্যতা আছে দেশের হাজার হাজার এ সকল নাস্তিক তরুন প্রজন্মের কাছে ধর্মের যৌক্তিকতা তুলে ধরার ? হেফাজতের তের দফা বাস্তবায়নে কি শিক্ষিত তরুন সমাজের এ নাস্তিকতার জোয়ার বন্ধ হবে নাকি ব্লগ-ফোরামগুলোতে গিয়ে তাদের সাথে কলমী জিহাদ চালাতে হবে ? ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষা ব্যাবস্থার এমন পরিবর্তন করতে হবে যাতে এ নাস্তিকতা উৎপাদনের মূল শিকড় ধংস্ব হয় ? https://www.youtube.com/watch?v=r0n0-8RcKnw
দয়া করে আমার নিচের ব্লগ গুলোও পড়ুন
সম্মানিত ওলামায় দেওবন্দীদেরকে বলছি - কেন আপনারা জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন করবেন
(এই পোষ্ট টির মধ্যে আরো কিছু লিঙ্ক আছে সেগুলো দয়া করে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন কিভাবে দেশের সকল স্তরে হিন্দুদের কর্তৃত্ব দিয়ে ইসলামকে চিরতরে বিলীন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র ফাইনাল করে রাখা হয়েছে)
মাজার ব্যাবসায়ী আহলে বেদাত ওয়াল সিন্নীর পোষ্ট মর্টেম
মুসলিমরা কি পারবে তাদের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে ?
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের নিকট হস্তান্তর
ইসলামী দল ক্ষমতায় না থাকার পরিণাম : ৯০% মুসলিমের দেশ চালায় হিন্দুরা
রাষ্ট্রশক্তি বিহীন ইসলাম ইসলামই নয়.
http://www.somewhereinblog.net/blog/sohel007/29781410
সবকিছু পড়েও যদি আপনারা ভ্রাতৃঘাতি এই অন্তর্দন্দ না থামিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমে যোগ্য কোন রাজনৈতিক দলকে ( জামায়াতে ইসলাম) সমর্থন না দেন তাহলে আপনার ঈমান ও ইসলাম প্রচারের খেদমত নি:সন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ !
ইসলামী ভাবধারামণ্ডিত সমস্ত কবিতা পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে দেয়া:
এবারের পাঠ্যসূচিতে ইসলামী ভাবধারামণ্ডিত সমস্ত কবিতা তুলে দেয়া হয়েছে। এবং তার বদলে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ও হিন্দু কবিদের কবিতা প্রবেশ করানো হয়েছে। যেমন:
ক) যেমন ৫ম শ্রেণী থেকে কবি কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি তুলে দেয়া হয়েছে, এর বদলে ঢোকানো হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী কবি হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ কবিতাটি, যা দিয়ে কৌশলে পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে কোমলমতি শিশুদের মনে খারাপ ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
খ) নবম-দশম শ্রেণী থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’ নামক জনপ্রিয় কবিতা তুলে নেয়া হয়েছে। এর বদলে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ব্রিটিশ আমলের চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা।
৩) চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষীদের লেখা পাঠ্যবইতে অন্তর্ভূক্তকরণ:
পবিত্র দ্বীন ইসলামকে কটাক্ষ করে লেখালেখি করে এদেশের জাতীয় পর্যায়ে যেসব লেখক রীতিমতো কুখ্যাতি অর্জন করেছে, তাদের লেখা পাঠ্যবইয়ের প্রত্যেক শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যেমন কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক হুমায়ূন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের স্বামী সিফিলিসে আক্রান্ত রুদ্র শহীদুল্লাহ, সেলিনা হোসেন, সনজীদা খাতুন, কবীর চৌধুরী এবং এরকম আরো অনেকে।
৪) কুরআন শরীফ বিরোধী কবিতা:
৫ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ এর ৩৫ পৃষ্ঠায় কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ূন আজাদের লেখা ‘বই’ নামক একটি কবিতা সংযোজন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- “যে বই তোমায় দেখায় ভয়/সেগুলো কোন বই-ই নয়/সে বই তুমি পড়বে না। যে বই তোমায় অন্ধ করে/যে বই তোমায় বন্ধ করে/সে বই তুমি ধরবে না।” অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতে, পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং জাহান্নামের প্রতি ভয় প্রদর্শনের প্রতি কৌশলে বিষেদগার করতেই এ কবিতা রচনা করেছে নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ।
৫) কৌশলে দ্বীন ইসলামের সাথে সাংঘার্ষিক শিক্ষাপ্রদান:
ক্লাস ৪ এর বাংলা বইয়ে ‘লিপির গল্প’ নামক গল্পে ‘শিক্ষক’ বলেছে, ‘আজ থেকে ছয়-সাত হাজার বছর আগে পৃথিবীতে লোকজন লিখতেও জানতো না পড়তেও জানতো না। তখন কেউ স্বাক্ষর ছিলো না, লেখাপড়া জানতো না। অথচ প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার উপর ১০ খানা সহীফা নাজিল হয়েছিলো এবং তিনি নিজেই প্রায় ১০ লক্ষ ভাষা জানতেন। এখানে উদ্দেশ্যমূলক ইসলামী আক্বীদা বিরুদ্ধে গিয়ে কৌশলে শিশুদের নাস্তিকতা প্রবেশ করানো হচ্ছে।
৬) বাংলাদেশের পুরাকীর্তি মানেই হিন্দু-বৌদ্ধ স্থাপনা, এমন ধারণা শিশুদের কচি মনে বদ্ধমূল করা:
বর্তমান সিলেবাসের পাঠ্যপুস্তকসমূহের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এসব পাঠ্যপুস্তকে এদেশের পুরাকীর্তি মানেই হিন্দু-বৌদ্ধ স্থাপনা, এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মনে ঢুকিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। যেমন ৪র্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পাঠ্যপুস্তকে ‘পাহাড়পুর’ বৌদ্ধ বিহার নিয়ে একটি প্রবন্ধ রয়েছে। ৫ম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের ‘শখের মৃৎশিল্প’ প্রবন্ধের ৪২-৪৩ শালবন বিহার, কান্তজির মন্দির, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, মহাস্থানগড় এদের বর্ণনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ৫ম শ্রেণীর উক্ত বইতে ‘মাটির নিচে আরেক শহর’ প্রবন্ধেও বৌদ্ধধর্মীয় স্থাপনার বিবরণ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে পুরাকীর্তি বলতে শুধু বৌদ্ধ ও হিন্দুদের মন্দিরকেই তুলে ধরা হয়েছে, যেন কোমলমতি শিশুদের ধারণা জন্মে বাংলাদেশে মুসলমানদের কোন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা পুরাকীর্তি নেই।
৭) হিন্দুয়ানী শব্দের ছড়াছড়ি:
বর্তমান সিলেবাস ও পাঠ্যসূচি দেখলে মনে হয়, এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এদেশের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে তাদের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে হিন্দুধর্মে প্রবেশ করানো। নাউযুবিল্লাহ! ১ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’তে কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে হিন্দুত্ববাদ। অক্ষর পরিচয় করতে গিয়ে ঋষি, ওঝা, হিন্দু ঢাক, হিন্দুদের রথ, বাউলদের একতারা এ টার্মগুলো শেখানো হচ্ছে। অথচ এর বদলে আরো বহু শব্দ দিয়ে বাচ্চাদের শিখানো যেতো।
১ম শ্রেণী থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে ওপরের ক্লাসের বইগুলোতে হিন্দুধর্মের আরো গভীরে প্রবেশ করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’য়ের অন্তর্ভূক্ত, হিন্দু কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা ‘নেমন্তন্ন’ কবিতার কয়েকটি লাইন হচ্ছে-
বিয়ের বুঝি?
না বাবুজি।
কিসের তবে?
ভজন হবে।
শুধুই ভজন?
প্রসাদ ভোজন।
অর্থাৎ এদেশের মুসলমান পরিবারের কোমলমতি শিশুরা এই ৪র্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পড়ে ছোটবেলা থেকেই শিখছে যে, হিন্দুদের ন্যায় ‘বাবু’ বলে একে অপরকে সম্বোধন করতে হবে, সাথে সাথে ‘ভজন’ তথা হিন্দুদের ধর্মীয় সঙ্গীত শুনতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়, মন্দিরের নাপাক ‘প্রসাদ’ও ভোজন করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
মুসলমান ও হিন্দুদের ভাষারীতির প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, ‘পানি’ ও জল। তাই হীন উদ্দেশ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান শিক্ষার্থীদের পানির বদলে ‘জল’ শব্দতে অভ্যস্ত করানোর লক্ষ্যে ৫ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পাঠ্যপুস্তকে ‘অবাক জলপান’ নামে একটি নাটিকা সংযোজন করা হয়েছে, যে নাটিকার প্রত্যেকটি সংলাপে ‘জল’ শব্দটি একাধিকবার রয়েছে।
এরপর আরো উচ্চতর শ্রেণীতে এমনভাবে হিন্দুধর্মের একান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় টেনে এনে শব্দার্থ করে দেখানো হয়েছে, যা পূর্বে কখনোই এদেশের পাঠ্যপুস্তকে দেখা যায়নি। যেমন অষ্টম শ্রেণীর বাংলা প্রথম পত্র পাঠ্যবই ‘সাহিত্য কণিকা’র ১৬ পৃষ্ঠায় কিছু শব্দার্থ করা হয়েছে এভাবে-
নাটমন্দির- দেবমন্দিরে সামনের ঘর যেখানে নাচ-গান হয়।
বোষ্টম- হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে এমন বৈষ্ণব
কাপালি- তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়
চন্ডীমন্ডপ- যে মন্ডপে বা ছাদযুক্ত চত্বরে দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবীর পুজো হয়।
দন্ডবৎ- মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।
৮) কলকাতার অনুকরণে পাঠ্যপুস্তুকের ইসলামধর্মীয় শব্দবিকৃতি:
নতুন সিলেবাসে শিশুদেরকে হিন্দুয়ানী ও কলকাতার বানানরীতি ও ভাষায় অভ্যস্ত করা হয়েছে। এদেশীয় বানানরীতি বাদ দিয়ে কলকাতার হিন্দুয়ানী বানানরীতি অনুসরণ করে দ্বীন ইসলাম সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ বিকৃত করা হয়েছে। যেমন, ‘নবী’র বদলে ‘নবি’, ‘শহীদ’ এর বদলে ‘শহিদ’, ‘ঈমান’ এর বদলে ‘ইমান’, হজ্জ এর বদলে ‘হজ’ কুরআন এর বদলে ‘কোরান’ লেখা হয়েছে প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে। নাউযুবিল্লাহ!
৯) বিধর্মীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ও শুভেচ্ছা জানাতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের উৎসাহপ্রদান:
প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে বিধর্মীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ও তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! ক্লাস ৩ এর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ নামক বইয়ের ১৩ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে: “আমরা সবাই যার যার সমাজে অনুষ্ঠিত এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিই। সবার আনন্দগুলো ভাগ করে নিই। আমরা অন্য ধর্মের হলেও বন্ধু ও বড়াদের সাথে ঐ সময়ে নানাভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। আর এভাবেই সমাজে সব ধর্মের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।” (নাউযুবিল্লাহ) অথচ একজন মুসলমান হিসেবে পূজা, পূর্নিমা কিংবা ক্রিসমাসে অংশগ্রহণ করা, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা স্পষ্ট কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
১০) পাঠ্যপুস্তকে জীবনী প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধর্মীদের, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য পেয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণীতেই বিভিন্ন হিন্দু ও নাস্তিকদের জীবনী রয়েছে, উদারহণস্বরূপ: খ্রিস্টান পাদ্রী তেরেসার জীবনী, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, ৩৮ পৃষ্ঠা; জগদীশচন্দ্র বসুর জীবনী, পঞ্চম শ্রেণী, ৮১ পৃষ্ঠা। অথচ কোন ইসলামী ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে স্থান দেওয়া হয়নি।
১১) ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইতে প্রাণীর রঙিন ছবি প্রদান:
আগে কখনো ইসলাম ধর্ম বইতে প্রাণীর ছবি ছিলো না। কিন্তু এবারের সিলেবাসের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের পাতায় পাতায় প্রাণীর রঙিন ছবি দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে নষ্ট করা হয়েছে।
১২) পহেলা বৈশাখ নামক হিন্দু সংস্কৃতি পালনে উৎসাহ প্রদান :
অধিকাংশ বইয়ে মিথ্যা শেখানো হচ্ছে, পহেলা বৈশাখ বাঙালী হাজার বছরের ঐতিহ্য, যা সকল ধর্মের মানুষ পালন করে। নাউযুবিল্লাহ। অথচ সত্য হচ্ছে কথিত বাংলা সন বাদশাহ আকবর তৈরী করেছিলো, যা হাজার বছর তো দূরের কথা ৫শ’ বছরও হয়নি। একই সাথে বাদশাহ আকবর বাঙালী ছিলো না, ছিলো ফার্সিভাসী। মূলত পহেলা বৈশাখ বা নওরোজ মুসলমানদের কোন অনুষ্ঠান নেই, এ দিনে হিন্দু, মজুসী অগ্নিউপাসক ও উপজাতিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে।
১৩) ইতিহাস বিকৃতি:
পঞ্চম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের বাংলাদেশ: ইংরেজ শাসন’ অধ্যায়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রামকে মোটেই তুলে ধরা হয়নি। উল্টো ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইতে ইংরেজদের দালাল ও চরম সাম্প্রদায়িক, মুসলমানদের ‘নেড়ে’ ‘যবন’ ‘ম্লেচ্ছ’ বলে গালি প্রদানকারী লেখক বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে এও দাবি করা হয়েছে যে, বঙ্কিমের লেখায় নাকি ‘বাঙালী স্বাধিকার আন্দোলন’ এর চেতনা বেগবান হয়েছে! ৮ম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় ‘ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি’ নামক অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশ’ নামক ভূখণ্ডের স্বপ্নদ্রষ্টাদের করা হয়েছে ভিলেন, আর ‘বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের বিরোধীতাকারী সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের বানানো হয়েছে হিরো।
১৪) পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা:
ক) বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে , ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’। বইয়ের নামকরণের মধ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলামের অবমাননা রয়ে গিয়েছে। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলামের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা পরিপূর্ণরূপে বিদ্যমান। উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঠ্যপুস্তকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষাকে পৃথক করে কোমলমতি শিশুদের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে।
খ) ৩য় শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামক বইয়ের ৬৬ পৃষ্ঠায় হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত আবনা (পুত্র) উনার নাম মুবারক প্রকাশে ভুল করা হয়েছে। হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক না দিয়ে ‘হযরত আব্দুল্লাহ (রা)’ নামক একটি নাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আব্দুল্লাহ নামক কোন পুত্রসন্তানই ছিলো না।
গ) ৫ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ১৩১ পৃষ্ঠায় ভুল ইতিহাস চয়ন করে হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিল ‘আযর’, এবং ‘আযর’ ছিল মূর্তি উপাসক। নাউযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সম্মানিত পিতার নাম মুবারক হচ্ছেন হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম, এবং তিনি উনার যামানার বুযূর্গ ব্যক্তি ও পরিপূর্ণ ঈমানদার ছিলেন।
ঘ) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ২য় শ্রেণীর ‘আক্বাইদ ও ফিক্বাহ’ বইয়ের ২২ পৃষ্ঠায় ৩য় নং কলামে ভুল মাসয়ালা প্রদান করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “পশ্চিম আকাশের লাল আভা থাকা পর্যন্ত মাগরিব ছলাতের সময় থাকে।” অথচ সঠিক জাওয়াব হচ্ছে, আমাদের হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র মতে- সন্ধ্যা বেলায় পশ্চিমাকাশে লাল আভা দূরীভূত হওয়ার পর সাদা আভা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত মাগরিব উনার ওয়াক্ত থাকে। সাদা আভা দূর হওয়ার সাথে সাথেই পবিত্র ইশা উনার ওয়াক্ত শুরু হয়।
ঙ) পঞ্চম শ্রেণীর বোর্ডের ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামক বইয়ের ৫৭-৫৯ পৃষ্ঠায় বাদশাহ আকবরের কুফরী ধর্ম ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’র অনুকরণে ‘ইন্টারফেইথ’ নামক এক তত্ত্ব প্রবেশ করানো হয়েছে, যা বর্তমানে পবিত্র দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কাফিরদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।
১৫) সুন্নতী বাল্যবিবাহ উনার বিরুদ্ধে বিষেদগার:
বাল্যবিবাহ করা হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাছ সুন্নত। অথচ ৭ম শ্রেণীর ‘শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ পাঠ্যপুস্তকের ৩৩ পৃষ্ঠায় সুন্নতী বাল্যবিবাহকে বলা হয়েছে হচ্ছে যৌন নিপীড়ন। নাউযুবিল্লাহ! এধরণের বক্তব্য কাফির হয়ে জাহান্নামী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
১৬) প্রত্যেক ক্লাসের বইয়ে বাধ্যতামূলক শেখানো হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ তথা জন্ম নিয়ন্ত্রণ। শেখানো হচ্ছে, “কম সন্তান নিলে বড়লোক হয়, অধিক সন্তান নিলে গরীব হয়”, শেখানো হচ্ছে, “কম সন্তান নিলে আধুনিক হয়, বেশি সন্তান নিলে ব্যাকডেটেড হয়”, “অধিক সন্তান নিলে খাওয়া পরার সমস্যা হয়”। অথচ জনসংখ্যা হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালা’র বিশেষ নিয়ামত, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও স্বীকার করেছেন।
১৭) মাদ্রাসাসহ প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুদের ব্রতচারী নৃত্য হাতে-কলমে, নাচ-গান সমস্তকিছুসহ বারবার করে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে, যা ভারতের স্কুলগুলোতে মুসলমান শিক্ষার্থীদের জোর করে গীতাপাঠ করানো কিংবা সূর্যপ্রণাম করানোর মতোই সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপের অনুকরণ। (২য় শ্রেণীতে রয়েছে হিন্দুয়ানী ব্রতচারীদের বর্ণনা ও কার্যক্রম। শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ৬ষ্ঠ শ্রেণী)।
১৮) ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ বইতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে একত্রে তাদের শারীরিক পরিবর্তন, মাসিক ঋতুস্রাব ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে বলা হয়েছে, যা সুস্পষ্ট যৌন সুড়সুড়ি ও ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্রে অবক্ষয় ঘটানোর প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। (‘আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল’ পৃষ্ঠা ৩৮ থেকে ৫০, ষষ্ঠ শ্রেণী।)
১৯) প্রত্যেক ক্লাসে ক্লাসে মূর্তি ও ভাস্কর্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করা হয়েছে। যেমন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বই-এ ‘কত দিকে কত কারিগর’ ৪৪ পৃষ্ঠা, শখের মৃৎশিল্প পৃষ্ঠা ৩৮ ৫ম শ্রেণী, চতুর্থ শ্রেণীর ৩২ পৃষ্ঠায় একটি ভাস্কর্যের রঙিন ছবি দেয়া হয়েছে, চতুর্থ শ্রেণীর ‘ঘুরে আসি সোনারগাঁও ৪র্থ শ্রেণী ৮২ পৃষ্ঠা। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম পর্যন্ত ‘চারু ও কারুকলা’ নামক পাঠ্য বই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একদম হাতে ধরে মূর্তি-ভাষ্কর্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যারা ভাস্কর্য ও মূর্তি তৈরী করে, প্রত্যেক ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকে তাদের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে এবং বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করার লক্ষ্যে।
বর্তমান সিলেবাসের গোমর ফাস করে ওলামালীগ নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ দাবি করে।
মানববন্ধনের সূত্র:
১) http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/382412.html
২) http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article949541.bdnews
২) http://goo.gl/5aKCnS
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমার পীরালি ব্যাবসা তো ঠিকই আছে মারেফাত, তরিকত, হাকিকতের নাম দিয়া আমার মাজার ব্যাবসা তো ভালই চলছে দেশ-ইসলাম গোল্লায় যাক আমার তাতে কি ? আমি আমার এত লাভজনক ব্যাবসার ক্ষতি সাধন করে দেওবন্দী আর জামাতে ইসলামকে সাপোর্ট দিতে পারব না। ইসলামী রাষ্ট্রে কায়েমের আমার কোন ফরজিয়্যাত নাই।
(ওলামায় দেওবন্দ কেন বিচক্ষণহীন)
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমি তো আমার মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকা-তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এভাবে দেশের নিম্নবিত্ত্ব মানুষকে আমলদার বানাতে পারলেই ইসলামী হুকুমত অটোমেটিক কায়েম হয়ে যাবে। উচ্চবিত্ত মানুষেরা আমাদেরকে কাটমোল্লা ভাবুক, মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত বলে ব্যঙ্গ করুক তাতে আমাদের কিছুই আসে যায় না, আমরা যাকাত-ফেতরার টাকায় চলে নিম্নবিত্তদের মাঝেই ইসলামে খেদমত করে যাব তবুও জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিয়ে ঐ গণতন্ত্র আর নারী নেতৃত্বে গিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত পরিষরে ইসলাম কায়েমের কোন দরকার ই আমাদের নেই। অনৈসলামিক পন্থায় ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়। আমাদের এখন মক্কী জীবন চলছে মাদানী জীবন আসলেই ইসলামী হুকুমত কায়েম হয়ে যাবে।
(আহলে হাদীসদের গোমরাহী)
দেশের সকল প্রশাসন হিন্দু ও নাস্তিকদের হাতে চলে গেছে ? কামাল আতাতুর্ক এর তুরষ্কের মত এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলার সকল আয়োজন প্রায় চুড়ান্তু ? হোক তাতে আমার কি আসে যায় ? আমি তো মানুষকে সহিহ হাদীস পালনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছি। আগে মানুষকে মাজহাবী শের্ক-বেদাত মুক্ত করতে হবে তারপরে দেশে ইসলাম কায়েম করতে হবে বোমাবাজী করে। গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম হবে না ।
এই তিন দলের সকলের কাছে আমার অনুরোধ আমার নিচের লিঙ্ক এর পোষ্ট গুলো পড়ুন এবং নিজের বিবেককেই প্রশ্ন করুন সবার এক হওয়া এখন ফরজে আইন কিনা ?
যে সকল পীর পন্থি ভাইগণ দেওবন্দ, জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে সারাদিন জিহাদ চালাচ্ছেন, যে সকল দেওবন্দী ভাইগণ জামায়াতে ইসলাম ও জাকির নায়েক ও আহলে হাদীস ভাইদের বিরুদ্ধে সারাদিন জিহাদ চালাচ্ছেন, যে সকল আহলে হাদীস ভাইগণ সারাদিন জামাতে ইসলাম ও দেওবন্দের বিরুদ্ধে জিহাদ চালাচ্ছেন তাদের কাছে আমার কড়জোরে বিনীত আরোজ এখন কি আমাদের ভ্রাতৃঘাতি অন্তর্দন্দ করে নিজেদের কে নাস্তিকদের কাছে করুনার পাত্র করার সময় নাকি সকল ক্ষুদ্র মতভেদ আপাতত একপাশে রেখে সবাই মিলে অন্তত একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করে এ দেশ থেকে নাস্তিকদের লম্বা হাতকে কঠোর ভাবে দমন করার সময় যে লম্বা হাত অলরেডি এ দেশ থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে দেয়ার সকল ষড়যন্ত্র প্রস্তুত করে রেখেছে ?
(প্রমাণ আমার নিচের লিঙ্ক গুলোতে পাবেন)
আমরা মুসলমান, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি করে নাস্তিক হবে? একটা সাভাবিক প্রশ্ন। অথচ সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হওয়ার মতোই বিষয়টি বাস্তব। আমাদের চোখের সামনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নাস্তিক করা হচ্ছে, আইনগতভাবেই তা করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কিছু বিষয় আমাদের কাছে খটকা লাগে, তবে তার অন্তর্নিহিত অর্থ এবং দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপটে তার ফল কি তা আমরা অনুভব করতে পারি না। এই কথাটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিশারদ আলেক্সন্ডার ব্রেজমেনভ। যারা ইংরেজি ভাল বুঝেন তারা তা ইউটিউব https://www.youtube.com/watch?v=IHgYPDvQFU8 সাক্ষাৎকারটি দেখে নিতে পারেন।
আমাদের জানা প্রয়োজন যে, আমাদের দেশে কিভাবে নাস্তিকতার প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবেই তা হচ্ছে যার যৎসামান্য অংশ আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আপনাদের মধ্যে যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিশ্বাস নিয়ে চিন্তিত তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। আর যারা ইতোমধ্যেই ইসলামের শত্রুদের মগজধোলাই কার্যক্রমের কারণে তথাকথিত মুক্তচিন্তা, নাস্তিকতা কিংবা ইসলাম বিদ্বেষী মানসিকতার অধিকারী বলে নিজেদেরকে ধারণা করেন, তাদের জন্য, এই লেখাটির বাকি অংশটুকু না পড়লেও চলবে।
এবার আসুন দেখি! কিভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নাস্তিক বানানো হচ্ছে। ব্রেজমেনভ বলেছে একটি জাতি কিংবা একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস/উপলব্ধিগত পরিবর্তনের জন্য এক প্রজন্ম সময়ের প্রয়োজন। অর্থাৎ ছোট একটি বাচ্চার মধ্যে ওই অল্প বয়স থেকেই বিভ্রান্তিপূর্ণ উপলব্ধি প্রবেশ করাতে শুরু করতে হয়। সে যখন সাবালক হয় তখন সে হয়ে যায় পরিবর্তিত মানসিকতার এক ব্যক্তিত্ব। একটি পর্যায়ে এসে তার বিশ্বাস এবং উপলব্ধি শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক বিশারদের লক্ষ্য অনুযায়ী রূপ লাভ করে। এক্ষেত্রে কোন দেশ বা জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে মগজ ধোলাইয়ের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাঙ্গণ। শত্রু দেশ যদি এই প্রাঙ্গণটিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে ওই জাতির মগজধোলাই হওয়াটা হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার মাত্র।
যেমন-
১। আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী একজন স্বঘোষিত নাস্তিক
২। শিক্ষাসচিব অঘোষিত নাস্তিক
৩। উপসচিব একজন হিন্দু
৪। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপতরের প্রবেশ করলে মনে হবে ভারতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর। শতকরা ৭০ জন কর্মকর্তা হিন্দু, নিজ চোখকে তখন অবিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়।
৫। ঢাকা বোর্ডেও ওই একই অবস্থা। এনসিটিবি অধিদপ্তর, যারা জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলাম নির্ধারণ করে, তার ডিজি হচ্ছে একজন হিন্দু। ৯৮ ভাগ মুসলমানদের জন্য শিক্ষানীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকার একজন হিন্দুর কাছে অর্পণ করেছে।
৬। ফলশ্রুতিতে কি হয়েছে? স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তকসমূহে যত গদ্য/পদ্য আছে তার ৫০ ভাগেরও বেশি লেখক হচ্ছে হিন্দু। আর মুসলমান লেখকদের মধ্যে আছে ইসলাম বিদ্বেষী হুমায়ুন আজাদ ও তদীয় মানসিকতার কিছু লেখক/কবি। কবি নজরুল ইসলাম কিংবা তদীয় কিছু লেখক/কবিদের লেখা না দিলেই নয় বলে উনাদেরকে রাখা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সিলেবাসভুক্ত নয়।
৭। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী প্রায় সকল শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের যৌন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন শরীর চর্চার পাঠ্যক্রমে। একজন মহিলা শিক্ষিকা ছেলেদের ক্লাস এবং একজন পুরুষ শিক্ষক মেয়েদের ক্লাসে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে তা পড়াতে গিয়ে।
৮। ২০১৩ সালে ৮ম শ্রেণীর ইসলামী শিক্ষা বইতে বেশ কিছু বিভ্রান্তি পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করানো হয়, যা ব্যাপক প্রতিবাদের কারণে এবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
৯। ব্লগ এবং ফেসবুক হচ্ছে আগামী প্রজন্মের মুসলমানদের নাস্তিক করার অপর এক বিশাল প্রাঙ্গণ। এ বিষয়ে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করছে বেশ কিছু ব্লগ http://www.somewhereinblog.net/blog/MonirHasan/29053063
http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=2884
(এরকম শত শত ব্লগ পোষ্ট আছে নাস্তিকদের প্রায় ত্রিশটি ব্লগ এ)
১০। বেশ কিছু ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগ মুসলমানদের নামে ‘নিক’ নিয়ে ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ন্যক্কারজনকভাবে অপপ্রচার চালায়। সরকার ওই সব নাস্তিক ব্লগারদের শাহবাগ আন্দোলনের সময় পুলিশ গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১১। ব্লগে লিখিত ওইসব ইসলামবিদ্বেষী লেখাসমূহকে সঙ্কলন করে তারা ২১-এর বই মেলায় বই বিতরণ করে। আমাদের তথাকথিত বর্তমান মুসলমান গণতান্ত্রিক সরকার এ বিষয়ে মৃত লাশের মতো নিশ্চুপ।
একবার একটু ভাবুন তো আপনারা নিজেদের বিরুদ্ধে যত ঘন্টা টাইম দিচ্ছেন এ দের বিরুদ্ধে কত ঘন্টা দিতে পেরেছেন আজ অবধি (এদের বিরুদ্ধে কলম ধরার যোগ্যতা আছে কজনের !) ?
বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'(নাস্তিকতা)চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা ) http://www.somewhereinblog.net/blog/MonirHasan/29053063
যারা পীর ব্যাবসা নিয়ে আছেন বা দেশ-সমাজের বৃহত পরিসরে দ্বীনের দাওয়াত বর্জন করে মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকা-চিল্লার ক্ষুদ্র পরিসরের দ্বীনের দাওয়াত নিয়েই পরিতৃপ্ত এবং অহংকারী হয়ে কলেজ-ভার্সিটি-সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্রের বৃহত পরিসরে দ্বীনের দাওয়াতে ব্যাস্ত জামাত-শিবির-জাকির নায়েকদের সমালোচনায় সারাদিন কাটান তাদের কয়জনের যোগ্যতা আছে দেশের হাজার হাজার এ সকল নাস্তিক তরুন প্রজন্মের কাছে ধর্মের যৌক্তিকতা তুলে ধরার ? হেফাজতের তের দফা বাস্তবায়নে কি শিক্ষিত তরুন সমাজের এ নাস্তিকতার জোয়ার বন্ধ হবে নাকি ব্লগ-ফোরামগুলোতে গিয়ে তাদের সাথে কলমী জিহাদ চালাতে হবে ? ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষা ব্যাবস্থার এমন পরিবর্তন করতে হবে যাতে এ নাস্তিকতা উৎপাদনের মূল শিকড় ধংস্ব হয় ? https://www.youtube.com/watch?v=r0n0-8RcKnw
দয়া করে আমার নিচের ব্লগ গুলোও পড়ুন
সম্মানিত ওলামায় দেওবন্দীদেরকে বলছি - কেন আপনারা জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন করবেন
(এই পোষ্ট টির মধ্যে আরো কিছু লিঙ্ক আছে সেগুলো দয়া করে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন কিভাবে দেশের সকল স্তরে হিন্দুদের কর্তৃত্ব দিয়ে ইসলামকে চিরতরে বিলীন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র ফাইনাল করে রাখা হয়েছে)
মাজার ব্যাবসায়ী আহলে বেদাত ওয়াল সিন্নীর পোষ্ট মর্টেম
মুসলিমরা কি পারবে তাদের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে ?
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের নিকট হস্তান্তর
ইসলামী দল ক্ষমতায় না থাকার পরিণাম : ৯০% মুসলিমের দেশ চালায় হিন্দুরা
রাষ্ট্রশক্তি বিহীন ইসলাম ইসলামই নয়.
http://www.somewhereinblog.net/blog/sohel007/29781410
সবকিছু পড়েও যদি আপনারা ভ্রাতৃঘাতি এই অন্তর্দন্দ না থামিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমে যোগ্য কোন রাজনৈতিক দলকে ( জামায়াতে ইসলাম) সমর্থন না দেন তাহলে আপনার ঈমান ও ইসলাম প্রচারের খেদমত নি:সন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ !
ইসলামী ভাবধারামণ্ডিত সমস্ত কবিতা পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে দেয়া:
এবারের পাঠ্যসূচিতে ইসলামী ভাবধারামণ্ডিত সমস্ত কবিতা তুলে দেয়া হয়েছে। এবং তার বদলে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ও হিন্দু কবিদের কবিতা প্রবেশ করানো হয়েছে। যেমন:
ক) যেমন ৫ম শ্রেণী থেকে কবি কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি তুলে দেয়া হয়েছে, এর বদলে ঢোকানো হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী কবি হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ কবিতাটি, যা দিয়ে কৌশলে পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে কোমলমতি শিশুদের মনে খারাপ ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
খ) নবম-দশম শ্রেণী থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’ নামক জনপ্রিয় কবিতা তুলে নেয়া হয়েছে। এর বদলে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ব্রিটিশ আমলের চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা।
৩) চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষীদের লেখা পাঠ্যবইতে অন্তর্ভূক্তকরণ:
পবিত্র দ্বীন ইসলামকে কটাক্ষ করে লেখালেখি করে এদেশের জাতীয় পর্যায়ে যেসব লেখক রীতিমতো কুখ্যাতি অর্জন করেছে, তাদের লেখা পাঠ্যবইয়ের প্রত্যেক শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যেমন কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক হুমায়ূন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের স্বামী সিফিলিসে আক্রান্ত রুদ্র শহীদুল্লাহ, সেলিনা হোসেন, সনজীদা খাতুন, কবীর চৌধুরী এবং এরকম আরো অনেকে।
৪) কুরআন শরীফ বিরোধী কবিতা:
৫ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ এর ৩৫ পৃষ্ঠায় কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ূন আজাদের লেখা ‘বই’ নামক একটি কবিতা সংযোজন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- “যে বই তোমায় দেখায় ভয়/সেগুলো কোন বই-ই নয়/সে বই তুমি পড়বে না। যে বই তোমায় অন্ধ করে/যে বই তোমায় বন্ধ করে/সে বই তুমি ধরবে না।” অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতে, পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং জাহান্নামের প্রতি ভয় প্রদর্শনের প্রতি কৌশলে বিষেদগার করতেই এ কবিতা রচনা করেছে নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ।
৫) কৌশলে দ্বীন ইসলামের সাথে সাংঘার্ষিক শিক্ষাপ্রদান:
ক্লাস ৪ এর বাংলা বইয়ে ‘লিপির গল্প’ নামক গল্পে ‘শিক্ষক’ বলেছে, ‘আজ থেকে ছয়-সাত হাজার বছর আগে পৃথিবীতে লোকজন লিখতেও জানতো না পড়তেও জানতো না। তখন কেউ স্বাক্ষর ছিলো না, লেখাপড়া জানতো না। অথচ প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার উপর ১০ খানা সহীফা নাজিল হয়েছিলো এবং তিনি নিজেই প্রায় ১০ লক্ষ ভাষা জানতেন। এখানে উদ্দেশ্যমূলক ইসলামী আক্বীদা বিরুদ্ধে গিয়ে কৌশলে শিশুদের নাস্তিকতা প্রবেশ করানো হচ্ছে।
৬) বাংলাদেশের পুরাকীর্তি মানেই হিন্দু-বৌদ্ধ স্থাপনা, এমন ধারণা শিশুদের কচি মনে বদ্ধমূল করা:
বর্তমান সিলেবাসের পাঠ্যপুস্তকসমূহের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এসব পাঠ্যপুস্তকে এদেশের পুরাকীর্তি মানেই হিন্দু-বৌদ্ধ স্থাপনা, এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মনে ঢুকিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। যেমন ৪র্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পাঠ্যপুস্তকে ‘পাহাড়পুর’ বৌদ্ধ বিহার নিয়ে একটি প্রবন্ধ রয়েছে। ৫ম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের ‘শখের মৃৎশিল্প’ প্রবন্ধের ৪২-৪৩ শালবন বিহার, কান্তজির মন্দির, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, মহাস্থানগড় এদের বর্ণনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ৫ম শ্রেণীর উক্ত বইতে ‘মাটির নিচে আরেক শহর’ প্রবন্ধেও বৌদ্ধধর্মীয় স্থাপনার বিবরণ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে পুরাকীর্তি বলতে শুধু বৌদ্ধ ও হিন্দুদের মন্দিরকেই তুলে ধরা হয়েছে, যেন কোমলমতি শিশুদের ধারণা জন্মে বাংলাদেশে মুসলমানদের কোন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা পুরাকীর্তি নেই।
৭) হিন্দুয়ানী শব্দের ছড়াছড়ি:
বর্তমান সিলেবাস ও পাঠ্যসূচি দেখলে মনে হয়, এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এদেশের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে তাদের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে হিন্দুধর্মে প্রবেশ করানো। নাউযুবিল্লাহ! ১ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’তে কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে হিন্দুত্ববাদ। অক্ষর পরিচয় করতে গিয়ে ঋষি, ওঝা, হিন্দু ঢাক, হিন্দুদের রথ, বাউলদের একতারা এ টার্মগুলো শেখানো হচ্ছে। অথচ এর বদলে আরো বহু শব্দ দিয়ে বাচ্চাদের শিখানো যেতো।
১ম শ্রেণী থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে ওপরের ক্লাসের বইগুলোতে হিন্দুধর্মের আরো গভীরে প্রবেশ করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’য়ের অন্তর্ভূক্ত, হিন্দু কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা ‘নেমন্তন্ন’ কবিতার কয়েকটি লাইন হচ্ছে-
বিয়ের বুঝি?
না বাবুজি।
কিসের তবে?
ভজন হবে।
শুধুই ভজন?
প্রসাদ ভোজন।
অর্থাৎ এদেশের মুসলমান পরিবারের কোমলমতি শিশুরা এই ৪র্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পড়ে ছোটবেলা থেকেই শিখছে যে, হিন্দুদের ন্যায় ‘বাবু’ বলে একে অপরকে সম্বোধন করতে হবে, সাথে সাথে ‘ভজন’ তথা হিন্দুদের ধর্মীয় সঙ্গীত শুনতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়, মন্দিরের নাপাক ‘প্রসাদ’ও ভোজন করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
মুসলমান ও হিন্দুদের ভাষারীতির প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, ‘পানি’ ও জল। তাই হীন উদ্দেশ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান শিক্ষার্থীদের পানির বদলে ‘জল’ শব্দতে অভ্যস্ত করানোর লক্ষ্যে ৫ম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ পাঠ্যপুস্তকে ‘অবাক জলপান’ নামে একটি নাটিকা সংযোজন করা হয়েছে, যে নাটিকার প্রত্যেকটি সংলাপে ‘জল’ শব্দটি একাধিকবার রয়েছে।
এরপর আরো উচ্চতর শ্রেণীতে এমনভাবে হিন্দুধর্মের একান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় টেনে এনে শব্দার্থ করে দেখানো হয়েছে, যা পূর্বে কখনোই এদেশের পাঠ্যপুস্তকে দেখা যায়নি। যেমন অষ্টম শ্রেণীর বাংলা প্রথম পত্র পাঠ্যবই ‘সাহিত্য কণিকা’র ১৬ পৃষ্ঠায় কিছু শব্দার্থ করা হয়েছে এভাবে-
নাটমন্দির- দেবমন্দিরে সামনের ঘর যেখানে নাচ-গান হয়।
বোষ্টম- হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে এমন বৈষ্ণব
কাপালি- তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়
চন্ডীমন্ডপ- যে মন্ডপে বা ছাদযুক্ত চত্বরে দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবীর পুজো হয়।
দন্ডবৎ- মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।
৮) কলকাতার অনুকরণে পাঠ্যপুস্তুকের ইসলামধর্মীয় শব্দবিকৃতি:
নতুন সিলেবাসে শিশুদেরকে হিন্দুয়ানী ও কলকাতার বানানরীতি ও ভাষায় অভ্যস্ত করা হয়েছে। এদেশীয় বানানরীতি বাদ দিয়ে কলকাতার হিন্দুয়ানী বানানরীতি অনুসরণ করে দ্বীন ইসলাম সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ বিকৃত করা হয়েছে। যেমন, ‘নবী’র বদলে ‘নবি’, ‘শহীদ’ এর বদলে ‘শহিদ’, ‘ঈমান’ এর বদলে ‘ইমান’, হজ্জ এর বদলে ‘হজ’ কুরআন এর বদলে ‘কোরান’ লেখা হয়েছে প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে। নাউযুবিল্লাহ!
৯) বিধর্মীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ও শুভেচ্ছা জানাতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের উৎসাহপ্রদান:
প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে বিধর্মীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ও তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! ক্লাস ৩ এর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ নামক বইয়ের ১৩ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে: “আমরা সবাই যার যার সমাজে অনুষ্ঠিত এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিই। সবার আনন্দগুলো ভাগ করে নিই। আমরা অন্য ধর্মের হলেও বন্ধু ও বড়াদের সাথে ঐ সময়ে নানাভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। আর এভাবেই সমাজে সব ধর্মের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।” (নাউযুবিল্লাহ) অথচ একজন মুসলমান হিসেবে পূজা, পূর্নিমা কিংবা ক্রিসমাসে অংশগ্রহণ করা, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা স্পষ্ট কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
১০) পাঠ্যপুস্তকে জীবনী প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধর্মীদের, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য পেয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণীতেই বিভিন্ন হিন্দু ও নাস্তিকদের জীবনী রয়েছে, উদারহণস্বরূপ: খ্রিস্টান পাদ্রী তেরেসার জীবনী, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, ৩৮ পৃষ্ঠা; জগদীশচন্দ্র বসুর জীবনী, পঞ্চম শ্রেণী, ৮১ পৃষ্ঠা। অথচ কোন ইসলামী ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে স্থান দেওয়া হয়নি।
১১) ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইতে প্রাণীর রঙিন ছবি প্রদান:
আগে কখনো ইসলাম ধর্ম বইতে প্রাণীর ছবি ছিলো না। কিন্তু এবারের সিলেবাসের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের পাতায় পাতায় প্রাণীর রঙিন ছবি দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে নষ্ট করা হয়েছে।
১২) পহেলা বৈশাখ নামক হিন্দু সংস্কৃতি পালনে উৎসাহ প্রদান :
অধিকাংশ বইয়ে মিথ্যা শেখানো হচ্ছে, পহেলা বৈশাখ বাঙালী হাজার বছরের ঐতিহ্য, যা সকল ধর্মের মানুষ পালন করে। নাউযুবিল্লাহ। অথচ সত্য হচ্ছে কথিত বাংলা সন বাদশাহ আকবর তৈরী করেছিলো, যা হাজার বছর তো দূরের কথা ৫শ’ বছরও হয়নি। একই সাথে বাদশাহ আকবর বাঙালী ছিলো না, ছিলো ফার্সিভাসী। মূলত পহেলা বৈশাখ বা নওরোজ মুসলমানদের কোন অনুষ্ঠান নেই, এ দিনে হিন্দু, মজুসী অগ্নিউপাসক ও উপজাতিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে।
১৩) ইতিহাস বিকৃতি:
পঞ্চম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের বাংলাদেশ: ইংরেজ শাসন’ অধ্যায়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রামকে মোটেই তুলে ধরা হয়নি। উল্টো ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইতে ইংরেজদের দালাল ও চরম সাম্প্রদায়িক, মুসলমানদের ‘নেড়ে’ ‘যবন’ ‘ম্লেচ্ছ’ বলে গালি প্রদানকারী লেখক বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে এও দাবি করা হয়েছে যে, বঙ্কিমের লেখায় নাকি ‘বাঙালী স্বাধিকার আন্দোলন’ এর চেতনা বেগবান হয়েছে! ৮ম শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় ‘ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি’ নামক অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশ’ নামক ভূখণ্ডের স্বপ্নদ্রষ্টাদের করা হয়েছে ভিলেন, আর ‘বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের বিরোধীতাকারী সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের বানানো হয়েছে হিরো।
১৪) পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা:
ক) বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে , ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’। বইয়ের নামকরণের মধ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলামের অবমাননা রয়ে গিয়েছে। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলামের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা পরিপূর্ণরূপে বিদ্যমান। উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঠ্যপুস্তকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষাকে পৃথক করে কোমলমতি শিশুদের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে।
খ) ৩য় শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামক বইয়ের ৬৬ পৃষ্ঠায় হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত আবনা (পুত্র) উনার নাম মুবারক প্রকাশে ভুল করা হয়েছে। হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক না দিয়ে ‘হযরত আব্দুল্লাহ (রা)’ নামক একটি নাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আব্দুল্লাহ নামক কোন পুত্রসন্তানই ছিলো না।
গ) ৫ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ১৩১ পৃষ্ঠায় ভুল ইতিহাস চয়ন করে হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিল ‘আযর’, এবং ‘আযর’ ছিল মূর্তি উপাসক। নাউযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সম্মানিত পিতার নাম মুবারক হচ্ছেন হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম, এবং তিনি উনার যামানার বুযূর্গ ব্যক্তি ও পরিপূর্ণ ঈমানদার ছিলেন।
ঘ) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ২য় শ্রেণীর ‘আক্বাইদ ও ফিক্বাহ’ বইয়ের ২২ পৃষ্ঠায় ৩য় নং কলামে ভুল মাসয়ালা প্রদান করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “পশ্চিম আকাশের লাল আভা থাকা পর্যন্ত মাগরিব ছলাতের সময় থাকে।” অথচ সঠিক জাওয়াব হচ্ছে, আমাদের হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র মতে- সন্ধ্যা বেলায় পশ্চিমাকাশে লাল আভা দূরীভূত হওয়ার পর সাদা আভা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত মাগরিব উনার ওয়াক্ত থাকে। সাদা আভা দূর হওয়ার সাথে সাথেই পবিত্র ইশা উনার ওয়াক্ত শুরু হয়।
ঙ) পঞ্চম শ্রেণীর বোর্ডের ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামক বইয়ের ৫৭-৫৯ পৃষ্ঠায় বাদশাহ আকবরের কুফরী ধর্ম ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’র অনুকরণে ‘ইন্টারফেইথ’ নামক এক তত্ত্ব প্রবেশ করানো হয়েছে, যা বর্তমানে পবিত্র দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কাফিরদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।
১৫) সুন্নতী বাল্যবিবাহ উনার বিরুদ্ধে বিষেদগার:
বাল্যবিবাহ করা হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাছ সুন্নত। অথচ ৭ম শ্রেণীর ‘শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ পাঠ্যপুস্তকের ৩৩ পৃষ্ঠায় সুন্নতী বাল্যবিবাহকে বলা হয়েছে হচ্ছে যৌন নিপীড়ন। নাউযুবিল্লাহ! এধরণের বক্তব্য কাফির হয়ে জাহান্নামী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
১৬) প্রত্যেক ক্লাসের বইয়ে বাধ্যতামূলক শেখানো হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ তথা জন্ম নিয়ন্ত্রণ। শেখানো হচ্ছে, “কম সন্তান নিলে বড়লোক হয়, অধিক সন্তান নিলে গরীব হয়”, শেখানো হচ্ছে, “কম সন্তান নিলে আধুনিক হয়, বেশি সন্তান নিলে ব্যাকডেটেড হয়”, “অধিক সন্তান নিলে খাওয়া পরার সমস্যা হয়”। অথচ জনসংখ্যা হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালা’র বিশেষ নিয়ামত, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও স্বীকার করেছেন।
১৭) মাদ্রাসাসহ প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুদের ব্রতচারী নৃত্য হাতে-কলমে, নাচ-গান সমস্তকিছুসহ বারবার করে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে, যা ভারতের স্কুলগুলোতে মুসলমান শিক্ষার্থীদের জোর করে গীতাপাঠ করানো কিংবা সূর্যপ্রণাম করানোর মতোই সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপের অনুকরণ। (২য় শ্রেণীতে রয়েছে হিন্দুয়ানী ব্রতচারীদের বর্ণনা ও কার্যক্রম। শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ৬ষ্ঠ শ্রেণী)।
১৮) ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ বইতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে একত্রে তাদের শারীরিক পরিবর্তন, মাসিক ঋতুস্রাব ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে বলা হয়েছে, যা সুস্পষ্ট যৌন সুড়সুড়ি ও ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্রে অবক্ষয় ঘটানোর প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। (‘আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল’ পৃষ্ঠা ৩৮ থেকে ৫০, ষষ্ঠ শ্রেণী।)
১৯) প্রত্যেক ক্লাসে ক্লাসে মূর্তি ও ভাস্কর্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করা হয়েছে। যেমন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বই-এ ‘কত দিকে কত কারিগর’ ৪৪ পৃষ্ঠা, শখের মৃৎশিল্প পৃষ্ঠা ৩৮ ৫ম শ্রেণী, চতুর্থ শ্রেণীর ৩২ পৃষ্ঠায় একটি ভাস্কর্যের রঙিন ছবি দেয়া হয়েছে, চতুর্থ শ্রেণীর ‘ঘুরে আসি সোনারগাঁও ৪র্থ শ্রেণী ৮২ পৃষ্ঠা। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম পর্যন্ত ‘চারু ও কারুকলা’ নামক পাঠ্য বই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একদম হাতে ধরে মূর্তি-ভাষ্কর্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যারা ভাস্কর্য ও মূর্তি তৈরী করে, প্রত্যেক ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকে তাদের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে এবং বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করার লক্ষ্যে।
বর্তমান সিলেবাসের গোমর ফাস করে ওলামালীগ নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ দাবি করে।
মানববন্ধনের সূত্র:
১) http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/382412.html
২) http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article949541.bdnews
২) http://goo.gl/5aKCnS
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন