ইসলাম সম্পর্কিত আজব কিছু বিষয়!!!
ধর্মগুলো নাস্তিকদের একটা প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনা, সেটা হলো ধর্ম গ্রন্থের গডের যে চরিত্র সেটা মানবীয় চরিত্র (রাগ, আক্রোশ, শাস্তি প্রদান) এই চরিত্র এত বিশাল মহাবিশ্বের স্রষ্টার সাথে মানায় না, আর গড মানুষকে এই পৃথিবীতে এত দুঃখ কষ্ট দিচ্ছেন, আবার পরকালেও দিবেন (অধিকাংশকে অনন্তকাল যাবত) তাহলে তিনি দয়ালু হলেন কি করে, তিনি তো মানুষের পারমিশন নিয়ে মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান নাই, যে তোমাকে দুনিয়াতেও এত এত কষ্ট করতে হবে পরকালেও এত অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে হবে তুমি কি যেতে চাও পৃথিবীতে? এই পার্মিশন ছাড়াই তিনি মানুষকে এত কষ্ট দিচ্ছেন ও পরকালে দিবেন তাহলে তিনি ন্যায়বিচারক ও দয়ালু হলেন কি করে? আর পৃথিবীর প্রতিটি প্রানী বেচে আছে কিভাবে? একে অন্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে খেয়েইতো বেচে আছে? তাই নয় কি? এই নির্মম পদ্ধতিতে মাখলুকাতকে বাচিয়ে রেখে খালেক দয়ালু হলেন কিভাবে!!! আর মহাকাশের যে বিশালতা তাতে পৃথিবীর তো কোনো অস্তিত্তই নাই, এ অস্তিত্তহীন পৃথিবীবাসীকে নিয়ে গড এত রাগান্নিত হবেন এটা তার এত সুবিশাল আজমতের শানে যায় না
একশ্বরবাদের পরে বহুইশ্বরবাদ আসেনি, বরং বহু ইশ্বরবাদ আগে এসেছে, তারপরে সেটা বিকৃত হয়ে একেশ্বরবাদ তৈরী হয়েছে
https://youtu.be/pEdXyJ20Lkc?si=Wqg97_Umm--Km0p5
নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স দারা প্রমানিত কবরের আজাব বলে কিছুই নেই এবং কাফেরও পরকালে মুক্তি পাবে, অর্থাত পরকালে মুক্তির মানদন্ড ইমান বা ইসলাম নয় বরং হক্কুল ইবাদ লংঘন করা ও না করাই হলো পরকালে মুক্তির মানদন্ড, তাই কাফেরও জান্নাতে যাবে মুমিনও জাহান্নামে জাবে
https://youtu.be/UJEcav0FoXg?si=26JWZkjjXHNCm-ho
কুরআন অনুযায়ী আদম প্রথম মানব নয়, বরং আদম এসেছে বিবর্তন হয়েই?!
https://youtu.be/N78f9P6aLEA?si=Hkl2dD8Vcmxkeod9
https://youtu.be/oTnVduorsFI?si=pRz35THIfd0ns7z_
কোরআনে শব্দগত ও অর্থগত পরিবর্তন বিদ্যমান
ইবনে আব্বাস বলেছেন পরিবর্তন (تحريف) নিয়ে তিনটি প্রধান মত রয়েছে:
১. একদল মনে করেন যে আসমানী সকল গ্রন্থে পরিবর্তন ঘটেছে—শব্দ এবং অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই। এটি সেই দৃষ্টিভঙ্গি যা ইবনে হাজম রহ. গ্রহণ করেছিলেন।
২. আরেকদল মনে করেন যে পরিবর্তন মাত্রাতিরিক্ত নয়, সীমিত মাত্রায়ই হয়েছে। সম্ভবত হাফেজ ইবনে তাইমিয়্যাহও এদিকে ঝুঁকেছেন।
৩. তৃতীয় দল সম্পূর্ণভাবে শব্দগত পরিবর্তন অস্বীকার করেন; তাদের মতে পরিবর্তন সবই কেবল অর্থগত।
আমি( আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি) বলব, এই দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিলে কুরআনকেও পরিবর্তিত ধরে নিতে হবে, কারণ এতে অর্থগত পরিবর্তনও কম নয়।
আমার( আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি) নিশ্চিত পর্যবেক্ষণ হলো, কুরআনের মধ্যে শব্দগত পরিবর্তনও বিদ্যমান। তবে এটি তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—এমন ধারণা ভুল।
শেষ কথা, আল্লাহ তা‘আলা সবচেয়ে ভালো জানেন।
সূত্র: فيض الباري على صحيح البخاري مع حاشية البدر -
4/98 الساري
স্রষ্টার আসল নাম কি "আল্লাহ" ?
একজন আরবিভাষী খুব সহজেই এ ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন, কিন্তু অন্য ভাষার মানুষদের বুঝতে কষ্ট হয়...
আল্লাহ ( الله ) শব্দটা বিশ্লেষণ করে দেখা যাক... আরবিতে সন্ধি বিচ্ছেদ করলে,
আল্লাহ=আল + ইলাহ
“আল” মানে The আর ইলাহ মানে god বা ঈশ্বর বা মাবুদ... তাহলে “আল্লাহ” শব্দটার অর্থ স্রেফ The god ছাড়া কিছুই না। অর্থাৎ, সেই ঈশ্বর, সেই মাবুদ, সেই god... যিনি কিনা একমাত্র গড, তাকেই নির্দেশ করা হচ্ছে এই “আল” আর্টিকেল দিয়ে... ইংরেজিতে সাধারণত তাঁকে স্পেসালি নির্দেশ করতে আর্টিকেল ইউজ না করে বড় হাতের G ইউজ করা হয়, God.
{U may check, http://translate.google.com/#en/ar/The%20god }
কিন্তু, আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে, “আল্লাহ” শব্দটা আসলে ঈশ্বরের নাম। আসলেই কি তাই? কয়েকটা পয়েন্ট দেখা যাকঃ
১) আরব দেশে যেসব ইহুদী বা খ্রিস্টান ছিল বা আছে... তারা কিন্তু ঠিকই ঈশ্বরকে “আল্লাহ” বলে, কেন? কারণ, এটা আরবি শব্দ আর আরবি তাদের মাতৃভাষা। কেন সেই ইহুদিরা ঈশ্বরকে ইয়াহওয়ে ডাকে না? {“ইয়াহওয়ে” (Yahweh) ( יהוה) হল ইহুদিরা যে নামে তাওরাত এ ঈশ্বরকে পেয়েছে}
২) আগের ধর্মগুলোর মানুষ, যেমন ইহুদী খ্রিস্টানরা যে ঈশ্বরের উপাসনা করত আমরাও কি সেই একই ঈশ্বরের উপাসনা করি না?? অবশ্যই করি। কুরআন আমাদের সেটাই বলে। তাহলে, চিন্তা করে দেখুন তো, একটা নরমাল আরবি শব্দ কী করে আগের আগের ধর্মের লোকদের ঈশ্বরের নাম হবে? কারণ, আরবি তো অনেক পরে এসেছে... আরবি হল হিব্রুর সিস্টার ল্যাঙ্গুয়েজ। তাহলে কি আমরাই কেবল জানলাম ঈশ্বরের নাম আর আগের ওরা জানল না? প্রসঙ্গত, আদম (আ) কিন্তু বেহেশত থেকে আরবি শিক্ষা নিয়ে আসেন নি। (অনেকে এটা ভাবে) তাছাড়া, আদম নামটাই হিব্রু। হাওয়া হিব্রু। তারা কথা বলতেন হিব্রুর একটা প্রাচীন রূপে। তারই একটা অপভ্রংশ আরবি। দুটোই সেমিটিক ভাষা।
৩) কুরআন এ কিন্তু আল্লাহ্র স্ত্রীলিঙ্গ উল্লেখ আছে!! অনেকে ভুল ভাবে যে, আল্লাহ এর কোন স্ত্রী লিঙ্গ হয়না। এ বিষয়ে পরে বলছি, কিন্তু, আগে ভাবুন, The god এর স্ত্রীলিঙ্গ কি the goddess হতে পারে না?? The Goddess বলে কারো অস্তিত্ব নেই ঠিকই, কিন্তু, কাল্পনিক দেবীর উপাসনা করার সময় তারা কি এ স্ত্রীলিঙ্গ ইউজ করতে পারে না?
৪) বিসমিল্লাহ্ বলে আমরা সব কাজ শুরু করি। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন? আমরা আসলে কি বলছি? আমরা বলছি “আল্লাহ্র নামে (শুরু করছি)”... “ব” মানে “এ” (in), “ইসম” মানে “নাম” আর “আল্লাহ” মানে কী মনে আছে? “সেই ঈশ্বর” বা “The god”, তাই না? তাহলে বিসমিল্লাহ্ মানে কী? “সেই ঈশ্বরের নামে” বা “In the name of the god” বা “In the name of God”... এখন চিন্তা করুন, আপনি আপনার এক বন্ধুর নাম দিয়ে একটা কাজ শুরু করবেন, ধরুন তাঁর নাম “শাহেদ”; আপনি তাঁর নাম যখন নিবেন তখন বলবেন “শাহেদ”... কিন্তু, আপনি আপনার একজন পরিচিত লোককে কোন কাজ শুরু করতে বলার সময় যদি তাঁর এক আত্মীয়র নাম নিতে বলেন (যার নাম আপনি জানেন না) তখন আপনি বলবেন, তোমার সেই আত্মীয়ের নাম নাও। তখন সে তাঁর নাম নিবে, উচ্চারন করবে। আমরা কি তাই করি না? আমরা বলছি ঈশ্বরের নামে শুরু করছি। যদি জানতাম নামটা কী, তাহলে নামটাই কি উচ্চারন করতাম না?
৫) “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” মানে কী? কতবার বলেছি এ বাক্যটি। তাই না? অর্থ করে দেখি, কী দাঁড়ায়? বিশ্লেষণ করি... “লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ” ... “লা ইলাহা ইল্লা আল ইলাহ” তাই না? “লা ইলাহা” মানে “নাই কোন ইলাহ বা ঈশ্বর বা god”, “ইল্লা” মানে “ব্যতীত”, আর “আল্লাহ” বা “আল ইলাহ” মানে? “সেই ঈশ্বর বা the god”। কী হল অর্থ? “নাই কোন ইলাহ সেই ইলাহ ছাড়া” বা “নাই কোন ঈশ্বর, সেই ঈশ্বর ছাড়া” বা “নাই (আর) কোন god, the god ছাড়া” বা “There is no god but the god” বা “There is no god but God” । তাই না? মেকস সেন্স...
এবার আসা যাক, ১৫০০ বছর আগের আরব সমাজে... তারা ৩৬০ দেবদেবীর মূর্তি রেখেছিল কাবায়... এটা সবাই জানি। তাদের প্রধান উপাস্যদের নাম কি আমরা সবাই জানি? তারা কিন্তু ঠিকই আল্লাহকে মানত। তিনি ছিলেন প্রধান দেবতা। (অনেকে ভাবে, চন্দ্রদেবতা। ভুল।) তবে তাঁর কোন মূর্তি ছিল না। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। তবে তাঁর উপাসনা তারা ডাইরেক্ট করত না। কীভাবে করত? অন্যান্য দেবদেবীর মাধ্যমে... তারা ভাবত, অন্যান্য দেবদেবীরা সন্তুষ্ট হলে, আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন। তাদের প্রধান তিন দেবী-
১/ আল্লাত
২/ আল-উযযা
৩/ আল-মানাত
নামগুলো খেয়াল করুন। প্রথম নামটা কী? “আল্লাত”... আরবিতে শেষে “ত” থাকলে স্ত্রীলিঙ্গ। “আল্লাত” কী? “আল্লাহ”এর স্ত্রীলিঙ্গ!! আল্লাত শব্দের আরবতে অর্থ কী? The goddess!!!
বিশ্বাস হচ্ছে না তারা আসলেই উপাস্য ছিল? দেখুনঃ
“তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাত ও আল-ওযযা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকজন আল-মানাত সম্পর্কে?” (কুরআন, ৫৩:১৯-২০)
দেবীদেরকে তারা আল্লাহ্র কন্যা ভাবত। আল্লাহ এজন্য তাদের তিরস্কার করেন।
“পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য? এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।” (কুরআন, ৫৩:২১-২২)
আল-উযযা এর মূর্তি http://upload.wikimedia.org/…/300px-Al-Uzza_Temple_Manatu_P…
আল মানাত এর উপাসনা করা হত ভাগ্যের দেবী হিসেবে।
আর, আল্লাত... (আল-ইলাহাত নামেও পরিচিত) মূর্তির ছবি... http://upload.wikimedia.org/…/d/d6/Allat.jpg/220px-Allat.jpg
উল্লেখ্য, আল্লাত, উযযা আর মানাত এ তিন দেবীর সংক্রান্ত ঘটনা নিয়েই সালমান রুশদির কুখ্যাত SATANIC VERSES বইটা লিখা হয়েছে... (আমার পড়া জঘন্যতম বইগুলোর মধ্যে একটা) এ বই-এ, রুশদি বলেছেন, মুহাম্মাদ (স) নাকি নবুয়ত এর প্রথম দিকে কুরাইশদের কাছ থেকে পজিটিভ রেসপন্স পেতে এই তিন দেবীকে মেনে নিয়েছিলেন (অর্থাৎ শিরক করেন) এবং ইবলিস তাঁর কাছে নাকি আয়াত নিয়ে আসে যেটা তিনি কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করেন! SATANIC VERSES এ আরও যে কত কী আছে... সেটা অনেক বড় লিখা হয়ে যাবে... স্যাটানিক ভার্সেস ভুল প্রমাণ করা যায় চেষ্টা করলেই... যাই হোক, বইটি ভারত আর বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। আর, সালমান রুশদি ভারত থেকে নির্বাসিত, তসলিমা নাসরিনের মত।
হিব্রুতে “এল” মানে ঈশ্বর। এখান থেকে আরবি অপভ্রংশ “ইলাহ”। god, ঈশ্বর।
আচ্ছা, এবার আসা যাক আসমাউল হুস্না প্রসঙ্গে। আল্লাহ্র ৯৯টা “নাম”; এগুলো কিন্তু পিউর নাম না। গুনবাচক নাম। Adjective type । প্রতিটিই আল্লাহ্র কোন না কোন গুণকে প্রকাশ করে। কিন্তু, আল্লাহ্র প্রকৃত নাম কী? সেটা কোন পাবলিক নলেজ না। আসলেই না।
আল্লাহ্র আসল নাম “ইসমে আজম” নামে পরিচিত। এটা সম্পর্কে অনেক অনেক কথা শোনা যায়। যেমন, “ইসমে আজম” যে একবার শিখবে সে সেই নাম ব্যবহার করে যা চাবে আল্লাহ্র কাছে তিনি তাই দেবেন। কখনও টার্ন ডাউন করবেন না। কখনই না। তবে, শর্ত হল, ইসমে আজম অর্জন করা লাগে। সেই রকম উচ্চস্তরের ধার্মিক মানুষ না হলে ইসমে আজম জানা যায় না। আর, আরও ভয়াবহ ব্যাপার, এটা কেউ যদি কাউকে জানায়, তাহলে, সাথে সাথে সে নিজে সেই নাম ভুলে যাবে। তাই এই জ্ঞান সম্পূর্ণ নিজের মৌলিক রাখতে হবে। আর, যদি সেটা খারাপ কাজে লাগায় তাহলে...
যাক, ধর্মীয় ইতিহাসে ইসমে আজম জানেন এমন কারো কারো কথা জানা যায়, যেমন, খিজির (আ); এছাড়া, আজাজিল তো আছেই। সে নাফরমানি করে ইবলিস হওয়ার আগে পর্যন্ত তো আল্লাহর ভাল বান্দাই ছিল। এবং এত বেশি উচ্চস্তরের বান্দা ছিল যে, সে ইসমে আজম অর্জন করে। কীভাবে ইবলিস বেহেশত থেকে নির্বাসিত হওয়ার পরেও আবার বেহেস্তে ঢুকল?? অনেকের মতে, সে শেষবারের মত ইসমে আজম ইউজ করে। আর এরপরের পরিণতি...
(Very little is known about Isme Azm for its secrecy…)
অনেকে আল্লাহকে অন্য কিছুতে ডাকতে অস্বস্তি বোধ করেন। মানে, “আল্লাহ” ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করতে চান না। মুহাম্মাদ (স) এর মাতৃভাষা হিসেবে আরবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে যদি সেটা করা হয়, তবে তো খুবই ভাল কথা। কিন্তু, যদি “উনার নাম আল্লাহ” বা “আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু ডাকলে গুনাহ হবে” এমন ধারণা থেকে আল্লাহ্কে “খোদা” বা “ঈশ্বর” বা “গড” {ও মাই গড বলা যাবে না??
আব্দুল মুত্তালিব আর আব্দুল্লাহর ধর্ম কী ছিল?
শিয়া, শাফিয়ি আর হানাফিদের মধ্যে একটা ধারণা প্রচলিত আছে, আব্দুল মুত্তালিব দেবদেবীর পূজা করতেন না। একেশ্বর ছিলেন। কথাটা কীভাবে আসলো আমি জানি না।
নবীজীর প্রথম এবং মূল জীবনীগুলো (যেমন ইবনে হিশাম) এটার বিরোধিতা করে। এ ধারণার পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা আছে। সব কিছু আল্লাহ্ ভাল জানেন।
ছেলে আব্দুল্লাহকে কুরবানি দেয়ার যে মানত করেছিলেন সেটা কিন্তু তিনি আল্লাহ্র কাছে করেন নি, করেছিলেন দেবতা হুবাল এর কাছে। এর মানে কি এই নয় যে, তিনি দেবতার পূজা করতেন? অবাক হবার কিছু নেই, যদি আব্দুলাহও বাবার মতো তাই করে থাকেন...
ইবনে হিশামের লিখা জীবনী অনুযায়ী, আসাফ আর নায়িলাহ ছিল দুজন জিন-প্রিস্ট। মক্কার কাহিনী মতে, ওরা দুজন কাবার ভিতরেই যৌনমিলনে আবদ্ধ হয়। শাস্তি হিসেবে দেবতারা তাদেরকে পাথর বানিয়ে দেয়। ঐ পাথরদুটো রাখা হয় জমজম কূপের উপর। জমজম কূপের খননকারী ছিলেন আব্দুল মুত্তালিব। কী কারণে জানি না, তিনি ছিলেন এ দুই পাথরের মূর্তির উপাসক।
আপনার কি মনে হয়েছিল, কেন এত লোক থাকতে আব্দুল মুত্তালিব সেই জিন উপাসিকার কাছে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন? কারণ, বলা হয়েছে, আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন একজন জিন ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ, দেবতাদের পাশাপাশি জিন উপাসনাও করতেন।
রুকি মেয়েটার কথা মনে আছে? আব্দুল্লাহকে প্রস্তাব দিয়েছিল যে? সেই রুকিকে অনেক আগে থেকেই চিনতেন আব্দুল মুত্তালিব। জিন উপাসিকা। {ইবনে হিশাম}
মা আমিনা ছিলেন মক্কার প্রধান জিন উপাসিকা সোদা বিনতে জেহরার ভাতিজি। ধর্মের দিক থেকে পরিচিত থাকার কারণেই সম্ভবত এ পরিবারে বিয়ে দেন আব্দুল মুত্তালিব।
ওয়ারাকা আর রুকির কাজিন ছিলেন কে?... ... ... খাদিজা (রা), মুহাম্মাদ (স) এর প্রথম স্ত্রী।
তবে, খাদিজা মোটেও জিন উপাসিকা ছিলেন না।
সম্ভবত হানিফা ছিলেন। আর ওহী আসার আগ পর্যন্ত মুহাম্মাদ (স) নিজেও হানিফ ছিলেন। {হানিফ-ইব্রাহিমের ধর্মমতে, একেশ্বরবাদী}
মুহাম্মাদ (স) এর মৃত্যু কি হত্যা বলা যায়? নাকি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক? এটা কি ষড়যন্ত্র নয়?
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স) এর প্রধান শত্রু ছিল প্রধানত ইহুদিরা। তারা জানত যে, তিনি শেষ নবী। কারণ, তাওরাতে তার ভবিষ্যৎবাণী আছে। কিন্তু, তারা বিশ্বাস করতে চাচ্ছিল না, শেষ নবী আসবেন আরব থেকে, তারা চেয়েছিল শেষ নবী আসুক তাদের মত সম্ভ্রান্ত ইসরাইল বংশ থেকে। কিন্তু তা হয়নি দেখে তারা উঠেপড়ে লাগে নবীকে (স) হত্যা করতে। তারা অনেকবার চেষ্টা করেছিল। এমনকি তাদের “ঐতিহ্য” কালো জাদুও ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি।
কিন্তু একবার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সেটাই আজকের টপিক।
বিষয়টা খুব সেনসিটিভ। তাই, কেউ যদি বিশ্বাস করতে না চায়, কোন সমস্যা নেই, কারণ এটার উপর আমাদের ঈমান নির্ভর করবে না। আর, কেউ ২ টা অপশনের কোনটার পক্ষেই ১০০% নিশ্চিত প্রমাণ পাইনি। তাই, বিষয়টি ধোঁয়াটে।
তবে, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই নবী (স) সেই কষ্ট সহ্য করেই মারা গেছেন। তিনি মৃত্যুশয্যায় অনেক কষ্ট সয়েছেন।
আসুন সেই ঘটনাটা আগে দেখিঃ
৬২৮ সালের জুন মাস। (হিজরি সালের সাথে আমরা কম পরিচিত বলে আমি খ্রিস্টীয় সাল ব্যবহার করলাম) মুহাম্মাদ (স) খায়বার জয় করেন। সেখানকার এক ইহুদী নারী জায়নাব বিনতে আল হারিস নবী এবং তার সাহাবীদের দাওয়াত করে। কিন্তু তার মনে ছিল নবী (স) কে assassinate করার মতলব। সে বিশেষ উপায়ে খোজ নিয়ে জানতে পারল, নবী (স) এর প্রিয় খাবার মেষশাবকের কাঁধের গোশত। তাই সে মেষশাবক মেরে রান্না করল। কিন্তু, তার সাথে মিশিয়ে দিল খুবই শক্তিশালী প্রাণঘাতী বিষ। দাওয়াতের দিন, সে নবী (স) এবং সাহাবাদের সামনে পরিবেশন করল। মুহাম্মাদ (স) এক টুকরো গোশত মুখে দিলেন। অন্যদিকে, বিসর ইবনে আল বারা নামের এক সাহাবীও মুখে দিলেন। মুহাম্মাদ (স) সাথে সাথে বললেন, “খেও না!! এটা বিষাক্ত।” কিন্তু পরে বিসর(র) মারা যান। ইন্নালিল্লাহ... । রাসুল (স) জায়নাব কে আড়ালে ডেকে নিয়ে কৈফিয়ত চাইলেন। কিন্তু সে কেবল বলল, “আমি আপনাকে খুন করতে চেয়েছিলাম।” নবী (স) ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে মাফ করে দেন। কিন্তু ঐ সাহাবির পরিবার কিসাস দাবি করলে জায়নাবকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় খুনের অভিযোগে।
{সাহিহ আল বুখারি, হাদিস ৩:৪৭:৭৮৬}
এই ছিল নবী (স) কে assassinate চেষ্টার সবচেয়ে close ঘটনা। তিনি আল্লাহ্র নবী হওয়ায় আল্লাহ্ তাঁকে সেই বিষ এর প্রভাব থেকে রক্ষা করেছেন ৪ বছর পর তার নবুয়ত এর দায়িত্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত, বিদায় হজ পর্যন্ত, এরপর তার কর্মের সমাপ্তি ঘোষিত হয়, “আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” (মায়িদা, ৫:৩)
এরপর রাসুল (স) অসুস্থ হয়ে পড়েন, খুবই অসুস্থ। তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হন। তিনি কিসের ব্যথায় ভুগছিলেন? দেখুনঃ
“হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) তার মৃত্যুশয্যায় প্রায়ই বলতেন, ‘হে আয়িশা!! খায়বার এ যে খাবার আমি খেয়েছিলাম সেই (ইহুদীর বিষের) বেদনা আমি এখনো অনুভব করছি। আমার মনে হচ্ছে, আমার রক্তনালী যেন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে সেই বিষের কারণে...’
{সাহিহ বুখারি, ৫ম খণ্ড, বই ৫৯, হাদিস ৭১৩}
এই কষ্ট নিয়েই আমাদের প্রিয় নবী (স) মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সেটা ছিল ৬৩২ সাল।
তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবী ইবনে মাসুদ (রা) বলেছিলেন, “আমি দরকার হলে ৯ বার কসম খেয়ে বলতে পারব, রাসুল (স) কে হত্যা করা হয়েছে, কারণ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে নবী করেছেন, আর করেছেন শহীদ।”
মুহাম্মাদ (স) নবী ছিলেন দেখে তাঁকে কেউ হত্যা করতে পারবে না, এমন কোন কথা হতে পারে না। আল্লাহ্ স্বয়ং পবিত্র কুরআনে কী বলেছেন এ নিয়ে? দেখুনঃ
“আর মুহাম্মদ তো একজন রাসুল ব্যতীত কিছু নন! তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা তাঁকে ‘হত্যা’ করা হয়, তবে কি তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে?” (আলে ইমরান, ৩:১৪৪)
আল্লাহ্ এখানে ২টি ক্ষেত্রের কথাই বলেছেন!! তিনি স্বাভাবিক মারাও যেতে পারেন, তাঁকে হত্যাও করা হতে পারে। তবে, কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না, যে তিনি কেবল বিষের কারণে মারা গেছেন, অথবা, কেবল বার্ধক্য এর কারণে মারা গেছেন। বরং, এটা বলা যায়, তিনি বার্ধক্যের কারণে মারা গিয়েছেন, কিন্তু তিনি মৃত্যুশয্যায় বিষের যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। কারণ তিনি নবী, কিন্তু মানুষ।
একমাত্র আল্লাহ্ই সব জানেন।
তাঁর আগে অনেক নবীর অপমৃত্যু হয়েছে, হয় নি?
মুহাম্মাদ (স) এর ঠিক আগের নবী ঈসা (আ) কে হত্যা চেষ্টা করেছে ইহুদীরা, যদিও অলৌকিকভাবে আল্লাহ্ তাঁকে বাঁচিয়ে তুলে নেন। তাঁর অপমৃত্যু হয়নি।
তাঁর আগের জন, ইয়াহিয়া (আ) এর শিরশ্ছেদ করে মাথা আলাদা প্লেটে করে পরিবেশন করা হয়েছিল।
তাঁর আগের জন, জাকারিয়া (আ)কে ইহুদীরা বাইতুল মুকাদ্দাস এর কাছেই করাত দিয়ে দু টুকরা করে হত্যা করে।
এর আগের অনেক নবীকেই হত্যা করা হয়। ইসরায়েল এর বাদশাহ আহাব এর স্ত্রী ইসাবেল এর আদেশে অসংখ্য নবীকে হত্যা করা হয়।
ইসরায়েল এর নবী আরিয়াহ (আ) কে শিরশ্ছেদ করা হয়।
এরকম উদাহরন দিয়ে হয়ত শেষ করা যাবে না।
ইহুদীরা সর্বদাই চেষ্টা করে এসেছে মুহাম্মাদ(স) কে দুনিয়া থেকে সরাতে, তাঁর বংশধরদের হত্যা করতে। কারণ, মুহাম্মাদ (স) এর Direct Bloodline হবেন মুহাম্মাদ আল মাহদি, যিনি ইহুদিদের ত্রাণকর্তা দাজ্জাল এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন। তাই মুহাম্মাদ (স) বা তাঁর বংশকে নিশ্চিহ্ন করতে পারলে সেই আশঙ্কা থাকে না, থাকে?
কী আশ্চর্য যে, আমরা মুসলিম, আমরা মুহাম্মাদ (স)কে এত ভালবাসি, কিন্তু আমরা কি জানি যে, তাঁর বংশধরদের কী হয়েছিল? আমরা সবাই কি এমনকি তাঁর বংশধরদের নাম পর্যন্ত বলতে পারব? মৃত্যু তো পরের কথা! তাদের কী হয়েছিল জানলেই আপনি প্যাটার্নটা ধরতে পারবেন, ষড়যন্ত্র...
কার মাধ্যমে মুহাম্মাদ (স) এর বংশ আসবে? একমাত্র জীবিত মেয়ে ফাতিমা (রা)...
# তাঁর স্বামী আলি(র) নামাজ পড়া অবস্থায় Assassin এর poisoned তরবারির আঘাতে মারা যান। জানুয়ারি ২৮, ৬৬১
# ছেলে হাসান (রা) poisoned. মার্চ ৬, ৬৭০।
# আরেক ছেলে হুসাইন (রা) কারবালায় নিহত। ১০ অক্টোবর, ৬৮০।
# হুসাইন এর ছেলে আলি ইবনে হুসাইন। অন্য নাম জইনুল আবেদিন। মারা যান কীভাবে? poisoned। ৭১২ সাল।
# তাঁর ছেলে, মুহাম্মাদ আল বাকির। মারা যান কীভাবে? Poisoned। ৭৩৩ সাল।
# তাঁর ছেলে, জাফর সাদিক। (এটা পরিচিত?) মারা যান কীভাবে? Poisoned। ১৪ ডিসেম্বর, ৭৬৫।
# তাঁর ছেলে, মুসা আল কাজিম। মারা যান কীভাবে? Poisoned। ১ সেপ্টেম্বর, ৭৯৯।
{কী মনে হচ্ছে?}
# তাঁর ছেলে আলি আর রিযা। মারা যান কীভাবে? Poisoned. ২৩ অগাস্ট, ৮১৮।
# তাঁর ছেলে মুহাম্মাদ আল জাওয়াদ। মারা যান কীভাবে? Poisoned. ২৪ নভেম্বর, ৮৩৫।
# তাঁর ছেলে, আলি আল নাকি। মারা যান কীভাবে? Poisoned. ৮৬৮ সাল।
# তাঁর ছেলে, হাসান আল আস্কারি। মারা যান কীভাবে? Poisoned. ১ জানুয়ারি, ৮৭৪।
# তাঁর ছেলে, মুহাম্মাদ বিন হাসান। শিশু অবস্থায় তাঁর বাবা হাসান তাঁকে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেন, যেন এ বংশ টিকে থাকে, নয়ত তাকেও হত্যা করা হবে। আমরা এ পর্যন্তই জানি রাসুল (স) এর bloodline. শেষ সময়ে আবারো প্রকাশিত হবে এ bloodline, আমাদের সাহায্যের জন্য, ইমাম (মানে leader) আল মাহদি (মানে The Guide).
এত হত্যা প্রচেষ্টা। মুহাম্মাদ (স) থেকে শেষ বংশধর পর্যন্ত। লাভটা কাদের? কারা লাভবান হয়েছে? ৯/১১ অ্যাটাক সাজিয়ে মুসলিমদের দোষ দিয়ে লাভ কাদের হয়েছে? এ বংশ নিশ্চিহ্ন করে লাভ কাদের
নবীদের ছবি
হযরত জুবায়ের ইবেন মুতইয়িম (রা) বলেন, যখন আমাদের কাছে রাসুল (স) আগমন করলেন, তখন তাঁর উপর কুরাইশদের অত্যাচার আমার মোটেও ভাল লাগেনি। তাই আমি সিরিয়া চলে গেলাম। সেখানে একটি সিনাগগে আসলাম, সেখানকার সন্ন্যাসীরা তাদের সরদারকে আমার আসার কথা জানাল। সরদার বললেন আমাকে ৩ দিন আপ্যায়ন করতে।
৩ দিন পরে সরদার আমাকে ডাকলেন আর বললেন, “তুমি কি হেরেমের অধিবাসী? (মক্কা?)”
“হ্যাঁ।”
“যিনি নবী দাবি করেছেন, তাঁকে চিন?”
“হ্যাঁ।”
তখন তিনি আমাকে হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গেলেন। সেখানে অনেক অনেক চিত্র রাখা ছিল। মানুষের। তিনি বললেন, “দেখ তো, এখানে তোমার নবীর ছবি আছে কিনা?”
আমি দেখলাম, কিন্তু পেলাম না।
তিনি আমাকে আরও বড় ঘরে নিয়ে গেলেন, “খুব ভাল করে দেখ, এখানে আছে?”
আমি দেখলাম, এখানে মুহাম্মাদ (স) এর একটি ছবি আছে। এর সাথে আরেকজনের ছবি যিনি মুহাম্মাদের (স) কাঁধ ধরে আছেন। (জানতাম না তখন, উনি আবু বকর)
আমি মনে মনে ভাবলাম, “আমি স্বীকার করব না কোন জন নবী, দেখি এ কী বলে।”
তখন মুহাম্মাদের (স) ছবির দিকে ইশারা করে তিনি বললেন, “ইনি নবী।”
“হ্যাঁ, তিনিই, আল্লাহর কসম।”
“আমিও সাক্ষ্য দিলাম, তিনি আল্লাহর নবী। আর ইনি আবু বকর। তাঁর খলিফা।”
“আমি এঁকে চিনি না। এখনও দেখিনি।”
“তুমি কি মনে কর, মক্কাবাসীরা তাঁকে মেরে ফেলবে?”
“আমার তো মনে হয় ইতোমধ্যে মেরে ফেলেছে।”
“আল্লাহর কসম, না, মক্কাবাসীরা তাঁকে নয়, বরং তিনি মক্কাবাসীদের পরাভুত করবেন।”
-০-
এ কাহিনী পড়ে আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম! নবীদের ছবি!!?? সত্যি? আছে? কিন্তু, কীভাবে? কীভাবে আঁকল মানুষ? এ উত্তর আমার জানা ছিল না। জানলাম অনেক দিন পরে। হেরাক্লিয়াসের কাহিনীতে।
২.
হিশাম ইবনুল আস(রা) বলেন, আবু বকর (রা) আমাকে এক ব্যক্তির সাথে সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে পাঠালেন। তাঁকে দাওয়াত দিতে। আমরা যখন গেলাম, তখন সেখানে তাঁর গভর্নর জাবালা গাসসানি ছিলেন।
সম্রাট দূত পাঠিয়ে বললেন, “আমার দূতকে যা বলার বলুন।”
আমরা না করলাম।
তারপর দূত আমাদেরকে জাবালার কাছে নিয়ে গেল। দেখলাম, তিনি কাল পোশাক পরে আছেন। বললাম, “কাল পোশাক কেন পড়ে আছেন?” তিনি বললেন, “আমি কসম খেয়েছি, সিরিয়া থেকে তোমাদের না তাড়ানো পর্যন্ত কাল পোশাক পড়ব।”
“এটা হবে না, বরং আমরা আপনাদের দেশ পেয়ে যাব। আমাদের রাসুল সে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন।”
“আপনারা সে জাতি না, যারা এ দেশ জয় করবে। ভবিষ্যৎবাণী হল, সেই জাতি সম্পর্কে যারা রোজা রাখে আর সন্ধার সময় ইফতার করে।”
তারপর জাবালা আমাদের রোজার কথা জিজ্ঞেস করলেন। আমরা বললাম আমাদের রোজার কথা। সাথে সাথে তাঁর মুখ কাল হয়ে গেল। ...
জাবালা আমাদেরকে দুতের সাথে হেরাক্লিয়াসের কাছে পাঠালেন। আমরা সেখানে পৌঁছালে দেখলাম সম্রাট আমাদের নিরীক্ষণ করছেন। আমরা সম্রাটের জানালার নিচে থামলাম। আমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার বলে চিৎকার করলাম। তখন জানালা কেঁপে উঠল।
আমরা ভিতরে গেলাম। দেখলাম লাল পোশাক পড়ে সম্রাট বসে আছেন। জানালাগুলোও লাল। আমরা কাছে এলে সম্রাট হেসে হেসে বললেন, “কী ক্ষতি ছিল আমাকে তোমাদের নিয়ম মতো সালাম দিলে?”
“আমরা বিশ্বাসীরা একে অপরকে যা বলি সেটা আপনাকে বলা বৈধ মনে করি না।”
“কী বল তোমরা?”
“আসসালামু আলাইকুম”
“তোমাদের বাদশাহকে কী বল?”
“একই।”
“বাদশাহ কীভাবে জবাব দেন?”
“একই কথা দিয়ে।”
“তোমাদের প্রধান বিশ্বাস বাণী কী?”
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।”
জানালা দুলে উঠল। সম্রাট দেখে বললেন, “তোমরা বাসায় যখন এটা বল তখনও কি জানালা দুলে উঠে?”
“নাহ! আল্লাহর কসম, আমরা এ জায়গা ছাড়া কোথাও দেখিনি।”
সম্রাট আমাদের অনেক অনেক কথা জিজ্ঞেস করলেন, আমরা জবাব দিলাম।
এক পর্যায়ে বললেন, “উঠ। তোমাদের জন্য একটা ঘর সাজান আছে। সব ব্যবস্থা আছে।”
আমরা ৩ দিন থাকলাম সেখানে। প্রতি রাতে হেরাক্লিয়াস আমাদের ডেকে পাঠাতেন আর অবাক ব্যাপার, সেই একই প্রশ্নগুলো বারবার করতেন। আমরা একই জবাব দিতাম।
তারপর, সম্রাট একটা সিন্দুক আনালেন। মনি মুক্তায় ভরা। অনেকগুলো চেম্বার সেটাতে। তালা মারা সব। সম্রাট একটা চেম্বার খুললেন। সেখান থেকে একটা রেশমি কাপড় বের করলেন, কাপড় সরাতেই দেখলাম, একটা ছবি। মানুষের চেহারা। লালচে, শ্মশ্রুহীন, লম্বা গ্রীবা, প্রশস্ত চোখ, তাঁর চুল এত সুন্দর ছিল যে মনে হল প্রকৃতি নিজের হাতে বানিয়েছে। সম্রাট বললেন, “চেন এঁকে?”
“না।”
“ইনি আদম (আ)।”
সম্রাট ২য় তালা খুললেন। আবার রেশমি কাপড়। এবারের ছবিতে চেহারা শুভ্র, লালচে চোখ, বড় মাথা...
“চেন এঁকে?”
“না।”
“ইনি নুহ (আ)।”
৩য় চেম্বার খুললেন। এবার রেশমি কাপড় সরাতেই যে ছবি দেখলাম, সেখানে শুভ্র ত্বক, সুডৌল দেহ, উজ্জ্বল কপাল, কারুকার্যময় গাল, সাদা দাঁড়ি, যেন তিনি জীবিত, হাস্যরত।
“চেন?”
“না।”
“ইনি ইব্রাহিম (আ)।”
এরপর আরও একটি তালা খুললেন, ছবি বের করতেই চিনে ফেললাম, ইনি মুহাম্মাদ (স)। আমাদের কান্না চলে এলো। আমরা সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলাম। সম্রাট বললেন,
“আল্লাহর কসম, সত্যি করে বল, ইনি তোমাদের নবী?”
“হ্যাঁ, ইনিই। কিন্তু, ইনি আর আমাদের মাঝে নেই।”...
সম্রাট কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
এরপর বললেন, “এটা ছিল সিন্দুকের সর্বশেষ চেম্বার। এর আগে আরও অনেক চেম্বার ছিল। তোমরা কী বল সেটা দেখার জন্য তড়িঘড়ি করে এটা আগে দেখিয়েছি।”
এরপর তিনি আগের তালাটি খুললেন, এতে আগের মতো আরেকটি ছবি ছিল। এবারের ছবিটি যুবক বয়সের কারও। তাঁর চেহারায় সাধুতার চিহ্ন স্পষ্ট। সুশ্রী চেহারা। কুচকুচে কালো দাঁড়ি। অনেক চুল। সম্রাট বললেন,
“এঁকে চিন?”
“না।”
“ইনি ঈসা (আ)।”
তিনি আরও কিছু তালা খুলে দেখালেন, একটাতে দেখা গেল ট্যান চামড়ার, বেশ কোঁকড়া চুলের আর অন্তর্ভেদী দৃষ্টির এক লোক। জানলাম ইনি মুসা (আ)।
তাঁর পাশের ছবিতে প্রশস্ত কপাল, অইলি চুল, আর হালকা টেড়া চোখ এর একজন। জানলাম ইনি হারুন (আ)।
এরপর একজন গড় উচ্চতার, সোজা চুলের মানুষ, তিনি ছিলেন লুত (আ)।
তাঁর পাশে, প্রায় মুসার মতই দেখতে তবে লালচে ত্বক, উঁচু নাক, চাপা গালের একজন সুদর্শন লোক। তিনি নাকি ইসহাক (আ)।
এরপরের ছবিতে দেখলাম প্রায় হুবহু দেখতে ইসহাকের মতো একজন, কেবল ঠোঁটের উপর একটা তিল। ইনি ইয়াকুব (আ)।
তাঁর পাশে হাস্যজ্জল, লালচে, সুদর্শন একজন ছিলেন, তিনি ইসমাইল (আ)। দেখতে যেন আদর্শ পুরুষ।
এরপরের জন দেখতে আদমের মতই, কিন্তু এত এত্ত সুন্দর যেন সূর্য জ্বলজ্বল করছে। জানলাম, ইনিই ইউসুফ (আ)।
এর পরের ছবিতে দেখা গেল, সরু পা, ছোট চোখ, কিন্তু বড় পেট। লালচে ত্বক। গড় উচ্চতা। তিনি ছিলেন দাউদ (আ)।
তারপর, একজন লম্বা অশ্বারোহীর ছবি দেখলাম। হেরাক্লিয়াস বললেন, ইনি সুলাইমান (আ)।
সব শেষে আমরা হিরাক্লিয়াসকে জিজ্ঞেস করলাম, “নবীদের এসব ছবি আপনি কোথায় পেলেন???!”
তখন তিনি উত্তর দিলেন, “আদম আল্লাহর দরবারে আবেদন করেন যে, তাঁর বংশধরদের মধ্যে যারা যারা নবী হবেন তাদের আকার আকৃতি তাঁকে দেখানো হোক। সেমতে আল্লাহ তাদের প্রতিকৃতি আদমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এগুলো আদম (আ) এর পরিত্যক্ত মূল্যবান বস্তুসামগ্রীর সাথে ছিল পশ্চিমের এক জায়গায়। বাদশাহ জুলকারনাইন এগুলো সেখান থেকে নিয়ে আসেন এবং হযরত দানিয়াল (আ) {Daniel} এর কাছে সমর্পণ করেন। দানিয়াল পরে এগুলো কাপড়ে আঁকিয়ে নেন। এখন যে ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছ, এগুলো সব হুবহু দানিয়ালের আঁকা ছবি।”
হিরাক্লিয়াস বললেন, “আমার বাসনা, এ দেশ আমি ত্যাগ করি এবং তোমাদের একজন গোলাম হয়ে থাকি। যখন মৃত্যুবরণ করি, তখন যেন আমার সাথে সৎ ব্যবহার করা হয় আর আমার দেহ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।”
{নবুয়াতের প্রমাণপঞ্জি, মাওলানা মহিউদ্দিন অনূদিত, পৃষ্ঠা ২০}

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন