পোস্টগুলি

মাটি নাকি নুর?

আমাদের সমাজে 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির‌ তৈরি নাকি নুরের তৈরি' এ বিষয়ে প্রচুর দ্বন্দ্ব, তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়াঝাটি, গালাগালি ও নানা বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ যুগ পরম্পরায় চলে আসছে-যা অদ্যাবধি বিদ্যমান। কিন্তু মূলত: এসব কার্যক্রম নিছক গোঁড়ামি ও মূর্খতা সুলভ আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়। প্রকৃত পক্ষে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষও ছিলেন আবার নুর বা আলোও ছিলেন। এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও বাদানুবাদে লিপ্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ▪️আসুন, এ বিষয়টি পরিস্কার করা যাক: وبالله التوفيق প্রথমত আমাদেরকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে যে, তিনি কি মানুষ ছিলেন, নাকি জিন ছিলেন, নাকি ফেরেশতা ছিলেন। যদি মানুষ জাতির অন্তর্ভুক্ত হন তাহলে মানুষ যে উপাদান থেকে যে পদ্ধতিতে সৃজিত হয়েছে তিনিও সে পদ্ধতিতে সে উপাদান থেকেই সৃজিত হয়েছেন। তাহলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষ ছিলেন কি না তা কুরআন-হাদিস থেকে জানা যাক: ◆ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষ ছিলেন; ফেরেশতা ছিলেন না। এ বিষয়ে কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, وَقَالُوا مَالِ هَٰذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي ا...

বাউল দর্শন কতটুকু নিকৃষ্ট দর্শন!

বাউলদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করার সময় সবচেয়ে বিরক্তি অনুভব করে ছিলাম "পঞ্চরস" পানক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে৷ আসেন বুঝি এই,  পঞ্চরস কি?  ১. ​শুক্র (বীজ)-এটি পুরুষের প্রধান জীবনীশক্তি হিসেবে গণ্য হয়। বাউল মতে, একে নিম্নগামী হতে না দিয়ে উর্ধ্বমুখী করা বা মস্তকস্থিত সহস্রারে স্থাপন করা এই সাধনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২. ​রজঃ (শোণিত): নারীর প্রাকৃতিক চক্রের নির্যাস। বাউলরা একে সৃজনশীল শক্তির উৎস মনে করেন এবং সাধনার বিশেষ মুহূর্তে এর ব্যবহারের কথা বলেন। ৩. ​মূত্র (সলিল): দেহকে কলুষমুক্ত ও রোগমুক্ত রাখতে সাধকরা একে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শোধন বা পান করার কথা উল্লেখ করেন। ৪. ​বিষ্ঠা (পুরীষ): এটি স্থুল রসের অন্তর্ভুক্ত। দেহতাত্ত্বিক গুহ্য সাধনায় এরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ৫. ​ঘর্ম (ঘাম): শরীরের অতিরিক্ত উষ্ণতা বা শ্রমের ফলে নির্গত নির্যাস। বাউল তত্ত্ব অনুসারীরা ততক্ষণ অব্দি সিদ্ধিলাভ করে না। যতক্ষণ অব্দি এই ৫ রস এক সাথে ঘুটে না খাওয়া হয় ৷ যাস্ট একটু কল্পনা করেন?  😊 এরপরও সুশীল কেউ যদি বাউল তত্ত্ব কে সুফিধারা'র অংশ বানাইতে চায়। তাদের দাওয়াত দেন। এরপর, ৩ - ৪ গ্লাস পঞ্চরস পান করান। ❤️ প্রেমভাজ...

নুর বললেই কি নুরের তৈরী হয়ে যায়?

বি*স*মি*ল্লা*হি*র রা*হ*মা*নির রা*হিম। মুহাব্বতের সাথে নিরপেক্ষভাবে লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইল। এক আল্লাহ কি নুরের তৈরী? (নাউযুবিল্লাহ! জানিনা) আল্লাহ তাআলা নূর একথা স্পষ্ট ভাষায় পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে- উদাহরণ-১ اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের নূর তথা জ্যোতি। [সূরা নূর-৩৫] উদাহরণ-২ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ তিনি তার নুর দ্বারা যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন, [সূরা নূর-৩৫] দুই ইসলাম কি নুরের তৈরী? یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰہِ بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَ یَاۡبَی اللّٰہُ اِلَّاۤ اَنۡ یُّتِمَّ نُوۡرَہٗ وَ لَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ তারা আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায় তাদের মুখের (ফুঁক) দ্বারা, কিন্তু আল্লাহ তো তাঁর নূর পরিপূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা অপছন্দ করে। আয়াতে নুর দ্বারা ইসলাম উদ্দেশ্...

রাসূলুল্লাহ (সা) কি ওহী ছাড়া কোন কথাই বলতেন না?

রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের মাঝে কুরআন হিসাবে, আল্লাহর বাণী বলে যা কিছু পেশ করেছেন সবগুলো ওহী এবং হাদীসও সাধারণত ওহী ভিত্তিক, ওহীয়ে গাইরে মাতলূ। কিন্তু 'তিনি যত কথা বলেছেন বা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সবগুলো ওহী, ওহী ব্যতীত তিনি নিজে থেকে কোন একটি কথা বা কোন একটি সিদ্ধান্তও নেন নি, তিনি সাহাবাগণ ও কাফের মুনাফিকদের সাথে যত কথা বলেছেন তা সবই ওহী ভিত্তিক, ওহী ছাড়া কোন কথা বলেনি'- এমন দাবি করা ভুল ছাড়া কিছুই নয়! দেখুনঃ . হযরত আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন যায়নব রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে একটু বেশি সময় অতিবাহিত করলেন এবং মধু পান করলেন। এতে আমার মনে ঈর্ষা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। এবং আমি হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার সাথে পরামর্শ করে স্থির করলাম যে, তিনি আমাদের মধ্যে যার কাছে আসবেন, সেই বলবেঃ আপনি "মাগাফার” পান করেছেন। (মাগাফীর এক প্রকার বিশেষ দুৰ্গন্ধযুক্ত আঠাকে বলা হয়।) সেমতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ না, আমি তার মধু-পান করেছি। সেই বিবি বললেনঃ সম্ভবত কোন মৌমাছি মাগাক্ষীর বৃক্ষে বসে তার রস চুষেছিল। এ...

হাদীস-ফিকাহ ছাড়া কুরআন বুঝা অসম্ভব

হাদিস অস্বীকারকারীরা নিঃসন্দেহে পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত এবং কা|ফির। হাদিস অস্বীকারকারীরা এখন মুসলিম সমাজে মহা ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাতিল গোষ্ঠীর বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় অনেক অজ্ঞ সাধারণ মুসলিম বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং হাদিস অস্বীকার করে কুফরী ও জাহান্নামের পথে পা বাড়াচ্ছে। এই ফিতনা মোকাবিলায় জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। হাদিস অস্বীকারের বিভ্রান্তি মোকাবিলায় কিছু বই, ভিডিও ও আর্টিকেল শেয়ার করছি। পোস্টটি যথাসম্ভব শেয়ার করে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির আহ্বান। . হাদিসের প্রামাণিকতা - সানাউল্লাহ নজির আহমদ https://islamhouse.com/bn/books/409005/ . আমরা হাদিস মানতে বাধ্য - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক https://ia800709.us.archive.org/17/items/AmraHadisManteBaddho/Amra-Hadis-Mante-Baddho.pdf . রাসূল সা. এর সুন্নাহর উপর আমলের আবশ্যকতা আর তার অস্বীকারকারীর কাফের হওয়া - শায়খ আব্দুল আযিয বিন বায https://islamhouse.com/bn/books/438765/ . হাদিস সংকলনের ইতিহাস - মাওলানা আব্দুর রহিম https://drive.google.com/file/d/1Zj5sh3LVC27Jr_bV5mUShkKoXfOWnYmV/view?usp=sharing . হাদীসের নামে জালিয়াতী - ড. খোন্...

ইসা আ. এর মৃত্যু ও কাদিয়ানী আকীদা

*বেথলেহেম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ঈসার দ্বিতীয় মৃত্যু* ✝️ যীশু/ক্রাইস্ট/ঈসা এবং হোলি গ্রেইল নিয়ে থ্রিলার লিখেছেন ড্যান ব্রাউন। তার সেই বেস্টসেলার উপন্যাস (যেটা পরে ব্লকবাস্টার ফিল্মও হয়েছে) দ্য ভিঞ্চি কোডের পটভূমি ইউরোপে: ফ্রান্স, ভ্যাটিকান, ইউকে। ড্যান ব্রাউনের গল্পের মতোই আরেকটা জো-ড্রপিং গল্পের প্লট লুকিয়ে আছে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেই। অবশ্য এই গল্পটার প্লট, সাবপ্লট এতো বেশি যে উপন্যাসটা ট্রিলোজি আকারেই লিখতে হবে। এই গল্পটারও মূল চরিত্র ঈসা। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে যারা কিছুটা হলেও পড়াশোনা করেছেন তারাই জানেন যে এই ঈসা হলেন একজন ফ্যাসিনেটিং ক্যারেক্টার। বিভিন্ন ধর্মের শাখা-প্রশাখায় ঈসা এবং মসীহ হিসাবে তার দ্বিতীয় আগমন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নাই। ঈসা কি হিন্দুধর্মের বিভিন্ন প্রফেসিতে বর্ণিত কৃষ্ণের অবতার নাকি বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন প্রফেসিতে বর্ণিত মৈত্রেয় বুদ্ধ? এই নিয়ে আলাপ অনেক বছর ধরেই চলছে। আবার, ঈসা আসলে বুদ্ধিস্ট ছিলেন এবং বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নিতে ভারতবর্ষেও এসেছিলেন, এমন থিওরিও অনেক স্কলার দিয়েছেন। এইরকম একটা দাবী জওহরলাল নেহেরুর গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি...

গান বাজনা কি আসলেই হারাম?

বিশ্বসেরা আলেমদের মতে ইসলামে সংগীত হারাম নয় সরকারের কাছে প্রস্তাব করছি  ড. কারযাভীকে আমন্ত্রণ করে এনে আমাদের আলেমদের সাথে বসিয়ে দেয়া হোক যাতে সামনাসামনি আলোচনা করে সংগীত নিয়ে জাতির বিভক্তির চির-নিরসন হয়। জবাবটা সিম্পল। ইমামরাই দাবি করেন, “মোহাম্মদী ইসলাম একটি ফিৎরাতি (অর্থাৎ প্রাকৃতিক) ধর্ম”। সংগীত মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। সেজন্যই প্রতিটি দেশ জাতি সভ্যতার ব্যতিক্রমহীন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সংগীত। যখন মানুষের ভাষা ছিল না, কাপড় ছিল না, তখনও মানুষ বিভিন্ন উচ্চারণে গান গেয়েছে, অতীত সভ্যতার গুহার দেয়ালে সেসব চিত্র আজও উৎকীর্ণ। এবং সেজন্যই সৌদি, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আমিরাত, জর্দান, সিরিয়া, মিসর, ইরাক, প্যালেস্টাইন, ইয়েমেনসহ প্রতিটি মুসলিম দেশ ও প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত আছে। অসুখ নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে মতভেদ হলে রোগীর যে করুণ দশা সংগীত নিয়ে আমাদেরও তাই। বিভিন্ন আলেম বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন, জনগণের কে কার মতামত মানবেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমরা মানছি ‘দুনিয়ার সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ইসলামী বিশেষজ্ঞ’দের মতামত, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাণ্ড মুফতি (১৯৮২ – ১৯৯৬) শেখ জাদ আল হক এবং ডক...